নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৬ জুলাই৷৷ নির্বাচনী ইস্তাহার বাস্তবায়নে এবার উদ্যোগী হয়েছে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার৷ জনজাতিদের উন্নয়নে একটি

কমিটি গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার৷ কিন্তু কমিটি কি সব বিষয়ে সুপারিশ করবে তা জানাতে রাজ্য সরকারের মতামত চেয়ে পাঠানো হয়েছে৷ সেই মতো রাজ্য সরকার সাতদফা সুপারিশ রাজ্য মন্ত্রিসভা বৈঠকে বৃহস্পতিবার অনুমোদন দিয়েছে৷
আইন ও শিক্ষা দপ্তরের মন্ত্রী রতনলাল নাথ এদিন মহাকরণে সাংবাদিক সম্মেলনে জানান, বর্তমান শাসকদল নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল জনজাতিদের সোশাল, ইকোনমিক, কালচারাল ও লিঙ্গুইস্টিক উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার একটি কমিটি গঠন করবে৷ সরকার গঠনের চারমাস পর কেন্দ্রীয় সরকার এ ব্যাপারে রাজ্য সরকারের কাছে থেকে জানতে চেয়েছে এই কমিটি কোন কোন বিষয়ের উপর মতামত দেবে৷ সেই মতো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের পক্ষ থেকে রাজ্যের মতামত চেয়ে পাঠানোর পর বর্তমান সরকার বিষয়টি উপজাতি কল্যাণ দপ্তরের মতামত চেয়ে পাঠাবে৷ যথারীতি উপজাতি কল্যাণ দপ্তরের রাজ্য সরকার কাছে সাতদফার একটি সুপারিশ তৈরি করে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে জমা দেয়৷ মুখ্যমন্ত্রী এদিন সুপারিশগুলি রাজ্য মন্ত্রিসভার সামনে উপস্থাপন করেন৷
মন্ত্রী রতনলাল নাথ জানান, যে সাতটি বিষয়ের উপর এদিন মন্ত্রিসভা সুপারিশ চেয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে সেগুলি হলো অর্থনৈতিক, ভাষাগত, সাংসৃকতিক, ভূমির অধিকার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, এডিসিকে শক্তিশালী করে তোলা৷ এ ব্যাপারে বিস্তারিত ব্যাখা করতে গিয়ে মন্ত্রী নাথ জানান, রাজ্যের জনজাতিরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দিক থেকে পিছিয়ে রয়েছেন৷ সেদিকে বিবেচনা করে জনজাতিদের স্থায়ী রোজগারের ব্যবস্থা ও গরিব উপজাতিদের ব্যাপক কর্মসংস্থানের উপর বেশি গুরুত্ব দিতে চাইছেন তাঁরা৷ এ প্রসঙ্গে কমিটির কাছ থেকে মতামত চেয়ে পাঠানো হয়েছে কীভাবে ফরেস্ট পাট্টার সদব্যাবহার করা যায়৷ এছাড়া, তাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য কী ধরণের অর্থিক প্যাকেজ নেওয়া যায় সে ব্যাপারেও সুপারিশ চেয়ে পাঠানো হয়েছে৷ দ্বিতীয়, ককবরক ভাষাকে সংবিধানের অষ্টম তফশিলে অন্তর্ভূক্ত করার বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখতে এবং রাজ্যের অন্যান্য জনজাতিদের ভাষার উন্নয়নে কীভাবে সম্ভব সে বিষয়ে সুপারিশ চেয়ে পাঠানো৷
রাজ্যের জনজাতিদের সাংসৃকতিক ঐতিহ্যকে সুরক্ষিত রাখতে এবং এই সংসৃকতির উন্নয়নের জন্য বিশেষ করে রাজ্যের বাইরে তা তুলে ধরতে কী ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব সে ব্যাপারে সুপারিশ চেয়েছে রাজ্য মন্ত্রিসভা৷ জনজাতিদের উচ্ছেদকৃত ভূমি পুনরূদ্ধার করা এবং কৃষি, উদ্যান, জুমচাষ বন ও পশুপালনকে কেন্দ্র করে কীভাবে ভূমির সদ্ব্যব্যবহার করা সম্ভব সে ব্যাপারে সুপারিশ চেয়েছে রাজ্য সরকার৷ জনজাতি এলাকায় প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা এবং বৃত্তিমূলক শিক্ষার মানোন্নয়ন কী কী ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে, যা জানজাতিভূক্তদের স্থায়ী উন্নয়নে সহায়ক হবে সে ব্যপারেও বিশেষজ্ঞ কমিটির মতামত জানতে চাওয়া হয়েছে৷ সে সঙ্গে জনজাতি এলাকার অধিবাসীদের স্বাস্থ্য পরিষেবা ও পরিকাঠামোর মানোন্নয়নের জন্য কী ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে তা জানতে চাওয়া হয়েছে৷ জনজাতিদের আর্থ-সামাজিক, সাংসৃকতিক, রাজনৈতিক পরিকাঠামোগত ও অর্থনৈতিক দিক থেকে শক্তিশালী করে তোলা সম্ভব হয় সে ব্যাপারেও সুপারিশ চেয়েছে বর্তমান রাজ্য সরকার৷ আইনমন্ত্রী রতন লাল নাথ বলেন, এ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সাথে কেন্দ্রীয় স্বারাষ্ট্রমন্ত্রীর একাধিকবার আলোচনা হয়েছে৷ এবার মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর তা পাঠিয়ে দেওয়া হবে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে৷ কেন্দ্র এই বিষয়গুলিকে সামনে রেখে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করবে৷