নয়াদিল্লি, ৩ নভেম্বর৷৷ অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মীর আত্মহত্যাকে ঘিরে বিজেপি বিরোধী মঞ্চ শক্তিশালী করে তোলার উদ্যোগের আঁচ মিলছে৷ বৃহস্পতিবার অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মীর রামকিষাণ গ্রেওয়ালের শেষকৃত্যে যোগ দিতে হরিয়ানার ভিওয়ানিতে গেলেন কংগ্রেসের সহ সভাপতি রাহুল গান্ধী, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ওব্রায়ান৷ মূলত, বিজেপি বিরোধী মঞ্চে এক সুরে চাপ সৃষ্টি করতে প্রথমসারিতে রয়েছে কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস এবং আম আদমি পার্টি৷ পিছিয়ে নেই সিপিএমও৷ দলের দিল্লি কমিটি বিবৃতি দিয়ে এই ঘটনার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির তীব্র ভাষায় সমালোচনা করেছে৷ গতকাল কংগ্রেস সহ-সভাপতি রাহুল গান্ধি এবং দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও মণিশ সিসোডিয়ার সাথে পুলিশের ভূমিকারও নিন্দা জানিয়েছে দল৷ রাজনৈতিক মহলের মতে, সেনাকর্মীর আত্মহত্যার ইস্যু হাতে পেয়েই বাজার গরম করতে উঠে পড়ে লেগেছে রাজনৈতিক দলগুলি৷ এদিকে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রতিবাদ জানাতে মোমবাতি মিছিলে অংশ নিতে গিয়ে ফের আটক হন কংগ্রেস সহ-সভাপতি রাহুল গান্ধি৷ তবে, দিল্লি পুলিশের দাবি তাঁকে আটক করা হয়নি৷ এবিষয়ে বিজেপি’র কটাক্ষ, কংগ্রেসের রাজনীতি নেতিবাচক৷ অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মীর আত্মহত্যাকে ঘিরে রাজনৈতিক নাটক শুরু করেছেন রাহুল গান্ধি৷
এদিন, অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মীর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে৷ বুধবার জাতীয় রাজধানীতে যে রাজনৈতিক নাটক মঞ্চস্থ হয়েছে তাতে অংশ নিতে কোন ঘাটতি রাখেননি তৃণমূল সুপ্রিমো তথা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিও৷ আজকেও তাঁর দূত হিসেবে দলীয় সাংসদ ড্যারেক ওব্রয়ানকে অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মীর শেষকৃত্যে তিনি পাঠিয়েছেন৷ গতকালই মমতা অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মীর আত্মহত্যার ঘটনায় সমবেদনা জানাতে গিয়ে কংগ্রেস সহ সভাপতি সহ আপ নেতাদের পুলিশি হয়রানির জন্য সুর চরিয়েছিলেন৷
অসাম্প্রদায়িক মঞ্চ গড়ে তোলাই যেখানে মূল লক্ষ্য, সেখানে বিজেপি বিরোধী হাওয়া শুরু হতেই সুযোগ নিতে ছাড়েননি তৃণমূল নেত্রী৷ কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস এবং আম আদমি পার্টি এই ইস্যুকে পঁুজি করে বৃহত্তর বিজেপি বিরোধী মঞ্চ গড়ে তোলার বার্তা দিতে চাইছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল৷ কারণ, বিজেপিকে আটকাতে গেলে একা কংগ্রেসের পক্ষে সম্ভব নয় সেটা দলের সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী ভালোই জানেন৷ ফলে, জাতীয় রাজনীতিতে অন্যতম শক্তি তৃণমূল কংগ্রেসকেও কাছে পেতে চাইছে জাতীয় কংগ্রেস৷
এক পদ এক পেনশন প্রকল্পে সঠিক বাস্তবায়ন না হওয়ায় আত্মহত্যার পথ বেছে নেন অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মী রামকিষাণ গ্রেওয়াল৷ এই ঘটনাকে ঘিরে বুধবার দিল্লির রাস্তায় দিনভর নাটক চলে৷ মৃত অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে দু’দুবার আটক হন রাহুল গান্ধী৷ এমনকি দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও উপমুখ্যমন্ত্রী মণীশ সিসোডিয়াকেও আটক করে পুলিশ৷ পরে অবশ্য তাদের ছেড়ে দেওয়া হলেও বিষয়টিকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ কমেনি আজও৷ আর এই আগুনে ঘি ঢালতে কংগ্রেস সহ সভাপতি রাহুল গান্ধী, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ ড্যারেক ওব্রায়ান পৌঁছে যান হরিয়ানার ভিওয়ানিতে৷
বিজেপি অবশ্য অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মীর আত্মহত্যার ঘটনায় যেভাবে রাজনৈতিক দলগুলি সমবেদনা জানানোর মধ্য দিয়ে রাজনীতি শুরু করেছে তাতে চক্রান্তের গন্ধ পাচ্ছে৷ এদিন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভি কে সিং অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মীকে কংগ্রেস কর্মী বলে মন্তব্য করে বিতর্ক উস্কে দিয়েছেন৷ তাঁর দাবি, প্রাক্তন সেনাকর্মীরা এক পদ এক পেনশন নীতি চালুর দাবিতে যে আন্দোলন চালাচ্ছেন আত্মঘাতী রামকিষাণ তাঁর পুরোভাগে ছিলেন না৷ তিনি বলেন, যন্তর মন্তরে ধর্নায় বসা অবসরপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষা কর্মীরাই জানাচেছন গতকালই তারা প্রথম দেখেছেন তাঁকে৷ পাশাপাশি বলেন, গ্রেওয়াল কংগ্রেস করতেন৷ কংগ্রেসের টিকিটে সরপঞ্চ হয়েছিলেন৷ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এই মন্তব্যের জের বিভিন্ন মহল থেকে নিন্দা জানিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া আসা শুরু হয়েছে৷
এদিকে, বিপুল সমালোচনার মাঝে কেন্দ্রীয় সরকারের বিবৃতি, রামকিষাণকে কেউ মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিতে উস্কানি দিয়েছে কিনা তা নিয়ে তদন্ত হওয়া উচিত৷ কারণ, তার চিঠিতে তারিখ রয়েছে ৩১ অক্টোবর এবং তিনি আত্মহত্যা করেছেন ১ নভেম্বর৷
রাজনৈতিক মহলের মতে, কেন্দ্রীয় সরকার এই আত্মহত্যার ঘটনায় যতই বিবৃতি দিক বিজেপি বিরোধী মঞ্চ গড়ে তোলায় জাতীয় কংগ্রেস সহ অবিজেপি দলগুলির অন্যতম লক্ষ্য৷ তাতে, প্রথম সারিতে রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস৷ আর এই তৃণমূল কংগ্রেসকে সাথে নিয়ে আগামী দিনে বিজেপি বিরোধী মঞ্চ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে কতটা সফলতা মিলবে তা নিয়েই বিতর্ক তুঙ্গে৷
2016-11-04