কথার নাম লতা

সুবোধ ঘোষ

মিড-ডে-মিল, অতি চিরপরিচিত একটি নাম৷ রাজ্যের অশিক্ষিত ব্যক্তিরাও এ নামের অর্থ বোঝে৷ তৎকালীন উপা সরকার (কংগ্রেস জোট) দেশজুড়ে এমন প্রকল্প চালু করে৷ উদ্দেশ্য ছিল একটা৷ রাজ্যের সিংহভাগ গরীব পরিবারের কচিকাঁচা শিশুদেরকে বিদ্যালয়মুখী করে তোলা৷ সেই সাথে তাদেরকে পুষ্টি প্রকল্পেও অন্তর্ভুক্ত করা৷ প্রতি সপ্তাহের কোন্ কোন্ দিন কি ধরনের খাবার দেয়া হবে তারও নির্দেশ রয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার থেকে৷ সেই সাথে বিজ্ঞানসম্মত ভাবে মিড-ডে-মিল রান্না এবং পরিবেশনের ক্ষেত্রেও রয়েছে নির্দিষ্ট নির্দেশ৷ প্রথমে এ মিড- ডে-মিল রাজ্যজুড়ে প্রাথমিক স্তরে চালু করা হয়৷

প্রশ্ণ হল- এ মিড-ডে-মিল প্রকল্প সুষ্ঠুভাবে চলছে কী না? এ মিড-ডে-মিল নিয়ে রাজ্যজুড়ে যে দুর্নীতি চলছে তা অজানা নয়৷ সুকলে আসা ছাত্রছাত্রীদের সংখ্যার উপর এ মিল রান্না করার কথা৷ কিন্তু, মিল রান্নার ক্ষেত্রে চলছে বেসুমার দুর্নীতি৷ কচিকাঁচাদের হাজিরা দেখে মিড- ডে- মিল রান্না হয় না৷ খাতা কলমে এ সংখ্যা বেশি দেখানো হয়৷ অনেক ক্ষেত্রে মিড-ডে-মিলে পুষ্টিকর খাবার দেবার নির্দেশ থাকলেও তা উপেক্ষিত হচ্ছে৷ অথচ হিসাবের খাতায় তা ঠিকই লেখা হচ্ছে৷ এত গেল মিড-ডে-মিল নিয়ে দুর্নীতির খন্ডচিত্র৷ এছাড়াও শুরুতে যে দুর্নীতি হয়েছে তা কিন্তু সাধারণ মানুষ জানে না৷

কেন্দ্রীয় সরকার মিড-ডে-মিল রান্নার জন্য রান্নাঘর এবং খাবার জন্য ডাইনিং হল তথা খাবার ঘর নির্মাণের জন্যও অর্থ বরাদ্দ করে৷ কিন্তু, সিংহভাগ সুকলে রান্নার ব্যবস্থা করা হয় সুকলের কোনও পরিত্যক্ত ঘরে৷ আর খাবারের ব্যবস্থা হচ্ছে সুকলের বারান্দায় কিংবা খোলা মাঠে৷ নেই পানীয় জলের ব্যবস্থা৷ রয়েছে রান্নার জলেরও আকাল৷ কিন্তু, সব পরিকাঠামো সুষ্ঠুভাবে গড়ে তোলার জন্য কেন্দ্র থেকে অর্থ বরাদ্দ করা হয়৷ কিন্তু, সেই অর্থ নেতাদের উদরে চলে যায়৷ বলা যেতে পারে কচিকাঁচাদের খাবারে থাবা বসাচ্ছে স্থানীয় সিকি আধুলি নেতারা৷ তাই অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়- একদিকে মিড-ডে-মিল খাচ্ছে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব মানব সন্তানরা আর অন্যদিকে খাচ্ছে নিকৃষ্ট জীব সারমেয়রা৷ হয়তোবা এভাবে বামফ্রন্ট সরকার উৎকৃষ্ট আর নিকৃষ্টদের মেল বন্ধন ঘটালেন৷ আর এ মেল বন্ধনের সেতু হল মিড-ডে-মিল৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *