নিজস্ব প্রতিনিধি, চুড়াইবাড়ি, ২৪ আগস্ট ৷৷ রাজ্যের মেয়ে পাশ্ববর্তী রাজ্য অসমে যৌতুকের বলি হয়েছেন৷ গলায় গামছা লাগিয়ে ফাঁস লাগিয়ে হত্যা করার পর মৃত্যু নিশ্চিত করতে নববধূর শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয় স্বামীর পরিবারের লোকজন৷ এই লোমহর্ষক হত্যাকান্ড সংঘঠিত হয়েছে অসমের করিমগঞ্জ জেলার গজারিছড়া থানাধীন অসম-ত্রিপুরা সীমান্তের কাছালতলির কূর্তী গ্রামে৷ ঘটনার খবর পেয়ে অসমের বাজরিছড়া থানার পুলিশ ও কাঠানতলি পুলিশ ওয়াচপোষ্টের পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃতদেহ উদ্ধার করে৷ এই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত সন্দেহে নববধূর শাশুড়ী, দুই ননদ ও স্থানীয় এক ব্যক্তিকে পুলিশ আটক করে থানাতে নিয়ে যায়৷ বর্তমানে অসম আর ত্রিপুরার সীমান্তে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে৷ এদিকে মৃত নববধূর পিতা ও তার পরিবারের সদস্যরা বাজারিছড়া থানাতে পরিকল্পিত হত্যার মামলা দায়ের করেছেন৷
গত ৫ মাস পূর্বে সম্পূর্ণ ইসলামিক রীতি মেনে করিমগঞ্জ জেলার কাঠালতলি গ্রামের কূর্তীর আব্দুল রবের সাথে বিয়ে হয় ত্রিপুরার উত্তর জেলার চুরাইবাড়ি থানাধিন বাঘন গ্রাম পঞ্চায়েতের ৩নং ওয়ার্ডের মাকসদ আলীর মেয়ে সাহানারা বেগমের (১৯)৷ সাহানারার স্বামী কর্মসূত্রে আগরতলাতে থাকেন৷ কিন্তু আজ কাকভোরে তিনি সাহানারার বাপের বাড়িতে সাহানারার মৃত্যুর খবর দেন৷ খবর দেওয়া হয় অসমের বাজারিছড়া থানাকেও৷ পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সাহানারা বেগমের (১৯) মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য করিমগঞ্জ অসামরিক হাসপাতালে পাঠিয়েছে৷ এই ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে৷
এদিকে, মৃতা সাহানারার পিতার অভিযোগ তার মেয়েকে গামছা দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে হত্যার পর কেরোসিন দিয়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে যদি তার মেয়ে আত্মহত্যা করত তাহলে ঘর বা ঘরের অন্যান্য সামগ্রী পুড়ে যেত৷ কিন্তু কোন কিছুই পুড়েনি৷ আরো অভিযোগ, মৃতার স্বামীর পরিবারের লোকজন এই লোমহর্ষক ঘটনা সংঘঠিত করে এলাকাবাসীকে দিয়ে তাদেরকে খবর জানিয়েছে৷
অপরদিকে বাজার ছড়া থানার ওসি জানিয়েছেন, ঐ গৃহবধূকে হত্যার আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিলেও ময়না তদন্তে প্রকৃত সত্য উদঘাটন হবে৷ তবে, প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে, তাকে খুনই করা হয়েছে৷ পুলিশ সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছে৷ এই ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে চারজনকে আটক করা হয়েছে৷ তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে৷ এই ঘটনায় ত্রিপুরা-অসম সীমান্তে শোকের ছায়া নেমে এসেছে৷
2017-08-25

