যোরহাট (অসম), ২৬ ডিসেম্বর, (হি.স.) : যোরহাট শহরের পুরনো বালিবাটে অবস্থিত মসজিদে গো-হত্যার অভিযোগ বিজেপির । আবার ও ওই মসজিদে ‘অনধিকার প্রবেশ’ করে ইসলাম ধর্মানুভূতিতে আঘাত আনার পাল্টা অভিযোগ বিজেপি-র বিরুদ্ধে । স্থানীয় নেতা অঙ্কুর গুপ্তকে গ্রেফতারের দাবি উঠেছে।যা নিয়ে সরগরম যোরহাট জেলা ।
সারা অসম মুসলিম ছাত্র সংস্থা (আমসু)-র যোরহাট জেলা কমিটি এবং পুরনো বালিবাট মসজিদের যুব সংঘ-এর পক্ষ থেকে ছয় নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার বিজেপি-র অঙ্কুর গুপ্তের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।তাদের অভিযোগ, মসজিদে অনধিকার প্রবেশ করে কেবল মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের আবেগ-অনুভূতিতে আঘাত হানেননি, এমন গর্হিত কাজের মধ্য দিয়ে সাম্প্রদায়িক হানাহানির ষড়যন্ত্র রচনা করেছেন ওয়ার্ড কমিশনার অঙ্কুর গুপ্ত। তাঁকে গ্রেফতারের দাবিতে যোরহাটে মুসলিম সমাজ সদর থানার সামনে রবিবার রাতে বিক্ষোভ-ধরনা কর্মসূচিও পালন করেছেন।
এদিকে, শনিবার সন্ধ্যায় এই মসজিদে চারটি গো-হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে বিশ্বহিন্দু পরিষদ, বজরং দল ও হিন্দু জাগরণ মঞ্চের তরফে রবিবার সকালের দিকে এক এফআইআর দাখিল করা হয়েছিল যোরহাট সদর থানায়। বিশ্বহিন্দু পরিষদের অন্যতম পদাধিকারী কপিলদেব শাস্ত্রীর এজাহারের ভিত্তিতে পুরনো মসজিদ পরিচালন সমিতির বিরুদ্ধে ২৭৩৭/১৬ নম্বরে ভারতীয় ফৌজদারি দণ্ডবিধির ১৫২ (এ) ধারায় এক মামলা রুজু করেছে পুলিশ।
অভিযোগের ভিত্তিতে গতকাল সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট মসজিদে পুলিশ যায় তদন্ত করতে। কিন্তু মসজিদ থেকে ফিরে সেখানে গো-হত্যা সংক্রান্ত কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানায় পুলিশ। এর কিছুক্ষণ পর ওয়ার্ড কমিশনার অঙ্কুর গুপ্ত মসজিদে গিয়ে ঢুকে পড়ে নিজস্বভাবে গো-হত্যা সংক্রান্ত ঘটনার তদন্ত শুরু করেন। আর এতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন ইসলাম ধর্মাবলম্বী কতিপয় সংগঠন ও ব্যক্তি। তবে একাংশ সচেতন নাগরিকের হস্তক্ষেপে তাৎক্ষণিকভাবে কোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা থেকে রক্ষা পায় যোরহাট।
এদিকে, গোটা ঘটনাক্রমকে জড়িয়ে বিশ্বহিন্দু পরিষদ-সহ অন্যান্য সগঠনের পক্ষ থেকে এদিন ফের সংশ্লিষ্ট মসজিদ পরিচালন সমিতির বিরুদ্ধে এজাহার দাখিল করায় পরিস্থিতি নয়া মোড় নিয়েছে।
এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, ইসলাম ধর্মের পবিত্র তিথি ফাতেহাদ্দোয়াজ-দহম উপলক্ষে শনিবার থেকে বহু মানুষের জমায়েত হচ্ছে বালিবাট মসজিদে। এরই মধ্যে এই মসজিদে গো-হত্যা করা হয়েছে বলে থানায় অভিযোগ করলে ক্ষেপে ওঠেন একাংশ ইসলাম ধর্মাবলম্বী। এ-প্রসঙ্গে বালিবাট মসজিদের পরিচালন সমিতির সম্পাদক নুর খুরশেদ হুসেনকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, যোরহাট শহরের ঐতিহ্যমণ্ডিত এই পুরনো বালিবাট মসজিদে পরম্পরাগতভাবে ১৮৩৫ সাল থেকে ইসলামিক পবিত্র তিথি ফাতেহাদ্দোয়াজ-দহম উদযাপিত হয়ে আসছে। প্রায় একশো বিরাশি বছরের ইতিহাসে কোনও দিনই হিন্দু ধর্মের ওপর আঘাত হানার দৃষ্টান্ত নেই। কেবল যোরহাটই নয়, উত্তর থেকে দক্ষিণ অসমের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে হিন্দু-মুসলিম ঐক্য ও সম্প্রীতি সর্বজনবিদিত। এই পরিস্থিতিতে আচমকা বালিবাট মসজিদে গো-হত্যার অভিযোগ ওঠায় তিনি মর্মাহত বলে জানান সম্পাদক নুর খুরশেদ হুসেন।
2016-12-26