নিজস্ব প্রতিনিধি, চড়িলাম, ২৯ নভেম্বর৷৷ প্রেমে ব্যর্থ হয়ে ফাঁসিতে আত্মহত্যা করল এক যুবতী৷ ঘটনাটি ঘটেছে বিশালগড় থানার অধীন অফিসটিলার অন্তর্গত শীতলটিলা এলাকায়৷ নিহতের নাম রায়হান নমঃ (১৯)৷ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে৷
ঘটনার বিবরণ দিয়ে মৃতার বাবা ইন্দ্রজিৎ নমঃ জানিয়েছেন, তাঁর মেয়ে রায়হান সুমন চক্রবর্তী নামে এক যুবকের সঙ্গে ভালবাসার সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে৷ তবে তাদের এই সম্পর্ক বেশীদিন হয়নি৷ তাদের বাড়ির আলাদা ঘর থেকে যখন মোবাইলে কথা বলত তখন বিষয়টি সন্দেহ হয়৷ কিছুদিন পর রায়হান তার বাবা-মাকে প্রণয়ের বিষয়ে সব খুলে বলে৷ মেয়েটির বাবা তখন সুমনকে বুঝানোর চেষ্টা করে৷ জাতপাতের বিষয়টি সামনে এসে এদের এই ভালবাসার সম্পর্কের মাঝে৷ তারপরও ছেলে-মেয়েদের কথা বিবেচনা করে মেয়ের পক্ষ থেকে ছেলের বাড়িতে বিয়ের প্রস্তাব পাঠানো হয়৷ ছেলের পক্ষ থেকেও তা সম্ভব নয় বলে সাফ জানানো হয়৷ ভালবাসার সম্পর্কে ফাটল দেখা দেয়৷ ভালবাসার মানুষকে আর পাওয়া যাবে না এই দুঃখে মঙ্গলবার ফাঁসিতে আত্মহত্যা করে রায়হান নম৷
জানা গিয়েছে, মা- বাবা দুজনেই রেগার কাজের জন্য বাড়ির বাইরে ছিলেন৷ বাড়ি ফিরে দেখেন তারা মেয়ে রায়হান গলায় কাপড় বেধে ফাঁসিতে ঝুলে রয়েছে ঘরের তীরের সাথে৷ চিৎকার চেচামেচি শুরু করলে আশেপাশের লোকজন ছুটে যায়৷ খবর দেওয়া হয় বিশালগড় থানায়৷ পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঝুলন্ত মৃতদেহ নামিয়ে ময়না তদন্তের জন্য হাসপাতালে নিয়ে যায়৷ এদিকে আত্মঘাতী যুবতীর মৃতদেহের পাশে একটি সুইসাইড নোট মিলেছে৷ নোটে লেখা রয়েছে, ‘আই লাভ সুমন, আমার স্বপ্ণ শেষ৷ তার জন্য আমি চিরবিদায় নিচ্ছি৷ আর বাবা মা’র সম্মান নষ্ট করতে চাই না৷’ জানা গিয়েছে মেয়েটি যে ছেলের সাথে ভালবাসায় জড়িয়ে পড়েছিল তার বাড়ি চেলিখলার গজারিয়া এলাকায়৷ সুমন চক্রবর্তী ডাক বিভাগের কর্মী৷ রায়হানের অস্বাভাবিক মৃত্যুতে গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে৷ পুলিশ একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করেছে৷
2016-11-30