নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২ নভেম্বর৷৷ আশঙ্কার দোলাচলে রাজ্যে অবস্থানরত রিয়াং শরণার্থীদের মিজোরামে প্রত্যাবর্তনে চিহ্ণিতকরণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে৷ বুধবার পানিসাগরে তিনটি রিয়াং শরণার্থী শিবিরের ১০১ জনকে চিহ্ণিত করা হয়েছে৷ আগামী ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে এই প্রক্রিয়া৷ তাতে পানিসাগর ও কাঞ্চনপুরে রিয়াং শরণার্থী শিবিরে প্রায় ৫ হাজার পরিবারের সদস্যদের চিহ্ণিতকরণ হবে৷ কিন্তু এই প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া কতটা সফল হবে তা নিয়ে আবারও প্রশ্ণ উঠেছে৷ সূত্রের খবর, শরণার্থীদের একাংশ প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়ার ফলে মিজোরাম সরকারের সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করলেও বসবাসের স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে তাঁরা ত্রিপুরাকেই বেছে রেখেছেন৷
জানা গেছে, মিজোরামের মমিথ, কলাশিব এবং লুংপেই জেলাতে রাজ্যে অবস্থানরত রিয়াং শরণার্থীদের নিয়ে যাওয়া হবে৷ সেখানে তাদের জীবনজীবিকা নির্বাহে সমস্ত আয়োজন করা হয়েছে বলে দাবি মিজোরাম সরকারের৷ রাজ্যে বর্তমানে পানিসাগরে কাকতাল, থাকচাং ও হামচাপাড়া এবং কাঞ্চনপুরে আশাপাড়া, নাইসিং পাড়া ও হাজাছড়াতে রিয়াং শরণার্থী শিবির রয়েছে৷ সম্প্রতি রিয়াং শরণার্থীদের প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে কড়া ভূমিকা নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার৷ সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশ এবং কেন্দ্রের কড়া ভূমিকার জের মিজোরাম সরকার রাজ্যে অবস্থানরত রিয়াং শরণার্থীদের প্রত্যাবর্তনে তৎপর হয়েছে৷ এদিকে, রাজ্যে অবস্থানরত রিয়াং শরণার্থীদের স্বভূমে ফিরিয়ে নিয়ে তাদের জীবনজীবিকা সুনিশ্চিত করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার কড়া নির্দেশ দিয়েছে মিজোরাম সরকারকে৷ শুধু তাই নয়, আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে রিয়াং শরণার্থীদের প্রত্যাবর্তনের সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্যও বলা হয়েছে৷
সে অনুযায়ী, আজ থেকে শুরু হয়েছে রিয়াং শরণার্থীদের চিহ্ণিতকরণ প্রক্রিয়া৷ তাতে রিয়াং শরণার্থীদের মধ্যে যাদের মিজোরামের ভোটার কার্ড রয়েছে তাদের প্রথম পর্যায়ে প্রত্যাবর্তন হবে৷ যাদের মিজোরামের ভোটার কার্ড নেই তাদের পরবর্তী সময়ে বিবেচনা করা হবে৷ এই চিহ্ণিতকরণ প্রক্রিয়া সমাপ্ত হলেই মিজোরাম সরকার প্রত্যাবর্তনের দিন চূড়ান্ত করবে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে৷
এদিকে, মিজোরামের কলাশিব জেলার এসডিসি সহ ৮ জন আধিকারিক বর্তমানে পানিসাগরে রিয়াং শরণার্থীদের চিহ্ণিত করছেন৷ প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, মিজোরামের তিন জেলা থেকে পৃথকভাবে আধিকারিকরা রাজ্যে অবস্থানরত রিয়াং শরণার্থীদের চিহ্ণিতকরণের কাজ করবেন৷ ফলে, ধারণা করা হচ্ছে দীর্ঘ ১৯ বছর বাদে রিয়াং শরণার্থীরা স্বভূমে ফিরে যেতে চলেছেন৷
তবে, এই প্রক্রিয়া খুব সহজে সম্পন্ন হবে বলেও মনে করছেন না রাজ্য প্রশাসনের উঁচু তলার আধিকারিকরা৷ যতদূর আঁচ পাওয়া গেছে, জম্পুই, মনু মনথই রোড, ছোট কাংরাই, বড় কাংরাই, আনন্দবাজার, দশদা এবং ছাওমনুতে কয়েকটি স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে অবস্থানরত রিয়াং শরণার্থীরা স্বভূমে অর্থাৎ মিজোরামে স্থায়ীভাবে ফিরে যেতে চাইছেন না৷ সূত্রের খবর, প্রত্যাবর্তনের ফলে তারা মিজোরাম সরকার থেকে সমস্ত সুযোগ সুবিধা নিলেও বাসস্থানের স্থায়ী ঠিকানা হিসাবে ত্রিপুরাকেই বেছে রেখেছেন৷ ফলে, কাগজেপত্রে ঐ রিয়াং শরণার্থীরা মিজোরামে ফিরে গেলেও তারা মূলত ত্রিপুরাতেই অবস্থান করবেন বলেই ধারণা৷ কারণ, অনেকেই ঐ সমস্ত এলাকাতে স্থায়ী বাসস্থান করে ফেলেছেন৷ এক্ষেত্রে অবশ্য মিজোরামে ফিরে গিয়ে থাকার উপযোগী সমস্ত সুযোগ সুবিধা তাদের আদৌ মিলবে কিনা সেই প্রশ্ণ ইতিমধ্যেই তুলেছে শরণার্থীদের সংগঠন৷ সে জন্য সংগঠনের তরফে প্রত্যাবর্তনের ক্ষেত্রে ৪১ দফা দাবিও রাখা হয়েছে৷ শুধু তাই নয়, প্রত্যাবর্তনের আগে সংগঠনের এক প্রতিনিধি দল মিজোরামে গিয়ে সমস্ত পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার আর্জি জানিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের কাছে৷ তবে, এখনো পর্যন্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে ঐ আবেদনের কোন উত্তর আসেনি বলে শরণার্থীদের সংগঠনের জনৈক কর্তা জানিয়েছেন৷ ফলে, রিয়াং শরণার্থীদের চিহ্ণিতকরণ শুরু হলেও প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া আদৌ কতটা সফল হবে তা নিয়ে আশঙ্কা রয়েই যাচ্ছে৷
2016-11-03