হিলারির হার, হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প

Donald Trumpওয়াশিংটন, ৯ নভেম্বর (হি.স.)৷৷ হোয়াইট হাউসে ডোনাল্ড ট্রাম্প৷ মার্কিনবাসীর মন জয় করে আমেরিকার ৪৫ তম প্রেসিডেন্ট হলেন ধনকুবেবর এই রিপাবলিকান প্রার্থী৷ ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন পরাজিত হয়েছেন৷ ট্রাম্পের পক্ষে ভোট পড়েছে ২৭৬, হিলারির পেয়েছেন ২১৮৷ জিতেই ঐক্যের বার্তা দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প৷ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফলে জয় নিশ্চিত হওয়ার পর মঙ্গলবার রাতে নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের হিল্টন হোটেলের সামনে সমর্থকদের উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প বলেন, বিভেদের ক্ষত ভুলে আমাদের আবার এক হতে হবে৷ আমরা একসঙ্গে কাজ করব৷ আমি সব আমেরিকানের প্রেসিডেন্ট৷ হার নিশ্চিত অনুমান করতে পেরেই ট্রাম্পকে ফোনে অভিনন্দন জানিয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন৷ বিশ্বের অন্যতম শক্তিধর দেশের নব নির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে অভিনন্দন জানাতে পিছিয়ে থাকেননি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি৷ বুধবার দুপুরে ট্রাম্পের জয় নিশ্চিত হওয়ার পর এক ট্যুইট বার্তায় তাঁকে শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী৷
শুভেচ্ছা বার্তায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভারত-মার্কিন সম্পর্ক আরো উন্নতির লক্ষ্যে আমেরিকার সাথে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করতে চান বলে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন৷ অবশ্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদে ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচিত হতেই ভারতে বিনিয়োগকে ঘিরে মার্কিন বিদেশ নীতিতে বদল আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে৷ পুনে এবং গুরগাঁওতে রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগ করেছে ট্রাম্পের সংস্থা৷ এদিকে, কংগ্রেস এবং বিজেপি উভয় শিবিরের প্রভাবশালী সদস্যদের সাথে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে৷ ফলে, ভারতীয় রাজনীতিবিদদের খুশী করতে পারলে এদেশে ব্যবসায়ীক পরিসর আরো বাড়ানো সম্ভব হবে তা ভালই বুঝেন ট্রাম্প৷ এক্ষেত্রে হাতিয়ার হিসেবে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেওয়ার পক্ষে হতে পারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র৷ সন্ত্রাসবাদ দমন নিয়ে যখন ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ক্রমাগত সুর চড়াচ্ছে, তাতে ভারতীয় রাজনীতিবিদদের খুশি করার জন্য পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিতেও পারেন ট্রাম্প৷ এদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য করে ছাড় দিতে চাইছে ভাবী প্রেসিডেন্ট৷ তাতে, ভারতের ধনকুবেররা স্বাভাবিকভাবেই উৎসাহ পাবেন বলে মনে করা হচ্ছে৷ ফলে, আগামীদিনে ভারত-মার্কিন সম্পর্ক কোন দিকে এগোয় সেদিকেই নজর উদ্যোগপতিদের পাশাপাশি রাজনীতিবিদদেরও৷
ভারতীয় সময় মধ্যরাত থেকেই ট্রাম্পের জয়ী হওয়ার ছবিটা স্পষ্ট হতে শুরু করে৷ হিলারিকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যেতে শুরু করেন রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প৷ ১৩টি সুইং স্টেটের মধ্যে ফ্লোরিডা, ওরায়ো, নর্থ ক্যারোলিনা ও জর্জিয়া ট্রাম্পের দখলে চলে আসায় সমীকরণটা পরিষ্কার হতে শুরু করে৷ প্রথম দিকে কিছুটা হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দেখা গেলেও, কিছু পরেই ব্যবধান বাড়তে শুরু করে ট্রাম্প ও হিলারির মধ্যে৷ এরই মাঝে ভার্জিনিয়া, নেভেদা, ওয়াশিংটন ও ওরেগনের মত স্টেট দখলে আনেন হিলারি৷ তবে, তাতে শেষ রক্ষা হয়নি৷ আমেরিকার প্রথম মহিলা প্রেসিডেন্ট হতে পারলেন না হিলারি ক্লিনটন৷
এদিন, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হয়েই শান্তির বার্তা দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প৷ মা-বাবা, স্ত্রী সহ পরিবারকে ধন্যবাদ জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, মানুষ বলছে এটা ঐতিহাসিক জয়৷ প্রথমেই তিনি প্রতিদ্বন্দ্বি হিলারি ক্লিনটনের প্রসঙ্গ তুলেন৷ জানালেন, হিলারি ক্লিনটন খুব শক্ত লড়াই লড়েছেন৷ আমেরিকাকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার শপথ করে ট্রাম্প বলেন, আমেরিকাকে নতুন দিশা দেওয়ার সময় এসেছে৷ আমাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে৷ প্রত্যেক মার্কিন নাগরিকের স্বপ্ণ পূরণ হবে৷ দেশবাসীর উদ্দেশ্যে ট্রাম্পের বার্তা গোটা দেশকে এক সুতোয় গাঁথতে হবে৷ আপনাদের সহযোগিতা চাই৷ বিশ্বের সেরা রাষ্ট্রের খেতাব পুনরুদ্ধার করবই৷ আসুন বৃহৎ ও সাহসী স্বপ্ণ দেখি৷ যাঁরা আমায় ভোট দেননি, তাদেরও বলছি, আসুন নতুন রাষ্ট্র গড়ি৷
ধনকুবের থেকে প্রেসিডেন্ট হওয়া এই রাজনীতিক বলেন, আমি ব্যবসা করে সারা বিশ্বের জন্য অনেক কিছু করেছি৷ এখন দেশের জন্য কিছু করতে চাই৷ ট্রাম্প দাবি করেন, আগামীদিনে দেশের আর্থিক বৃদ্ধি দ্বিগুণ হবে৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *