বড়জলায় ৮৯ ও খোয়াইয়ে ৯৪ শতাংশ ভোট পড়ল, দুই কেন্দ্রেই শান্তিতে উপনির্বাচন, মডেল বুথে ভোটারদের উৎসাহ

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা/খোয়াই, ১৯ নভেম্বর৷৷ শান্তিপূর্ণভাবেই রাজ্যে দুটি বিধানসভা আসনে উপ-নির্বাচন সম্পন্ন

নবীন প্রবীণ ভোটাররা লাইন ধরে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন৷ খোয়াই বিধানসভা কেন্দ্রের একটি বুথে তোলা ছবি নিজস্ব৷
নবীন প্রবীণ ভোটাররা লাইন ধরে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন৷ খোয়াই বিধানসভা কেন্দ্রের একটি বুথে তোলা ছবি নিজস্ব৷

হয়েছে৷ একপ্রকার উৎসবের আমেজেই মতদাতারা ভোট দিয়েছেন৷ বড়জলা কেন্দ্রে ৮৯ শতাংশ এবং খোয়াই কেন্দ্রে ৯৪ শতাংশ ভোট পড়েছে৷ শনিবার সকাল ৭টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়৷ কিন্তু বিকাল চারটা পর্যন্ত ভোটগ্রহণের অন্তিম সময় থাকলেও কিছু কিছু বুথে নির্দিষ্ট সময় অতিক্রান্ত হয়ে যাওয়ার পরও ভোটারদের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে৷ এদিকে, ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পর বড়জলা কেন্দ্রে ৩৫ নম্বর বুথে ইভিএমে ত্রুটি ধরা পড়ে৷ প্রথম ভোটার ভোট দিতে গিয়েই সেটি নজরে আসে৷ সঙ্গে সঙ্গে ইভিএম বদল করে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া চালু করা হয়৷ এদিন রাতের মধ্যেই বড়জলা এবং খোয়াই আসনের সমস্ত ইভিএম এনে জমা দিয়েছেন ভোটকর্মীরা৷ বড়জলা আসনের ইভিএমগুলি উমাকান্ত সুকলে স্ট্রং রুমে এবং খোয়াই আসনের ইভিএমগুলি খোয়াই মহকুমা শাসকের অফিসে স্ট্রং রুমে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে রাখা আছে৷ আগামী ২২ নভেম্বর দুটি আসনের ভোট গণনা হবে৷
এদিকে, ভোট দিতে গিয়ে ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে অসুস্থ হয়ে পড়েন এক ষাঠোর্দ্ধ বয়স্ক ভোটার৷ তাঁর নাম রমাপ্রসাদ দাস৷ তিনি বড়জলা বিধানসভা আসনের ৪৩ নম্বর বুথে ভোট দিতে এসে অসুস্থ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন৷ জানা গেছে, ভোট দেওয়ার জন্য যথারীতি তিনি লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন৷ ভোটকক্ষের সামনে যেতেই তিনি মাথা ঘুরে মাটিতে পড়ে যান৷ সঙ্গে সঙ্গে সেখানে উপস্থিত নিরাপত্তা কর্মীরা তাঁকে বাইরে এনে তাঁর মাথায় জল ঢালেন৷ তাতে প্রায় ৩০ মিনিট পর তিনি সুস্থ বোধ করলে ভোট দিয়ে বাড়ি যান৷
[vsw id=”mr6ef1SEY1E” source=”youtube” width=”425″ height=”344″ autoplay=”yes”]এদিন উপ-নির্বাচনকে ঘিরে বড়জলা এবং খোয়াইয়ে কেন্দ্রে ভোটাররা উৎসবের মেজাজেই ছিলেন৷ নির্বাচন কমিশনও আয়োজনে কোন ক্রুটি রাখেনি৷ বিশেষ করে মডেল বুথগুলিতে ভোটারদের বিপুল উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে৷ বড়জলাতে ৩টি এবং খোয়াইতে ২টি মডেল বুথ করেছে নির্বাচন কমিশন৷ সেখানে ভোটারদের সুবিধায় বিরাট আয়োজন রাখা ছিল৷ পানীয় জল, পুরুষ ও মহিলাদের জন্য পৃথক শৌচাগার, ছাউনি ইত্যাদি ভোটারদের ভিষণভাবে আকৃষ্ট করেছে৷ ফলে, দাবি উঠেছে আগামীদিনে নির্বাচনে সারা রাজ্যে সমস্ত বুথে এধরনের আয়োজন করা হউক৷ বড়জলা কেন্দ্রে ৫টি এবং খোয়াই কেন্দ্রে ৮টি বুথে ওয়েবকাস্টিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে৷

শনিবার বড়জলা কেন্দ্রে একটি বুথে উপনির্বাচনে নিরাপত্তা কর্মী ভোটারদের পরিচয়পত্র যাচাই করে দেখছেন৷ নিজস্ব ছবি৷
শনিবার বড়জলা কেন্দ্রে একটি বুথে উপনির্বাচনে নিরাপত্তা কর্মী ভোটারদের পরিচয়পত্র যাচাই করে দেখছেন৷ নিজস্ব ছবি৷

