পৃথক তিপ্রাল্যান্ড নয়, রাজ্য পরিষদ চাইছে বিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকার

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৮ আগষ্ট৷৷ এক দিনের ত্রিপুরা সফরে এসে উপজাতি এলাকা স্বশাসিত জেলা পরিষদ নিয়ে পৃথক রাজ্যের দাবী নাকচ করে দিলেন কেন্দ্রীয় উপজাতি কল্যাণ মন্ত্রী৷ তবে এই ভূ-খণ্ডকে নিয়ে রাজ্য পরিষদ ঘঠনের বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের ইতিবাচক মনোভাবের কথা জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী৷ সোমবার একদিনের রাজ্য সফরচ শেষ্যে আগরতলা ত্যাগের আগে এক সাংবাদিক সম্মেলনে কেন্দ্রীয় উপজাতি কল্যাণ মন্ত্রী জুয়েল ওরাম বলেন, ত্রিপুরাকে ভাগ করার দাবী রাজ্য বিজেপি আগেই প্রত্যাখ্যান করেছে৷ বিজেপির সর্বভারতীয় নেতৃত্বও এই অবস্থানকে সঠিক বলে জানিয়ে দিয়েছে৷ কেন্দ্রীয় সরকারও রাজ্য ভাগ করার দাবিকে অযৌক্তিক বলে মনে করে৷ ফলে স্বশাসিত জেলা পরিষদ নিয়ে পৃথক রাজ্য গঠনের দাবী বাস্তবায়ন হবে না৷ আর ত্রিপুরার মতো রাজ্যের এই দাবী অযৌক্তিক৷ তবে তিনি বলেন, ত্রিপুরার স্বশাসিত জেলা পরিষদের ক্ষমতা খুবই সীমিত৷ অসমের জেলা পরিষদ গুলিকে যেভাবে সাজানো হয়েছে, কিংবা যে ধরনের অধিকার দেওয়া হয়েছে তা এরাজ্যে নেই৷ ত্রিপুরার এডিসি এলাকা নিযে রাজ্য পরিষদ গঠনের দাবী তুলেছে বিজেপি৷ কেন্দ্রীয় সরকার এই দাবিকে সমর্থন করে৷ ত্রিপুরা সরাকর রাজ্য পরিষদের দাবী অনুমোদন করে পাঠালে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সভায় বিষয়টি আলোচিত হবে এবং ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া হবে৷ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আজ রাজ্যের ১৯টি জনজাতি গোষ্ঠির প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং রাজ্যের সামগ্রিক অবস্থা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেন৷
এদিকে, ত্রিপুরার উপজাতি কল্যাণে পাঠানো কেন্দ্রীয় অর্থের অপব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন কেন্দ্রীয় উপজাতি কল্যাণ মন্ত্রী৷ একেই সঙ্গে বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্পে পাঠানো কেন্দ্রীয় অর্থ ব্যয়ের হিসাব না দেখানোর অভিযোগও করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী৷ আগরতলায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে কেন্দ্রীয় উপজাতি কল্যাণ মন্ত্রী জুয়েল ওরাম উল্লেখ করেন, তিনি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে রাজ্যে এসেছেন৷ ২০২২ সালের মধ্যে নতুন ভারত গড়ার লক্ষ্যে কি করা প্রয়োজন তা নিয়ে বিভিন্ন জনজাতি গোষ্ঠীর সঙ্গে আলোচনা করাই এই সফরের মূল উদ্দেশ্য৷ তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার প্রতিবছর বিভিন্ন খাতে প্রচুর পরিমান অর্থ দিচ্ছে রাজ্য সরকারকে৷ চলতি আর্ধিক বছরের বাজেট আগেই অনুমোদিত হয়ে যাওয়ায় এঢহক ভিত্তিতে ৫ কোটি ২০ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছে৷ কিন্তু এই অর্থের ইউটিলাইজেশান সার্টিফিকেট জমা করেনি রাজ্য সরকার৷ তিনি আরও বলেন, রাজ্যের ধলাই জেলাতে তিনটি একলব্য বিদ্যালয়ের জন্য ৪৮ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে৷ এছাড়াও বিভিন্ন বিদ্যালয়ের মান উন্নয়ন আবাসিক বিদ্যালয়ের স্থাপনের জন্যও টাকা দেওয়া হয়েছে৷ কিন্তু কেন্দ্রীয় উপজাতি কল্যাণ মন্ত্রক এই অর্থ ব্যয়ের কোন হিসাব এখনো পায়নি৷ তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা এবং অন্তোদয় যোজনার মত কেন্দ্রীয় প্রকল্প গুলি নিয়ে এরাজ্যে প্রচণ্ড দলবাজি হয়৷ রাজ্যের শাসক দল সুবিধা ভোগীদের তালিকা তৈরি করও৷ আর সেখানে যোগ্য প্রাপকরা বঞ্চিত হয়৷ তিনি আরও জানান, রাজ্যের ১৯টি জনজাতি গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে আজ তিনি কথা বলছেন কিন্তু কেউই রাজ্য সরকারের কার্যকলাপের সন্তুষ্ট নন৷