কৈলাসহর মহিলা থানার ওসি’র বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়

tripura-policeনিজস্ব প্রতিনিধি, কৈলাসহর, ৫ নভেম্বর৷৷ আবারোও সংবাদ শিরোনামে কৈলাসহর মহিলা থানার ওসি শিউলি দাস৷ নিজের খেয়াল খুশী মতো সাধারন মানুষকে অবহেলা করেই চলছেন৷ মানুষ থানায় এফ আই আর দিলে কোনো রিসিভ কপি থানা থেকে দেওয়া হচ্ছেনা৷ এফ আই আর এর কপি দিলে পরে মামলা নথিভূক্ত না করে রেখে দেন৷ শিউলি দাসের বিরুদ্ধে দুবছর ধরে এই অভিযোগ রয়েছে৷ তারপরও দপ্তরের কোন হেলদোল নেই৷ এবার অভিযোগ উঠেছে এফ আই আর দেওয়ার পরও মামলা নথিভূক্ত না করে শিউলি দাস অস্বীকার করে বলছে থানায় কোন এফ আই আর এর কপি দেওয়াই হয়নি৷ সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধির সামনে কোন ধরনের মন্তব্য করতেও আগ্রহ দেখাননি৷
কৈলাসহরের ধনবিলাশ গ্রাম পঞ্চায়েতের তিন নং ওয়ার্ডের ভাগ্যপুর এলাকার ধীরেন্দ্র মালাকারের পাঁচ ছেলে রয়েছে৷ ধীরেন্দ্র মালাকারের তৃতীয় ছেলে রবীন্দ্র মালাকার ছয় বছর আগে কৈলাসহরেরর সমরুর পাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের ভদ্রপল্লী গ্রামের দিগেশ শুক্ল বৈদ্য-এর বড় মেয়ে রুবি শুক্ল বৈদ্যকে বিয়ে করেছিল৷ বিয়ের পর থেকেই প্রায় সময়ই রবীন্দ্র রুবিকে মারধর করত৷ একবছর পর রবীন্দ্রের ছোট ভাই অর্থাৎ ধীরেন্দ্র মালাকারের চতুর্থ ছেলে রসেন্দ্র মালাকার রুবির আপন ছোট বোন রাখী শুক্ল বৈদ্যকে বিয়ে করেছিল৷ রবীন্দ্রের বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ রয়েছে৷ রবীন্দ্র নিজ বাড়ীতে নেশা সামগ্রী (গাঁজা) বিক্রি করত৷ কিছুদিন পূর্বে রবীন্দ্র রুবিকে ঘরের ভিতরে ঢুকে দরজা লাগিয়ে পেটাচ্ছিল এই সময় গ্রামের মানুষ এসে রুবিকে উদ্ধার করে এবং পরে পঞ্চায়েতে বিচারে রবীন্দ্র কথা দিয়েছিলো রুবিকে আর মারধোর করবে না৷ গত ২১-০৯-১৬ বিকালে রুবির গাঁয়ে কেরোসিন ঢেলে দিয়ে আগুন লাগিয়ে দেয়৷ রুবি পরে মারা যায়৷ রুবির বাবা মহিলা থানায় এফ আই আর দিয়েছিল ২১ তারিখই৷ কিন্তু সহজ-সরল গ্রাম্য মানুষ রুবি বাবা দিনেশকে কোন রিসিভ দেয়নি শিউলি দাস৷ কিছুদিন পর রুবি মারা যাবার পর একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী রাখীর উপর শুরু হয় অত্যাচার৷ গত ৩০-১০-১৬ লুকিয়ে পালিয়ে আসে বাপের বাড়ীতে রাখী৷ রাখী যদি পুলিশের কাছে সত্য কথা বলে তাহলে রাখীকে প্রাণে মারারও হুমকি দেয়৷ বাপের বাড়ীতে এসে রাখী মহিলা থানায় এফ আই আর করলে শিউলি দাস এফ আই আর গ্রহন করলেও আজ পর্যন্ত নথিভূক্ত করেননি৷ উল্টো শিউলি দাস ছেলের বাড়ীর লোকদের মীমাংসা করার জন্য প্রস্তাব দিচ্ছেন৷ থানার ওসির এই আচরনের বিরুদ্ধে রাখীর বাড়ীর এবং এলাকার মানুষ শিউলি দাসের কাছে ডেপুটেশন দেন৷ উনারা বিচার পাওয়ার জন্য খুবই শিঘ্রই মুখ্যমন্ত্রী এবং মহিলা কমিশনের দারস্থ হবেন৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *