কলকাতা, ৩০ জুলাই (হি.স.): অসমে প্রকাশিত হল জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি)-র দ্বিতীয় তথা পূর্নাঙ্গ খসড়া তালিকা নিয়ে সরগরম পশ্চিমবঙ্গ | খসড়ায় ২ কোটি ৮৯ লক্ষ ৮৩ হাজার ৬৭৭ নাগরিককে বৈধ হওয়ার বিপরীতে ৪০ লক্ষ ৭ হাজার ৭০৮ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়নি। যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় | এদিন বিষয়টি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় নিন্দাপ্রস্তাব আনার দাবি করেন বিরোধীরা | যদিও তাঁদের সেই দাবি খারিজ হয়ে যায় | এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র | এদিন বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু |প্রেস বিবৃতিতে বিমানবাবু জানিয়েছেন, রাজ্য বামফ্রন্ট এই ধরণের বিভাজনের প্রচেষ্টা কখনও মেনে নিতে পারে না। অসম সরকারের অবিলম্বে সর্বদলীয় বৈঠক করে এই স্পর্শকাতর বিষয়ে বাস্তবসম্মত সমাধান করা একান্ত জরুরী। এদিকে, এই ইস্যুতে আজ কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ | আন্যদিকে ভোল বদল করেছেন বলে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবস্থানের সমালোচনা করেন বিজেপি-অন্যতম জাতীয় সম্পাদক রাহুল সিনহা।
সোমবার অসমে প্রকাশিত জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি)দ্বিতীয় তথা পূর্নাঙ্গ খসড়া তালিকা | দশটায় আরজিআই এস শৈলেশ এবং প্রতীক হাজেলা গুয়াহাটির এনআরসি সদর দফতরে সাংবাদিক সম্মেলন করে প্রকাশ করেছেন এনআরসি-র নবায়িত খসড়া।
যে তালিকায় অসমের ২ কোটি ৮৯ লক্ষ ৮৩ হাজার ৬৭৭ নাগরিককে বৈধ বলে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে এনআরসি-তে। বহু প্রতীক্ষিত জাতীয় নাগরিকপঞ্জি নবায়িত পূর্ণাঙ্গ খসড়ায় ২ কোটি ৮৯ লক্ষ ৮৩ হাজার ৬৭৭ নাগরিককে বৈধ হওয়ার বিপরীতে ৪০ লক্ষ ৭ হাজার ৭০৮ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়নি। এনআরসি-র জন্য আবেদন করেছিলেন ৩ কোটি ২৯ লক্ষ ৯১ হাজার ৩৮৫ জন।
অসমে এনআরসি ইসু্যতে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়| আজ নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি প্রশ্ন তোলেন বাঙালিদের জোর করে তাড়ানো হচ্ছে না তো?’ তিনি বলেছেন, ‘১৫ কোম্পানি বাড়তি বাহিনী দিয়ে বুলডোজ করা হবে না তো? সমস্ত যোগাযোগ, ইন্টারনেট বন্ধ। সন্দেহ বাড়ছে। আধার কার্ড আছে, তবু তালিকায় নাম নেই। বৈধ তথ্য থাকা সত্ত্বেও অনেকের নাম ওঠেনি তালিকায়। প্রতিটি রাজ্যেই অন্য রাজ্যের লোক থাকে। মুর্শিদাবাদ, উত্তরবঙ্গের লোকেদের বলা হচ্ছে বাইরের লোক। পশ্চিমবঙ্গের সীমা অসমের লাগোয়া, সেটাই উদ্বেগের। অনেক পরিবার আছে, চার-পাঁচ পুরুষ আছে। তাঁরা ভারত-অসম সরকারের জন্য আজ উদ্বাস্তু। আদালতে কেন্দ্রীয় সরকার এই নিয়ে চুপ ছিল। কেন সংসদে নতুন করে আইন প্রণয়ন হল না? ভোটের দিকে তাকিয়ে এই সব করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেছেন, মনে রাখবেন এরা কিন্তু রোহিঙ্গা নয়| দেশের মধ্যে থেকেই এরা শরনার্থী হয়ে গেলেন|’ মমতা আরও বলেছেন, ‘আধার কার্ড এবং পাসপোর্ট থাকা সত্ত্বেও, খসড়া তালিকায় তাঁদের নাম নেই| পদবির ভিত্তিতে নাম সরিয়ে নেওয়া হয়েছে| সরকার কি জোরপূর্বক উচ্ছেদ করার চেষ্টা করছে? অসমের বাঙালিদের নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলব।’
এদিন বিষয়টি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় নিন্দাপ্রস্তাব আনার দাবি করেন বিরোধীরা | যদিও তাঁদের সেই দাবি খারিজ হয়ে যায় | এদিন নবান্ন-তে মুখ্যমন্ত্রী এনআরসি নিয়ে কড়া সমালোচনা করেন। এর ঠিক পরেই বিধানসভায় সিপিএম এবং কংগ্রেস— এই দু’দলের নেতারা বিষয়টি নিয়ে অধিবেশনে আলোচনার দাবি জানান।
