খোয়াই হাসপাতালে নেই পরিকাঠামো, ডেঙ্গু রোগী চিহ্ণিত বেসরকারী ল্যাবে

khowai-district-hospitalনিজস্ব প্রতিনিধি, খোয়াই, ১ নভেম্বর৷৷ খোয়াইতে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সন্ধান মিলেছে৷ ফলে, জেলা জুড়ে ডেঙ্গু নিয়ে নতুন করে ভাবনার তাগিদ দেখা দিয়েছে৷ সেক্ষেত্রে এলাকায় ডেঙ্গুর প্রভাব বিস্তার হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে বিশেষজ্ঞদের বিশেষ টিম গঠন করারও প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে৷ অবশ্য, ডেঙ্গু সহ আরো কয়েকটি রোগ রয়েছে যেগুলির উপর কড়া নজরদারি আছে বলে স্বাস্থ্য দপ্তরের দাবি৷
জানা গেছে, গত ২৯ অক্টোবর প্রচন্ড জ্বর নিয়ে খোয়াই জেলা হাসপাতালে ভর্তি হন মহাদেব টিলা এলাকার বাসিন্দা অতুল দেব৷ ৩৬ বছর বয়সী ঐ যুবক কিছুদিন আগে কলকাতায় বেড়াতে গিয়েছিলেন৷ ধারণা করা হচ্ছে, সেখান থেকেই তিনি জ্বরে আক্রান্ত হয়ে রাজ্যে এসেছেন৷ প্রাথমিকভাবে ঐ জ্বরকে হাল্কাভাবে নিলেও যখন তা প্রচন্ড বেড়ে যায় তখন খোয়াই জেলা হাসপাতালে তাকে ভর্তি করানো হয়৷ অভিযোগ, খোয়াই জেলা হাসপাতালে সঠিক রোগ নির্ণয় করতে ব্যর্থ হন চিকিৎসকরা৷ বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হলেও সঠিক রোগ ধরতে পারেননি চিকিৎসকরা৷ শেষ পর্যন্ত বেসরকারি প্যাথলজিতে পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে ধরা পড়ে ঐ ব্যক্তি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত৷ এই বিষয়ে খোয়াই জেলা হাসপাতালের ল্যাব এসিস্ট্যান্ট জানিয়েছেন, সমগ্র জেলাজুড়ে এটি প্রথম ডেঙ্গু আক্রান্ত হিসেবে চিহ্ণিত হয়েছেন৷ ফলে, রোগীর ডেঙ্গু হয়েছে কিনা তা পরীক্ষা নিরীক্ষা করার জন্য পর্যাপ্ত পরিকাঠামো খোয়াই জেলা হাসপাতালে নেই৷ তার দাবি, এর আগে যেহেতু ডেঙ্গু রোগী ধরা পড়েনি, তাই স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে এই রোগের পরীক্ষা করার জন্য প্রয়োজনীয় কিট পাঠানো হয়নি৷
এদিকে, অতুল দেবের শরীরে ডেঙ্গু চিহ্ণিত হতেই খোয়াই জেলা হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাকে জিবিতে স্থানান্তর করেন৷ কিন্তু হাসপাতালের চিকিৎসকদের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ রোগীর পরিবারের সদস্যরা অতুল দেবকে হাঁপানিয়ায় ত্রিপুরা মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যান চিকিৎসার জন্য৷
এদিকে, অবাক করার বিষয় হল খোয়াই জেলা হাসপাতালের মেডিক্যাল সুপার ডাঃ ধনঞ্জয় রিয়াং এবিষয়ে কিছুই জানেন না৷ তাঁকে এবিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি খোঁজ নিয়ে জানাবেন বলে আশ্বাস দেন৷ তবে, খোয়াই জেলাতে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী চিহ্ণিত হতেই জনগণ দুশ্চিন্তায় পড়েছেন৷ স্বাভাবিকভাবেই পতঙ্গবাহী জ্বর একজনের দেহ থেকে অন্যের দেহতে ছড়ায়৷ ফলে, খোয়াই জেলাজুড়ে জনসাধারণের সচেতনতা বৃদ্ধির এবং জ্বর হলেই রক্তের নমুনা পরীক্ষা করার প্রয়োজনীয় সামগ্রীর মজুতের তাগিদ বেড়েছে৷ শুধু তাই নয়, খোয়াই হাসপাতালের সুপারকেও আরো দায়িত্বশীল হওয়ার দাবি উঠেছে৷ কারণ ডেঙ্গু একটি মারণব্যাধি৷ ফলে, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগী চিহ্ণিত হওয়ার পরও মেডিক্যাল সুপারের এবিষয়ে কোন হঁুশ না থাকায় জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে৷ অভিযোগ, জেলা হাসপাতালে মেডিক্যাল সুপারের গুরু দায়িত্ব কাঁধে থাকলেও ডাঃ ধনঞ্জয় রিয়াং প্রাইভেট প্র্যাকটিস নিয়েই ব্যস্ত থাকেন৷ এবিষয়ে স্বাস্থ্য দপ্তরের নজরদারির যথেষ্ট প্রয়োজনীয়তা রয়েছে মনে করছেন খোয়াই জেলাবাসী৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *