ওয়াকফ সম্পত্তি সংরক্ষিত রাখতে কেন্দ্রীয় আইনের সংশোধনী লাগুর জন্য অনুমোদন রাজ্য মন্ত্রিসভার

আগরতলা, ১০ ফেব্রুয়ারি (হি.স.)৷৷ ওয়াকফ সম্পত্তি সংরক্ষিত রাখার প্রশ্ণে কেন্দ্রীয় আইন মেনে ত্রিপুরায়ও ২০১৩ সালের সংশোধনী লাগু করার অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা৷ শুধু তা-ই নয়, ট্রাইবুনাল গঠনেও মন্ত্রিসভা সম্মতি দিয়েছে৷ বুধবার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে এই খবর দিয়েছেন আইনমন্ত্রী রতনলাল নাথ৷ সাথে তিনি যোগ করেন, ওয়াকফ জমি পুনুরুদ্ধারে জেলাশাসকদের নতুন সমীক্ষা করার নির্দেশ দেওয়া হবে৷ কারণ, গত ৩০ বছরে ১৪০০ কানি জমি খাস হয়ে গেছে, বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন তিনি৷


আইনমন্ত্রী এদিন কটাক্ষের সুরে বলেন, অতীতে যাঁরা ক্ষমতায় ছিলেন তাঁরা সংখ্যালঘু মুসলিমদের জন্য মায়াকান্না করতেন৷ কিন্তু ২০১৩ সালে কেন্দ্রীয় সরকার ওয়াকফ আইনে সংশোধনী এনেছিল৷ ওই সংশোধনী মোতাবেক রাজ্যগুলিকে অভিন্ন রুল গঠনে সুপারিশ করা হয়েছিল৷ কিন্তু পূর্বতন সরকার তাতে আমল দেয়নি৷ তিনি বলেন, আজ মন্ত্রিসভা ওই সংশোধনী গ্রহণ করেছে এবং ত্রিপুরা ওয়াকফ রুল ২০২০-এর অনুমোদন দিয়েছে৷


সাথে তিনি যোগ করেন, সংশোধনী মোতাবেক ট্রাইবুনাল গঠন বাধ্যতামূলক৷ কারণ, ওয়াকফ সম্পত্তি নিয়ে কোনও সমস্যা হলে দ্রুত নিস্পত্তির প্রশ্ণে ট্রাইবুনাল থাকা খুবই জরুরি৷ আজ মন্ত্রিসভা ট্রাইবুনাল গঠনে অনুমোদন দিয়েছে৷ এদিন তিনি এক তথ্য তুলে ধরে বলেন, ত্রিপুরায় ওয়াকফ সম্পত্তি রয়েছে ২,৬৪৩টি৷ যার মোট পরিমাণ হবে প্রায় ৩,০০০ কানি৷ কিন্তু গত ৩০ বছরে ৭৭১টি ওয়াকফ সম্পত্তি যার পরিমাণ ১,৪০০ কানি জমি খাস হয়ে গেছে৷ তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, আগরতলায় গেদু মিঞা মসজিদ, এডিনগরে কবর স্থান সহ আরও অনেক ওয়াকফ সম্পত্তি খাস হয়ে গেছে৷ শুধু তা-ই নয়, কিছু জমিতে তৎকালীন বাম নেতা বাড়ি বানিয়ে ফেলেছেন৷
আইনমন্ত্রী বলেন, অতীতে বহুবার বিধানসভায় এই প্রসঙ্গ উত্থাপন করেছিঊ কিন্তু কেউ কর্ণপাত করেননি৷ এখন জেলাশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ওয়াকফ সম্পত্তি পুনরায় সমীক্ষা করে দেখতে হবে৷