এদিকে, উপনির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি রিগিংয়ের অভিযোগ তুলেছে শাসকদলের বিরুদ্ধে৷ সিপিএম সেই অভিযোগের খন্ডন করে জানিয়েছে, দুটি আসনেই অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট হয়েছে৷ অবশ্য, কংগ্রেস কোন অভিযোগ তুলেনি৷ বরং দাবি করেছে, উপ-নির্বাচনে সিপিএম জিতবে এবং কংগ্রেস দ্বিতীয় স্থান দখল করবে৷ এদিন উপ-নির্বাচন নিয়ে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া শেষে তৃণমূল বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন বলেন, প্রতিবারের মতো এবারও শাসকদল রিগিং করেছে৷ খোয়াইতে যথেচ্ছভাবে ভূয়ো ভোট পড়েছে সিপিএম’র ঝুলিতে৷ এর প্রতিবাদ করায় তৃণমূল নেতার বাড়িতে অগ্ণিসংযোগ করা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন৷ বড়জলাতেও কিছু কিছু বুথে সিপিএম রিগিং করেছে বলে তাঁর দাবি৷ তবে, এসবের পরও খোয়াই এবং বড়জলাতে শাসকদলের ভোট গতবারের তুলনায় প্রচন্ড কমবে বলে সুদীপবাবু নিশ্চিত৷ পাশাপাশি বলেন, মানুষ আজ উপনির্বাচনে পরিবর্তনের পক্ষেই ভোট দিয়েছেন৷
এদিকে, বিজেপি রাজ্য সভাপতি বিপ্লব দেবের দাবি, বড়জলা কেন্দ্রে জয় নিয়ে তাঁরা নিশ্চিন্ত৷ তবে, খোয়াইতে শাসকদলের সাথে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে৷ বিপ্লববাবুর যুক্তি, বড়জলা কেন্দ্রে ২০০০ নতুন ভোটার এই উপনির্বাচনে ভোট দিয়েছেন৷ এই নতুন ভোটারদের ভোট বিজেপির ঝুঁলিতেই গেছে৷ আর গত আট নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নোট বাতিল করার পদক্ষেপে মহিলাদেরও বিরাট অংশ বিজেপি’র প্রতিই আস্থা প্রদর্শন করেছেন৷ তাছাড়া তিনি এও দাবি করেন, এবছর ভোটদানের নমুনা পাল্টেছে৷ গত ১৫ বছরে যা দেখা যায়নি, সেটাই এবছর লক্ষ্য করা গেছে৷ তিনি বলেন, এবছর দিনের প্রথম বেলাতে ৬০-৬৫ শতাংশ ভোট পড়েছে৷ যা আগে কখনো হয়নি৷ বিগত দিনের নির্বাচনগুলিতে দিনের দ্বিতীয়ার্ধে ভোটদানের হার বেড়েছে৷ প্রথমার্ধে খুব বেশি হলে ২০-৩০ শতাংশ ভোট পড়ত৷ সেই অর্থে বিপ্লববাবুর দাবি, বড়জলা কেন্দ্র নিয়ে বিজেপি নিশ্চিন্ত, তবে খোয়াই কেন্দ্র কিছুটা চিন্তায় রেখেছে৷ তবে, সেখানেও জয়ের ব্যাপারে তিনি আশাবাদী৷
এদিকে, সিপিএম রাজ্য সম্পাদক বিজন ধর বরাবরের মতো শান্তিপূর্ণ ভোট হওয়ায় রাজ্য ঐতিহ্য ধরে রাখতে পেরেছে বলে গণদেবতাদের কুর্ণীশ জানিয়েছেন৷ তবে, খোয়াইতে তৃণমূল নেতার বাড়িতে শাসকদলের সমর্থকরা অগ্ণিসংযোগ করেছেন বলে অভিযোগের প্রসঙ্গে তিনি কটাক্ষের সুরে বলেন, এধরনের ঘটনা সংগঠিত করার সিপিএম’র কোন দারকার নেই৷ পাশাপাশি বলেন, রিগিং নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে তা নির্বাচন কমিশনই খতিয়ে দেখবে৷
এদিকে, উপ-নির্বাচন নিয়ে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বীরজিৎ সিনহা সোজাসাপ্ঢা জানিয়ে দেন, দুটি আসনেই সিপিএম জিতবে এবং কংগ্রেস দ্বিতীয় স্থান দখল করবে৷ প্রার্থী নিয়ে এবং প্রচারে কোন ঘাটতি নেই দাবি করলেও বীরজিৎবাবুর সাফ কথা, তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপি’র কারণে কিছুটা ভোট ভাগাভাগি হবে৷ তাই জয় সম্ভব নয়৷ কিন্তু দ্বিতীয় স্থান কংগ্রেস দখল করবেই বলে তিনি জোর গলায় দাবি করেন৷
এদিকে, এডিসি’র ভিলেজ কমিটির দুটি আসনে উপ-নির্বাচন আজ সম্পন্ন হয়েছে৷ সাতচাঁদ আসনে ৯৫০৩ শতাংশ এবং লেফুঙ্গাতে ৮৯৭০ শতাংশ ভোট পড়েছে৷ দুটি আসনেই গণনা হবে ২২ নভেম্বর৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *