পাথারকান্দিতে সিমেন্ট বোঝাই ট্রাক দূর্ঘটনায় চালকসহ তিনজনের মৃত্যু, দুজনই ত্রিপুরার

পাথারকান্দি, ৯ ফেব্রুয়ারি (হি.স.)৷৷ মর্মান্তিক এক লরি দুর্ঘটনায় তিন ব্যক্তির ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়েছে৷ একই দুর্ঘটনায় সৌভাগ্যবলে একজনের প্রাণ রক্ষা হয়েছে৷ ঘটনাটি করিমগঞ্জ জেলার পাথারকান্দি বাইপাসে আসিমগঞ্জ সংলগ্ণ কোণাগাঁও এলাকায় সোমবার রাত প্রায় সাড়ে দশটা নাগাদ সংঘটিত হয়েছে বলে জানা গেছে৷ নিহতদের বরীন্দ্র শব্দকর (২৪), নৃপেন্দ্র শব্দকর (২২) এবং বিক্রম দেব (৩৫) বলে পরিচয় পাওয়া গেছে৷ তাঁদের প্রথম দুজন যথাক্রমে ট্রাকের চালক ও সহ-চালক৷ একজনের বাড়ি ত্রিপুরার ধলাই জেলার আমবাসা এলাকায়৷ অন্যজন উত্তর ত্রিপুরার কদমতলার বাসিন্দা৷ তিনিও লরি চালক বলে পুলিশ জানিয়েছে৷ অপর জীবিত ব্যক্তিকে দীপঙ্কর বৈদ্য (৩০) বলে পরিচয় পাওয়া গেছে৷ তিনি পাথারকান্দি (অসম)-র আসাইঘাটের প্রয়াত হরেন্দ্র বৈদ্যোর ছেলে৷


পাথারকান্দি থানার ওসি সঞ্জীব তেরনের কাছে জানা গেছে, গতকাল রাত প্রায় সাড়ে দশটা নাগাদ পাথারকান্দির বাইপাসে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এনএল ০১ কে ৪০৯৮ নম্বরের সিমেন্ট বোঝাই একটি ট্রাক কালভার্টের নীচে খাদে মুখ থুবড়ে পড়ে এই দুর্ঘটনাটি সংঘটিত হয়েছে৷ ঘটনার বেশ কিছুক্ষণ পর ওই রাস্তায় সংঘটিত দুর্ঘটনার খবর থানায় আসে৷ খবর পেয়ে এসডিআরএফ-এর দল দল নিয়ে অকুস্থলে ছুটে যান তিনি৷ পরে পরিস্থিতি দেখে নিয়ে আসা হয় এসকেভেটর (জেসিবি)৷ রাতেই স্থানীয় মানুষজনের সাহায্যে দুর্ঘটনাগ্রস্ত ট্রাককে জেসিবি লাগিয়ে তোলা হয়৷ পরে ট্রাকের ভিতর থেকে রক্তাক্ত তিনজনকে উদ্ধার করে পাথারকান্দি হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়৷ কিন্তু হাসপাতালে কর্তব্যরত ডাক্তার তিনজনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন৷ পরে মৃতদের আজ সকালে করিমগঞ্জ সিভিল হাসপাতালে ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে৷

ওসি তেরন জানান, মেঘালয় থেকে প্রায় ৫০০ ব্যাগ সিমেন্ট বোঝাই করে লরিটি ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলার উদ্দেশে যাচ্ছিল৷ কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আসিমগঞ্জের কোণাগাঁও এলাকায় বাইপাস সড়কের কালভার্টে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নীচে ঝুলে পড়ে৷ এতে তিন জনের মৃত্যু হয়৷ তবে দীপঙ্কর বৈদ্য নমের একজন বরাতজোরে প্রাণে বেঁচেছেন৷ তিনি জানান, লরি দুর্ঘটনায় মৃত চালক ও সহ চালক দুজনে সম্পর্কে ভাই৷ আজ সকালে মৃতদের পরিজনেরা দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পাথারকান্দি এসে পৌঁছেছেন৷ ওসি আরও জানান, মৃতদেহ উদ্ধারের পাশাপাশি একটি ব্যাগ থেকে প্রায় দু লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়েছে৷ টাকাগুলো মৃত বিক্রমের বলে মনে করা হচ্ছে৷ পুরনো গাড়ি কেনার জন্য ওই টাকাগুলি সম্ভবত তিনি সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন, জানান ওসি সঞ্জীব তেরন৷


জীবিত দীপঙ্কর বৈদ্য জানান, কদমতলা (উত্তর ত্রিপুরা)-র বন্ধু বিক্রম দেবকে সঙ্গে নিয়ে কালাইন (অসমের কাছাড় জেলা) গিয়েছিলেন একটি পুরনো গাড়ি কিনতে৷ কিন্তু গাড়ি না কিনে রাতে দিগরখালে এই সিমেন্ট বোঝাই লরিতে চড়ে তাঁরা বাড়ি ফেরার পথে দুর্ঘটনাটি ঘটে৷ দীপঙ্কর বলেন, বাইপাসে আসিমগঞ্জের কোণাগাঁও এলাকায় কালভার্টের সামনে আসার পর সড়কের বাঁকে বিপরীত দিক থেকে একটি দ্রুতগামী ট্রাক আেেস৷ দুরন্ত ট্রাক দেখে তাঁদের সিমেন্ট বোঝাই ট্রাকের চালক গাড়ির গতি কমাতে গেলে স্টার্ট অফ হয়ে যায়৷ ফলে একে ঘন কুয়াশা এবং অন্ধকারের দরুন তাঁদের ট্রাকের চালক সামনের কালভার্ট না দেখে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশে জলাশয়ে ট্রাক নিয়ে মুখ থুবড়ে পড়েন৷ এতে তাঁর চারজন গাড়ির ক্যাবিনে চাপা পড়ে জলে হাবুডুবু খেতে থাকেন৷ এদিকে গাড়িতে বোঝাই সিমেন্টের বস্তাগুলো তাঁদের উপর পড়ে চেপে ধরে৷ তখন স্থানীয় মানুষজন এগিয়ে তাঁকে সংকটজনক অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও বাকিরা জলের নীচে রয়ে যান৷ স্থানীয়রাই তাঁকে পাথারকান্দি হাসপাতালে নিয়ে আসেন৷ হাসপাতালে কর্তব্যরত ডাক্তার চিকিৎসা করে ছেড়ে দেন তাকে, বলেন দীপঙ্কর বৈদ্য৷

এদিকে এই এলাকায় ঘন ঘন সড়ক দুর্ঘটনার জন্য সড়কের বাঁককে দায়ী করেছেন স্থানীয়রা৷ এই বাঁককে মেরামত করতে জেলাশাসক, পূর্তমন্ত্রী এবং স্থানীয় বিধায়কের হস্কক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা৷ তাঁরা জানান, পাথারকান্দি বাইপাস সড়ক নির্মাণের পর ঘন ঘন যান দুর্ঘটনায় ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে৷