নিজস্ব প্রতিনিধি, খোয়াই, ১২ নভেম্বর৷৷ লড়াই যেখানে পঞ্চমুখী সেখানে খোয়াই বিধানসভা কেন্দ্রের গণদেবতাদের রাজ্য ও

রাজ্যের বাইরের পরিস্থিতি সম্পর্কে বোঝাতে গিয়ে বিজেপি ও তৃণমূলকে নিশানা করলেন সিপিএম পলিটব্যুরোর সদস্য তথা মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার৷ দেশের পরিস্থিতি এবং পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান অবস্থার নিরিখে খোয়াইবাসীকে আরও সতর্ক ও সচেতন হতে পরামর্শ দিলেন তিনি৷ স্বাভাবিক ভাবেই রাজ্যে ক্রমেই রাজনৈতিক পরিমন্ডলে সাইনবোর্ড সর্বস্ব হতে শুরু হওয়া জাতীয় কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সুর চড়াতে খুব একটা দেখা যায়নি তাঁকে৷ আর আমরা বাঙালী খোয়াই বিধানসভা কেন্দ্রে সাফল্য পাবে না সেই বিষয়ে নিশ্চিত মুখ্যমন্ত্রী তাদের এড়িয়ে গেছেন৷
আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দুতে যেখানে বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেস সেখানে মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার এবং পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের আস্ফালনকেই খোয়াইয়ে দলীর প্রার্থীর সমর্থনে নির্বাচনী জনসভায় তাঁর বক্তব্যে মূল হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন৷ কংগ্রেসের জামা পাল্টে নব্য তৃণমূলীরা খোয়াইতে সংগঠন অনেকটাই শক্তিশালী করার দিকে এগিয়ে চলেছে, তা নিশ্চিত ভাবে টের পাচ্ছে শাসক দল৷ ফলে, তৃণমূলকে তুলোধুনো করতে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি টেনে আনা খুবই প্রয়োজনীয় বলেই মনে করেছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ এদিন তিনি দাবী করেন, পশ্চিমবঙ্গে পরিবর্তনের নামে অন্যায় ও অত্যাচারের শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ৷ তিনি বলেন, জামা পাল্টে নব্য তৃণমূলীরা যেভাবে উপনির্বাচনকে ঘিরে পশ্চিমবঙ্গের প্রসঙ্গ তুলে দলের কৃতিত্ব দাবী করছে যেটা এরাজ্যেও সম্ভব বলে তারা মনে করেন৷ সেখানে দেখতে হবে পশ্চিমবঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির কি দশা৷ পশ্চিমবঙ্গের মানুষ এখন টের পাচ্ছেন পরিবর্তনের নামে তাঁরা কি পেয়েছেন৷ তাই তিনি খোয়াই বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটারদের তৃণমূলের বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলেন৷
এদিকে, সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে বিজেপিকে সবচেয়ে ভয়ানক বলে মন্তব্য করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার৷ নোট বাতিল করে বিজেপি পরিচালিত এনডিএ সরকার চমক দিতে চেয়েছে, কিন্তু দলের কাছে এই খবর আগেই ছিল বলে দাবি করেন তিনি৷ তাঁর বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রীর নোট বাতিলের ঘোষণার দিন সন্ধ্যার আগেই পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি রাজ্য কমিটি পার্টি তহবিলের তিন কোটি টাকা ব্যাঙ্কে জমা দিয়েছে৷ এই খবর প্রকাশিত হলেও বিজেপির তরফে কোন প্রতিবাদ আসেনি৷ তাতে তিনি খোয়াইবাসীকে বোঝাতে চেয়েছেন নোট বাতিলের জেরে কেবল চুনোপুটিরাই চাপে পড়বেন৷ আর রাঘাববোয়ালরা অনায়াসে ভেসে বেড়াবেন৷ এদিকে, বিজেপির মূল চালিকা শক্তি আরএসএসের ক্রমাগত বিস্তার মোটেও ভালভাবে নিচ্ছে না শাসক দল৷ তাই এদিন মুখ্যমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, আরএসএস রাজ্যের কোণায় কোণায় ঢুকছে৷ তাদের থেকে সতর্ক থাকতে হবে৷ এদিকে, তিনি খোয়াইয়ে বিজেপির দাদন বিলি করাকেও তীব্র ভাষায় সমালোচনা করেছেন৷
মূলতঃ কেন্দ্রীয় সরকারের জন্য মানুষ নানা ভাবে বঞ্চিত এবং ক্ষতিগ্রস্ত সেকথাই মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে প্রাধান্য দিয়েছেন৷ তাঁর দাবি, বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার কৃষকের শত্রু৷ রাজ্যগুলিও নানা ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে৷ কেন্দ্রীয় সরকারের জনবিরোধী নীতির কারণে রাজ্যে বহু উন্নয়নমূলক কাজ থমকে গিয়েছে৷ ইউপিএ আমলেও একই ভাবে কেন্দ্রের ভূমিকা লক্ষ্য করা গিয়েছে৷ বর্তমান সরকার তার বিকল্প হিসেবে উঠে আসতে পারেনি৷ তাতে তিনি দাবি করেন, সামর্থের সীমাবদ্ধতার মধ্যে থেকেও রাজ্যে যেভাবে উন্নয়নের জন্য কাজ করা হচ্ছে তার জন্য বিকল্পের নির্দেশক হিসেবে বামফ্রন্ট উঠে এসেছে৷
এদিন এই জনসভায় অন্যানদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিপিএম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য গৌতম দাস, রাজ্য কমিটির সদস্য রণজিৎ দেববর্মা, পদ্মকুমার দেববর্মা, তেলিয়ামুড়া মহকুমা সম্পাদক সুধীর সরকার এবং খোয়াই বিধানসভা কেন্দ্রের দলীয় প্রার্থী তথা দলের স্থানীয় জেলা সম্পাদক বিশ্বজিৎ দত্ত৷
এদিকে, এই জনসভার পরপরই খোয়াই অফিসটিলা-জাম্বুরা রোডের মোড়ে পাল্টা সভা করে তৃণমূল কংগ্রেস৷ ঐ সভায় মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের খন্ডন করা হয়৷ পাশাপাশি বামফ্রন্ট পরিচালিত রাজ্য সরকারের তীব্র ভাষায় সমালোচনা করা হয়েছে৷