বিতর্কীত মুহুরী চর ঘুরে দেখে জট কাটাতে ঢাকা গেলেন বিদেশ মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব

নীহার রঞ্জন সাহা, বিলোনীয়া, ১৭ নভেম্বর৷৷ বিতর্কীত মহুরী চর পরিদর্শন করলেন বিদেশ মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব শ্রীপ্রিয়া

বৃহস্পতিবার নদী পথে বিতর্কীত মুহুরী চর ঘুরে দেখেন বিদেশমন্ত্রকের যুগ্ম সচিব শ্রীপ্রিয়া রঙ্গনাথন৷ নিজস্ব ছবি৷
বৃহস্পতিবার নদী পথে বিতর্কীত মুহুরী চর ঘুরে দেখেন বিদেশমন্ত্রকের যুগ্ম সচিব শ্রীপ্রিয়া রঙ্গনাথন৷ নিজস্ব ছবি৷

রঙ্গনাথন৷ নদীপথে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে তিনি মুহুরী চরের বিতর্কীত অংশ ঘুরে দেখেন৷ এরপর তিনি বিকালে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন৷ আগামীকাল ঢাকায় এবিষয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে৷ তাঁর সাথে বৈঠকে যোগ দিতে গেছেন বিদেশ মন্ত্রকের আন্ডার সেক্রেটারি মিনি দেবী কুমাম, রাজ্যের রাজস্ব দপ্তরের প্রধান সচিব শৈলেশ কুমার সিনহা, রাজস্ব দপ্তরের যুগ্ম সচিব শঙ্কর চক্রবর্তী, ঢাকা স্থিত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রথম সচিব(রাজনৈতিক) নিনাদ সতীশচন্দ্র দেশপান্ডে সহ ছয় জনের প্রতিনিধিদল৷
বৃহস্পতিবার বিজেবি ক্যাম্পে মুহুরী চরের জট নিয়ে বৈঠক করেন বিদেশমন্ত্রকের যুগ্ম সচিব৷ ঐ বৈঠকে বাংলাদেশের ৯ সদস্যক এক প্রতিনিধি দল অংশ নেন৷ অন্যান্যদের মধ্যে ছিলেন দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলা শাসক সি জে জমাতিয়া, অতিরিক্ত জেলা শাসক তমাল মজুমদার, দক্ষিণ ত্রিপুরা পুলিশ সুপার তপন দেববর্মা এবং বিএসএফ ১৬৮ নং ব্যাটেলিয়ানের কোম্পানি কমান্ডেন্ট অশোক কুমার৷ বেলা ১টা ১৫ বৈঠক শুরু হয়৷ চলে প্রায় দেড় ঘন্টা৷ বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলে ছিলেন সেদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব আবু হেনা মহঃ রাহামারুল মুনিম, ল্যান্ড রেকর্ডক এন্ড সার্ভেস দপ্তরের ডিজি শেখ আব্দুল আহাদ, অধিকর্তা মহঃ আনোয়ার হুসেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব মহঃ সফিকুর রহমান, বিদেশ মন্ত্রকের দক্ষিণ এশিয়া সংক্রান্ত ডিজি মহঃ মুনওয়ার হোসেন, বিজেবি’ পরিচালন শাখার ডিজি লেঃ কর্নেল মহম্মদ তউহিদুল ইসলাম, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ডেপুটি সেক্রেটারি আবু হেনা মুস্তাফা জামান সহ ৯ জন সদস্য৷
বিজেবি ক্যাম্পে বৈঠক শেষে সকলে মিলে নদী পথে মুহুরী চরের বিতর্কীত অংশ পরিদর্শন শুরু করেন৷ জানা গেছে, সীমান্তে পিলার নং ২১৫৮ থেকে ২১৫৯ পর্যন্ত অংশ নিয়েই জট দেখা দিয়েছে৷ এর মধ্যে পিলার নং ২১৫৯ এর অধীন কিছু কিছু পিলার নদী গর্ভে মিলে গেছে৷ মোট ২৪ একর জুড়ে মুহুরী চর নিয়েই ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে জট দীর্ঘদিনের৷ যার সমাধানে ত্রিপুরা সরকার বারবার কেন্দ্রে দরবার করছে৷
সম্প্রতি বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মুহুরী চর পরিদর্শন করে গিয়েছিলেন৷ কিন্তু সে খবর ত্রিপুরা সরকার কিংবা ভারত সরকারের ,কাছে আগাম জানা ছিল না৷ তাতে মুহুরী চর নিয়ে জটিলতা আরো বেড়ে যায়৷ স্বাভাবিক নিরাপত্তার প্রশ্ণে বাংলাদেশের দাবি মেনে নেওয়া সম্ভব নয়৷ সে বিষয়ে ত্রিপুরা সরকার আপত্তি জানাচ্ছে৷ কিন্তু বাংলাদেশও তাদের দাবি থেকে একচুল নড়তে চাইছে না৷ যার কারণে মুহুরী চরের বিতর্ক দু’দেশের মধ্যে সম্পর্কের উষ্ণতা সৃষ্টি করছে৷ রাজ্য সরকারের বারবার দাবিতে এখন বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা শুরু করেছে বলে মনে করা হচ্ছে৷ বিদেশ মন্ত্রকের যুগ্ম সচিবের এই সফর দু’দেশের মধ্যে মুহুরী চর নিয়ে সম্পর্কে শৈত্য আনতে পারবে বলেও ধারনা করা হচ্ছে৷ আগামীকাল ঢাকায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *