আগরতলা, ৯ ফেব্রুয়ারি (হি.স.)৷৷ পূর্বতন বামফ্রন্ট সরকারের ভুল নীতির কারণে চাকরি হারিয়েছেন ১০৩২৩ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা৷ তাঁদের মধ্যে অনেকেই আজ চাকরি দাবিতে প্রতিবাদী হয়েছেন, আন্দোলনে নেমেছেন৷ কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতিকে স্বীকার করে শখকে আজ পেশা করেছেন এমনই এক চাকরিচ্যুত শিক্ষিকা৷ মাটির প্রতিমা তৈরি করে অর্থ উপার্জনে নেমেছেন গৌরী সরকার দেব৷ এ-বছর তিনি ১০০টি সরস্বতীর মূর্তি বানিয়েছেন৷ এখন বাজারে বিক্রি করে সঠিক মূল্য পাওয়ার আশায় তিনি৷
আগরতলার অরুন্ধতি নগর আইলমারা এলাকার বাসিন্দা চাকরিচ্যুত শিক্ষিকা গৌরী বলেন, চাকরির পাওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই৷ ফলে বিকল্প কর্মসংস্থানের পথ খুঁজে বের করতে হবে৷ তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বিপিএল পরিবারের ছিলাম, তাই শিক্ষিকার চাকরি পেয়েছিলাম৷ কিন্তু এখন চাকরি হারিয়ে জীবনযাপন দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে৷ তিনি বলেন, পাঁচ বছরের কন্যা সন্তান রয়েছে তাঁর৷ মেয়ের ভবিষ্যত গড়ে তোলার প্রশ্ণে রোজগার করতেই হবে৷ তাই, মূর্তি বানানো শুরু করেছি৷ তবে বাজারে পরিশ্রমের সঠিক মূল্য মিলবে কিনা সে-বিষয়ে সন্দেহ কাটছে না তাঁর৷
প্রসঙ্গত, ত্রিপুরা সরকার চাকরিচ্যুত শিক্ষকদের জন্য সংবিধানিক নিয়ম মেনে এবং আইনিভাবে নিয়োগের লক্ষ্যে বিভিন্ন দফতরে শূন্য পদ খুঁজে বের করেছে৷ ওই পদে নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে৷ তবে নতুন নিয়োগ অনুযায়ী শর্ত মেনে পরীক্ষা দিতে হবে চাকরি প্রত্যাশীদের৷ তাতেই আপত্তি একাংশ চাকরিচ্যুত শিক্ষক-শিক্ষিকার৷ তাঁরা চাইছেন পুনরায় নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে এবং অসাংবিধানিক ভাবে তাঁদের নিয়োগ দেওয়া হোক৷ এই দাবিতে তাঁরা লাগাতার আন্দোলন করছেন৷ শুধু তা-ই নয়, জ্বালাময়ী ভাষণ দিয়ে শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার মতলব আঁটছেন তাঁরা৷
অথচ তাঁদেরই মধ্যে একজন চাকরিচ্যুত শিক্ষিকা, সরকারের মোখাপেক্ষী না থেকে স্বনির্ভর হওয়ার জন্য ঝাঁপিয়েছেন৷ তাঁর এই সাহসী পদক্ষেপে আরও অনেককেই অনুপ্রাণিত হবেন বলেও মনে করা হচ্ছে৷ এ-ক্ষেত্রে ত্রিপুরার সরকারের উচিত তাঁকে আর্থিক ভাবে সহায়তা করা৷

