আগরতলা, ১৭ ফেব্রুয়ারি (হি.স.) ৷৷ ত্রিপুরায় গ্রুপ-সি এবং গ্রুপ-ডি বিভিন্ন শূন্যপদে নিয়োগের জন্য চাকরিচ্যুত শিক্ষকদের মধ্যে ৭,২৪১ জন এখন পর্যন্ত দরখাস্ত জমা দিয়েছেন৷ তাঁরা সকলেই চাকরির পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী রতনলাল নাথ৷ কারণ, তাঁদের পূর্ব অভিজ্ঞতা রয়েছে৷ বুধবার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে নিজের অফিস কক্ষে সাংবাদিক সম্মেলনে এ-কথা বলেন তিনি৷ সাথে তিনি যোগ করেন, চাকরিচ্যুত শিক্ষকরা স্বনির্ভর হতে চাইলে দরাজ হস্তে সহায়তা করবে ত্রিপুরা সরকার৷
ত্রিপুরায় বামফ্রন্ট সরকারের ভুল নিয়োগ প্রক্রিয়ার জন্য আদালত ১০,৩২৩ জন শিক্ষকের চাকরি বাতিল করেছে৷ ত্রিপুরা হাইকোর্টের ওই রায় সুপ্রিম কোর্টও বহাল রেখেছে৷ স্বাভাবিকভাবে গত ৩১ মার্চ ওই সব শিক্ষকের চাকরি বাতিল হয়ে গেছে৷ চাকরি হারানোর পর একাংশ শিক্ষক আন্দোলনে নেমেছেন৷ তাঁদের দাবি, ত্রিপুরায় ক্ষমতায় আসার আগে বিজেপি নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল সংবিধানিক নিয়ম মেনে এবং আইনের মধ্যে থেকে চাকরিচ্যুত শিক্ষকদের রোজগারের ব্যবস্থা করবে৷ এখন তাঁরা সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন চাইছেন৷
এরই মধ্যে ত্রিপুরা সরকার বিভিন্ন দফতরে গ্রুপ-সি এবং গ্রুপ-ডি শূন্যপদ খুঁজে বের করে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে৷ ত্রিপুরায় নতুন নিয়োগ নীতি অনুযায়ী লিখিত এবং মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে তবেই মিলবে সরকারি চাকরি৷ সে মোতাবেক ওই শূন্যপদগুলিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া অবলম্বন করা হবে৷ তাতেই আপত্তি একাংশ চাকুরিচ্যুত শিক্ষকে৷ তাঁরা আবারও চাইছেন, বেআইনিভাবে নিয়োগ নীতির তোয়াক্কা না করে তাঁদের চাকরি দেওয়া হোক৷ ত্রিপুরা সরকার সেই ব্যবস্থা করুক৷ অবশ্য তাতে বিরোধী দল সিপিএম প্রত্যক্ষভাবে তাদের রাজনৈতিক স্বার্থে মদত দিচ্ছে৷ ফলে তাঁরা লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন৷
ত্রিপুরা সরকার তাঁদের কাছে বার বার আবেদন জানিয়েছে, শূন্যপদে নিয়োগের সুযোগ গ্রহণ করুন৷ ওই আবেদনে সাড়া দিতে তাঁরা অনেকটা সময় নিয়েছেন৷ আজ শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, ওই শূন্যপদগুলিতে এখন পর্যন্ত ১ লক্ষ ২১ হাজার ২৫৫ জন আবেদন করেছেন৷ তাঁদের প্রায় ৭,২৪১ জন হলেন চাকরিচ্যুত শিক্ষক-শিক্ষিকা৷ তিনি জানান, বয়সোত্তীর্ণ ৫,২৪১ জন এবং অন্য চাকরিচ্যুত শিক্ষক হলেন প্রায় ২,০০০ জন৷ তাঁর কথায়, চাকরিচ্যুত শিক্ষকদের সংখ্যা সাকুল্যে ৮,৮৮২ জন৷ বাকি ১,৬৪১ জনও ওই চাকরির জন্য আবেদন জমা দেবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন৷ তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস, চাকরিচ্যুত শিক্ষকরা ওই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সহজেই উত্তীর্ণ হবেন৷ কারণ, তাঁদের পূর্ব অভিজ্ঞতা রয়েছে৷
সাথে তিনি যোগ করেন, চাকরিচ্যুত শিক্ষক-শিক্ষিকা স্বনির্ভর হতে চাইলে দরাজ হস্তে সহায়তা করবে ত্রিপুরা সরকার৷ প্রকল্প জমা দিতে ঋণের ব্যবস্থাও হবে৷
জয়েন্ট রিক্রটমেন্ট বোর্ড অফ ত্রিপুরার মেম্বার সেক্রেটারী এক বি’প্তিতে জানিয়েছেন যে, ২৭ নভেম্বর ২০২০ তারিখের বিজ্ঞাপন নং ০১/২০২০ অনুযায়ী ১৫০০ টি লোয়ার ডিভিশন ক্লার্ক পদের (গ্রপ সি নন গ্যাজেটেড) জন্য যে বি’প্তি প্রকাশ করা হয়েছিল তার সঙ্গে আরও ৯১০টি গ্রপ সি নন গ্যাজেটেড পদ যেমন, এগ্রিকালচার এসিষ্ট্যান্ট Except TAFS Grade-III) ২২টি, এগ্রিকালচার এসিষ্ট্যান্ট TAFS Grade-III)- ৪৪৩টি, জনিয়র অপারেটর (পাম্প)-২৩৬টি, জনিয়র মাল্টি টাস্কিং অপারেটর (আনকমন)-২০৯টি পদ যুক্ত করে মোট ২৪১০ টি গ্রপ সি নন গ্যাজেটেড পদের জন্য ইচ্ছক প্রার্থীদের কাছ থেকে কমন অনলাইনে আবেদনপত্র আহ্বান করা হয়েছে এবং আবেদনপত্র জমা দেওয়ার শেষদিন ১২ মার্চ, ২০২১ তারিখ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে৷ আবেদনপত্র জমা করতে হবেhttps://www.jrbtripura.com/ এই ওয়েবসাইটে৷ এই ওয়েবসাইটের লিঙ্কwww.employment.tripura.gov.in এই ওয়েবসাইটেও পাওয়া যাবে৷ যে সকল প্রার্থী ইতিমধ্যে লোয়ার ডিভিশন ক্লার্ক পদের জন্য আবেদন করেছেন তাদের আর নতুন করে আবেদন করতে হবে না এবং ২৪১০টি পদের জন্যই তাদের প্রার্থীপদ শিক্ষাগত যোগ্যতা ইত্যাদি অনুযায়ী বিবেচিত হবে৷
তাছাড়া ৩ ডিসেম্বর, ২০২০ তারিখের বিজ্ঞাপন নং ০২/২০২০ অনুযায়ী ২৫০০টি মাল্টি ট্যাস্কিং ষ্টাফ গ্রপ ডি (নন-টেকনিক্যাল) পদে ফিক্সড পে বেসিসে যারা আবেদন করতে ইচ্ছক তাদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে এই ক্ষেত্রেও অনলাইনে আবেদনপত্র জমা দেওয়ার শেষদিন ১২ মার্চ, ২০২১ তারিখ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে৷ ইচ্ছক প্রার্থীদের অনলাইনে আবেদনপত্র জমা করতে হবেhttps://www.jrbtripura.com/ এই ওয়েবসাইটে৷ এই ওয়েবসাইটের লিঙ্কwww.employment.tripura.gov.in এই ওয়েবসাইটেও পাওয়া যাবে৷ বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তি ও অন্যান্য তথ্যwww.employment.tripura.gov.in এই ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে৷ রাজ্য সরকারের এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিসেস এবং মেনপাওয়ার প্ল্যানিং দপ্তর থেকে এক প্রেস রিলিজে এই সংবাদ জানানো হয়েছে৷