সিপিএমের পরিষদীয় নেতা সুজন চক্রবর্তী এ দিন অধিবেশনে বলেন, “অসমের হতদরিদ্র মানুষগুলির ভয়ঙ্কর বিপদ। ১৯৭১-এর আগে থেকে ওঁদের যাঁরা ওখানে আছেন, তার প্রমাণ করবেন কীভাবে? হাউসে কাল আলোচনা হওয়া উচিত বিষয়টা নিয়ে।” অধ্যক্ষ বলেন, “কাল অধিবেশনে অনেকগুলি বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। সময় পাওয়া যাবে না।” সুজনবাবু উত্তেজিত হয়ে বলেন, “বিজেপি তো পাগলামি করছে| বাঙলা ও বাঙালির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে কেন্দ্র।”
এর জের ধরে বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান বলেন, আমাদের উচিত সর্বদলীয় সিদ্ধান্ত নিয়ে নিন্দা প্রকাশ করা। এখনও পর্যন্ত যা খবর পেয়েছি, ৪০ লক্ষ বাঙালি সঙ্কটে। যে সব নথি তাদের কাছে চাওয়া হচ্ছে, তা ওদের কাছে নেই। এমন বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে যাতে সব টুকরো টুকরো হয়ে যাবে।একটা ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র চলছে। আমাদের উচিত আলোচনা করে একটা সিদ্ধান্তে আসা।
এর প্রেক্ষিতে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বলেন, “অত্যন্ত গম্ভীর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে প্রতিবেশী রাজ্যে। এর জন্য সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হবে পশ্চিমবঙ্গের। ওঁদের মানবাধিকার লঙ্ঘিত হবে। ভারতীয় হয়েও এ দেশে থাকতে পারবেন না। রোহিঙ্গা সমস্যা ছিল বার্মার। আর এখন অসম ও কেন্দ্রীয় সরকার সমস্যা তৈরি করছেন এখানে। সকাল থেকে সংসদে আমাদের প্রতিনিধিরা এ নিয়ে সরব হয়েছেন।”
হাকিম বলেন, বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিবৃতি দিয়েছেন। সরকারি কর্মীদের নামও বাদ গিয়েছে নাগরিকের বৈধ তালিকা থেকে। কেবল বাঙালি নয়, অন্য প্রদেশের লোকের নামও বাদ গিয়েছে তালিকা থেকে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নবান্নে এ নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন। তিনি দরকারে ওঁদের পাশে যাবেন। উদ্যোগটাকে স্বাগত জানিয়ে বলছি, উনি তো বিষয়টা দেখছেন। অধিবেশনে আর কিছু দরকার নেই। বিজেপি চিরকালই এ রকম করে।
অধিবেশনে আলোচনায় ফিরহাদ হাকিম সম্মতি না দেওয়ায় বিরোধী পক্ষ থেকে আপত্তি জানানো হতে থাকে। প্রাক্তন মন্ত্রী তথা প্রবীণ আরএসপি নেতা এ নিয়ে বক্তব্য রাখতে চান। কিন্তু অধ্যক্ষ তাঁকে কিছু বলার অনুমতি না দিয়ে পরবর্তী নির্ধারিত বিষয়ে আলোচনা শুরু করে দেন।
এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র | সূর্যকান্ত মিশ্র জানিয়েছেন, অসমে ঐতিহাসিক কারণেই বহু ভাষাভাষী, জাতি-ধর্মের মানুষ বসবাস করেন। তাঁদের সমস্ত অধিকার ও ঐক্য সুরক্ষিত থাকা প্রয়োজন। অসমের প্রকৃত নাগরিকদের নাগরিকত্ব অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা দূর করার জন্য এখনও পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকার কোনও কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়নি। সূর্যবাবুর বক্তব্য, এই ধরনের ধর্মীয় বিভাজন ঘটানোর চেষ্টা কোনোমতেই মেনে নেওয়া যায় না। ধর্ম, ভাষা ও জাতি নিয়ে বিভেদের যে উসকানিমূলক চেষ্টা বিজেপি–আরএসএস করে চলেছে তা দেশের ঐক্য ও অখন্ডতার পক্ষে বিপজ্জনক। আমরা দৃঢ়ভাবে মনে করি, তালিকায় বাদ যাওয়া প্রকৃত নাগরিকদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে যাবতীয় অস্পষ্টতা দূর করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে এখনই কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে। নাগরিকত্বের বিষয়টি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত আসামে বসবাসকারী কোনও ব্যক্তির নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারে হস্তক্ষেপ করা চলবে না বলেও এদিন দাবি করেন সূর্যকান্ত মিশ্র ।
এদিন বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু |প্রেস বিবৃতিতে বিমানবাবু জানিয়েছেন, রাজ্য বামফ্রন্ট এই ধরণের বিভাজনের প্রচেষ্টা কখনও মেনে নিতে পারে না। অসম সরকারের অবিলম্বে সর্বদলীয় বৈঠক করে এই স্পর্শকাতর বিষয়ে বাস্তবসম্মত সমাধান করা একান্ত জরুরী। বিমানবাবুর এদিন এও বলেন, এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের কাছে কিছু কথা বলেছেন, যা এই সমস্যা সমাধানে যথেষ্ট নয়, বরং বিভ্রান্তিকর। বিধানসভার অধিবেশন চলছে। তাই বিধানসভায় সর্বদলীয় সভা করে এই ধরণের স্পর্শকাতর বিষয় সম্পর্কে নির্দিষ্ট বক্তব্য পেশ করার দাবি জানাচ্ছে রাজ্য বামফ্রন্ট।
এদিকে আজ এবিষয়ে রাজ্যের শাসক দল ও সিপিএম-কংগ্রেসকে একযোগে আক্রমণ করেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। অসমে প্রকাশিত জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি)-র পূর্নাঙ্গ খসড়া নিয়ে রাজ্যের অন্য রাজনৈতিক দলগুলিকে তুলোধোনা করে হুঁশিয়ারি দিয়ে সোমবার তিনি বলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে এ রাজ্য থেকেও বিদেশিদের তাড়ানো হবে। দিলীপ ঘোষের বক্তব্য, এই তালিকা হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে। আজ নতুন নয়, কংগ্রেস আমলেই শুরু হয়েছে এই কাজ। বিজেপি যা করেছে, আদালতের নির্দেশেই করেছে। শুনে রাখুন, অনুপ্রবেশকারীদের আমরাও ছেড়ে কথা বলব না। রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যারা কাজ করবে, আমরা ক্ষমতায় এলে তাদের প্রত্যেককে তাড়াব।
সিপিএম-কংগ্রেসের আপত্তি-অভিযোগ প্রসঙ্গে দিলীপবাবু প্রশ্ন করেন, “ওঁরা কী বলবেন? ওঁদের পার্টি তো কার্যত অস্তিত্বহীন। জেনে রাখুন, যাঁরা চামচাবাজি করবেন, তাঁদেরও তাড়াব।” তৃণমূল কংগ্রেসের নাম না করে বিজেপি-রাজ্য সভাপতির পাল্টা অভিযোগ, রোহিঙ্গাদের যারা ডেকে নিয়ে আসছে বাংলায় তাদের ক্ষমা করা যায়? কাশ্মীরে যখন সাড়ে তিন লক্ষ হিন্দু তাড়ানো হল, তখন সব ছিল কোথায়? প্রতিবাদ করেছিলেন তখন? যাঁরা বিদেশীদের আশ্রয় দেওয়ার চেষ্টা করছেন, তাঁদের ক্ষমা করা যায় না।
আন্যদিকে এদিন এনআরসি নিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থানের সমালোচনা করেন বিজেপি-অন্যতম জাতীয় সম্পাদক রাহুল সিনহা| তিনি দাবি করেন ভোল বদল করছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী | মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থানের সমালোচনা করে সোমবার রাহুলবাবু সোমবার ‘হিন্দুস্থান সমাচার’-কে বলেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে অসমে এনআরসি-র কাজ হচ্ছে। এর মধ্যে বিজেপি-র বিরুদ্ধে লোক ক্ষ্যাপানোর যুক্তি কোথায়? আসলে রাজ্যে উন্নয়নের কাজ স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে। তাই জাত-ভাষার বিভেদের রাজনীতির মাধ্যমে পরিত্রাণের পথ খুঁজছেন। সাম্প্রদায়িক ফায়দা তোলার এই চেষ্টায় তাঁর লাভ হবে না। কিন্তু লক্ষ্যটা ভয়াবহ। ২০০৫ সালে সংসদের প্রসঙ্গ তুলে এদিন রাহুলবাবু বলেন, মমতার সেদিনের ভাবনার সঙ্গে আজকের ভাবনার বিস্তর ফারাক। তাতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। কারণ, উনি সব সময়ে তখনকার ফায়দাটা যে কোনও মূল্যে লুটতে চান।
উল্লেখ্য, ২০০৫ সালে ইউপিএ আমলে কেন্দ্রে তখন প্রথম ইউপিএ সরকার ক্ষমতায় । মনমোহন সিং পরিচালিত ওই সরকারের উপরে সমর্থন রয়েছে বামেদের। স্পিকার সোমনাথ চট্টোপাধ্যায় | সেই সময় তৃণমূলের মাত্র এক সাংসদ হিসেবে লোকসভায় বাংলাদেশ থেকে আসা মানুষদের অনুপ্রবেশের বিরোধিতা করেছিলেন রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ স্পিকার সোমনাথ চট্টোপাধ্যায় সেদিন লোকসভায় উপস্থিত ছিলেন না ডেপুটি স্পিকার চরণজিত সিং অটওয়াল খারিজ করে দিয়েছিলেন তৃণমূল সাংসদের প্রস্তাব। ওই ঘটনায় ক্ষুব্ধ মমতা একগুচ্ছ নথি সম্বলিত কাগজ ডেপুটি স্পিকারকে উদ্দেশ্য করে ছুঁড়ে দিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, আইনসভায় তাঁকে কথা বলতে না দেওয়ার অভিযোগ তুলে পদত্যাগ পত্রও জমা দিয়েছিলেন। মমতার দাবি ছিল, বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশ পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম একটা বড় সমস্যা। এই অনুপ্রবেশকারীরাই সিপিএম তথা বামেদের ভোটব্যাংক৷ যদিও শেষমেশ তৃণমূল সাংসদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেননি স্পিকার সোমনাথবাবু। তবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল দেশ জুড়ে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলেও লোকসভার মধ্যে ওই ধরনের আচরণের জন্য সমালোচিত হতে হয়েছিল মমতাকে। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেদিনের অবস্থানের সঙ্গে আজ আর কোনও মিল নেই | আজ তালিকায় ঠাঁই না পাওয়া সকলের জন্যই উদ্বিগ্ন !-হিন্দুস্থান সমাচার /এসকেডি/ রাকেশ / নবেন্দু / অশোক/ কাকলি
কটামণিতে অ্যাল্টো-অটো রিকশো মুখোমুখি, শিশু-সহ আহত পাঁচ
পাথারকান্দি (অসম), ৩০ জুলাই (হি.স.) : করিমগঞ্জ জেলার পাথারকান্দি মহকুমার বাজারিছড়া থানা এলাকার কটামণিতে যাত্রীবাহী অ্যাল্টো কার এবং অটো রিকশোর মুখোমুখি সংঘর্ষে এক শিশু-সহ পাঁচ যাত্রী ঘায়েল হয়েছেন। তাদের সবাই গুরতর আহত বলে জানা গেছে। আহতদের নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে ভরতি করা হয়েছে। আহতদের বাজারিছড়া এলাকার কড়িখাই গ্রামের ওয়ানমন ধার (৩১), কটামণি ইছারপার গ্রামের জিয়া উদ্দিন (৩৫), সাইব উদ্দিন (৩১), জয়না বেগম (৩৪) এবং তাঁর চার বছরের ছেলে জহিদুর রহমান। তাদের সবার মাথায়, হাতে, বুকে ও পায়ে আঘাত লেগেছে বলে জানা গেছে।
বাজারিছড়া পুলিশ জানিয়েছে, আজ সোমবার বেলা প্রায় একটা নাগাদ লোয়াইরপোয়া থেকে কটামণির সড়কে তেজপুর এলাকায় অ্যাল্টো ও অটো রিকশোর মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। দুর্ঘটনাগ্রস্ত এমএল ০৭ ৪৮৯২ নম্বরের অ্যাল্টোটি লোয়াইরপোয়ার দিকে আসছিল এবং বিপরীত দিকে কটামণিগামী ছিল এএস ১১ ই ০৩৪৬ নম্বরের অটো রিকশোটি। সংঘর্ষের ফলে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে উলটে পড়ে। স্থানিয় জনগণ ছুটে গিয়ে আহতদের গাড়ি থেকে উদ্ধার করেন।
ঘটনার খবর পেয়েও পুলিশ আসতে বিলম্ব করছে দেখে উপস্থিত জনতা উত্তেজিত হয়ে উঠেন। উত্তেজিত জনতা দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়ি দুটিতে ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট রাস্তা অবরোধ করে দেন। এ ধরনের খবর পেয়ে কটামণির পুলিশ ওয়াচপোস্টের ইনচার্জ তাঁর বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করে তড়িঘড়ি অহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য বাজারিছড়া হাসপাতালে পাঠান। আহতরা বিপণ্মুক্ত বলে হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে।
দুর্ঘটনাগ্রস্ত দুটি বাহনকে তুলে পুলিশ ওয়াচপোস্টে নিয়ে যান ইনচার্জ। এদিকে দুর্ঘটনাগ্রস্ত দুই গাড়ির চালক গা ঢাকা দিয়েছে বলে জানা গেছে।