আগরতলা, ১১ ফেব্রুয়ারি (হি.স.)৷৷ চার এনএলএফটি উগ্রপন্থী বৈরিতার পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছে৷ তাদের মধ্যে দুজনকে পুলিশ মুখ্য কার্যালয়ে রাখা হয়েছে৷ বাকি দুজনকে উত্তর ত্রিপুরা জেলায় পাঠানো হয়েছে৷ ত্রিপুরা পুলিশ দাবি করেছে, উগ্রপন্থীদের মনোবল ভেঙে দেওয়ার কাজ খুবই সুনিপুণভাবে করা হচ্ছে৷ তাতে যথেষ্ট সাফল্যও মিলছে৷
বৃহস্পতিবার এক প্রেস বিবৃতিতে ত্রিপুরা পুলিশ জানিয়েছে, চার এনএলএফটি উগ্রপন্থী শেঠি দেববর্মা, রাজীব দেববর্মা, বিশারাম রিয়াং এবং জাওমিনা রিয়াং বাংলাদেশের উগ্রপন্থী ঘাঁটি থেকে পালিয়ে এসে আত্মসমর্পণ করেছে৷ পুলিশের দাবি, গত ৩১ জানুয়ারি বাংলাদেশের রাঙামাটি জেলায় বাগাইছড়ি থানাধীন এনএলএফটি-র গোপন ঘাঁটি থেকে তারা পালিয়ে এসে ত্রিপুরা পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ এবং অসম রাইফেলস-এর আধিকারিকদের সাথে যোগাযোগ করে৷ তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার ইচ্ছা প্রকাশ করলে সে মোতাবেক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের মধ্যে দুজনকে পুলিশের মুখ্য কার্যালয়ে রাখা হয়েছে৷ বাকি দুজনকে উত্তর ত্রিপুরা জেলায় পাঠানো হয়েছে৷
পুলিশ জানিয়েছে, জেরায় জানা গিয়েছে, তারা ২০১৮ এবং ২০১৯ সালে বাংলাদেশের এনএলএফটি ঘাঁটিতে গিয়েছিল৷ দীর্ঘ সময় ওই ঘাঁটিতে থাকার পর তারা বুঝতে পেরেছে স্বাধীন ত্রিপুরার স্বপ্ণ অত্যন্ত হাস্যকর এবং অবাস্তবও বটে৷ যার কোনও ভবিষ্যত নেই৷ পাশাপাশি বর্তমানে এনএলএফটি উগ্রপন্থীরা ভীষণ আর্থিক এবং সাংগঠনিক সংকটে ভুগছে৷ শুধু তা-ই নয়, উগ্রপন্থী নেতাদের বিলাসবহুল জীবনযাপনের জন্য জুম চাষ ও অন্যান্য কঠিন কাজ করতে গিয়ে তারা তিতিবিরক্ত হয়ে পড়েছে৷ ফলে তারা অবসাদে ভুগছে৷ তাই তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছে, দাবি ত্রিপুরা পুলিশের৷
ত্রিপুরা পুলিশ সাফ জানিয়েছে, উগ্রপন্থীমুক্ত রাজ্য গঠনে কোন আপস করা হবে না৷ তাই, উগ্রপন্থীদের বিরুদ্ধে লাগাতার অভিযান জারি রাখা হয়েছে৷

