অতি বর্ষণে প্লাবিত রাজ্যের ৪ জেলার নিম্নাঞ্চল, ত্রাণ নিয়ে অভিযোগ দুর্গতদের

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৭ নভেম্বর৷৷ বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপের কারণে গত ৫ এবং ৬ নভেম্বর রাজ্যের

বলদাখাল এলাকায় প্লাবিত এলাকার মানুষকে উদ্ধার করে ত্রাণ শিবিরে নিয়ে যাওয়া হয় সোমবার৷ ছবি নিজস্ব৷
বলদাখাল এলাকায় প্লাবিত এলাকার মানুষকে উদ্ধার করে ত্রাণ শিবিরে নিয়ে যাওয়া হয় সোমবার৷ ছবি নিজস্ব৷

প্রত্যেকটি জেলায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হয়৷ এরফলে রাজ্যের নদীগুলিতে, বিশেষতঃ হাওড়া, গোমতী, খোয়াই ও বিজয় নদীতে জলস্ফীতি দেখা দেয়৷ খোয়াই, পশ্চিম ত্রিপুরা, সিপাহীজলা এবং গোমতী জেলায় কিছু নিম্নাঞ্চল এর ফলে প্লাবিত হয়৷
উদ্ভুত পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারের পৌরোহিত্যে মুখ্যসচিব, পুলিশের মহানির্দেশক এবং রাজস্ব দপ্তরের প্রধান সচিবের উপস্থিতিতে নির্দেশ দেন৷ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং পরিস্থিতি মোকাবেলায় যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দেন৷ পর্যালোচনা সভায় মুখ্যমন্ত্রী প্লাবনের ফলে ক্ষতিগ্রস্থদের সুরক্ষায় বিপর্যয় মোকাবেলায় নিযুক্ত কর্মী, জেলা প্রশাসন এবং পুলিশকে দিন-রাত প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেন৷ অতিরিক্ত নৌকা ইত্যাদির ব্যবস্থা করারও নির্দেশ দেন৷ এরপর মুখ্যসচিব ভি ডি ও কনফারেন্সর মাধ্যমে জেলা শাসকদের সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন এবং দুর্গত পরিবারগুলিকে যথাযথ সাহায্যের নির্দেশ দেন৷
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী মুখ্যসচিব, পুলিশের মহানির্দেশক এবং রাজস্ব দপ্তরের প্রধান সচিব সমস্ত জেলার পরিস্থিতির উপর সর্বদা নজর রেখে চলেছেন, যাতে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলিকে তাদের পুনর্বাসনের জন্য যথাসময়ে ত্রাণ সাহায্য দেওয়া যায়৷ সদর মহকুমার খয়েরপুর এলাকায় হাওড়া নদীর ভাঙ্গণের ফলে ৫টি পরিবারের বাড়িঘর নদীগর্ভে চলে যায়৷ এই পরিবারগুলি ও নিকটবর্তী আরও ৮টি পরিবারকে সরিয়ে নিয়ে নিকটবর্তী চাঁদপুর অক্ষয় কুমার স্মৃতি বিদ্যালয়ে আপাততঃ আশ্রয় দেওয়া হয়েছে৷ আগরতলা শহর ও শহরতলিতে এ পর্যন্ত মোট ৮টি শিবির খোলা হয়েছে যার মধ্যে ৫৬৭ টি পরিবারকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে৷ মহকুমা প্রশাসনের তরফ থেকে ত্রাণ শিবিরগুলিতে আশ্রয়গ্রহণকারীদের্ জন্য খাদ্য, পানীয়জল, শিশুদের জন্য দুধের ব্যবস্থা করা হয়েছে৷ বিদ্যুৎ দপ্তরকে বলা হয়েছে শিবিরগুলিতে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় রাখতে৷ স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে ত্রাণ শিবিরগুলি পরিদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়েছে৷ শিবিরগুলিতে পুলিশ প্রহরায় ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে৷ সদর মহকুমায় প্রায় ১০০০ পরিবার ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে৷ আগরতলার প্রগতি সুকল সংলগ্ণ এলাকায় কাটাখালে জলে ডুবে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে৷ সরকারী নিয়ম অনুযায়ী তার পরিবারকে সাহায্য করা হবে৷খোয়াই জেলার তেলিয়ামুড়া মহকুমার অন্তর্গত ত্রিশাবাড়ী ও কল্যাণপুর এলাকায় ৩০টি পরিবারের বাড়িঘর জলমগ্ণ হয়৷ মহকুমা প্রশাসন থেকে দুর্গত পরিবারগুলিকে ত্রাণ বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে৷ আজ রাজস্ব দপ্তর থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ সংবাদ জানানো হয়েছে৷ এদিকে, দক্ষিণ চড়িলামের বিভিন্ন এলাকায় প্লাবিত এলাকার জনগণ অভিযোগ করেছেন তাদেরকে প্রশাসনের তরফ থেকে তেমন কোন সহায়তা করা হচ্ছে না৷ এমনকি সোমবার দুপুর পর্যন্ত ত্রাণ শিবিরে কোন আধিকারীক পৌঁছায়নি৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *