নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৭ অক্টোবর৷৷ তরুণদের মধ্যে যারা শ্রেষ্ঠত্বের নিদর্শন রাখছেন, সাহসী লড়াইয়ে এবং জনগণের মধ্যে যাদের গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে বয়সে তরুণ, তাদের বাছাই করে পার্টিতে আনতে হবে৷ কারণ পার্টিতে একটা অংশের বয়স বাড়ছে৷ একটা সময়ে গিয়ে আকাঙ্ক্ষা থাকলেও তারা নিজেকে টানতে পারবেন না৷ প্রাকৃতিক নিয়মে তাদেরকেও জায়গা ছাড়তে হবে৷ আজীবন মৃত্যুর আগে পর্যন্ত জায়গাটা দখল করে রাখতে হবে, সেটা কোন মোটেই কাম্য নয়৷ তাদের শূন্যতা পূরণ করার জন্যই তরুণদের আনতে হবে৷ পার্টির ভরা যৌবনকে মেইনটেইন করতে হবে৷ সিপিএমের প্রতিষ্ঠা উপলক্ষে আয়োজিত হলসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বিরোধী দলনেতা মানিক সরকার৷
তিনি বলেন, দল গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করছে৷ আর এই লড়াই সংগ্রামের মধ্য দিয়েই মানুষের সঙ্গে নিবিড় আত্মিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে৷ রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে মতাদর্শগত রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি যে লড়াই চলছে তা জারি থাকবে আগামী দিনেও৷ভারতের মার্কসবাদী কমিউনিস্ট পার্টির ১০১ তম প্রতিষ্ঠা দিবস শনিবার সারা দেশের সাথে রাজ্যেও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে উদযাপিত৷ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে দলীয় কার্যালয় গুলিতে এদিন সকালে দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় প্রতিষ্ঠা দিবসের কর্মসূচি৷ রাজধানী আগরতলায় দলের রাজ্য কমিটির উদ্যোগে এদিন আয়োজন করা হয় পার্টি প্রতিষ্ঠার শতবার্ষিকী উদযাপন সভা৷ আগরতলা টাউন হলে আয়োজিত এদিনের হল সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিপিআইএম পলিটব্যুরো সদস্য রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বিরোধী দলনেতা মানিক সরকার৷ ছিলেন পার্টির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব রমা দাস, তপন চক্রবর্তী, গৌতম দাস, বাদল চৌধুরীসহ এক ঝাঁক রাজ্য নেতৃত্ব৷
হলসভায় প্রধান বক্তার ভাষণে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ভারতবর্ষে কমিউনিস্ট আন্দোলনের উৎপত্তি এবং স্বাধীনতা আন্দোলনে এই দলের ভূমিকাসহ পরবর্তী সময়ে জাতীয় স্তরের রাজনীতিতে সিপিআইএম দলের ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘ আলোকপাত করেন৷ আলোচনা করেন রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও৷ তিনি বলেন রাজ্য এক কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে চলছে৷ গণতন্ত্র একপ্রকার বিপন্ন৷আর সেই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্যই নতুন করে লড়াই করছে এখন দল৷ তাই লড়াই সংগ্রামের মধ্য দিয়ে মানুষের সঙ্গে নিবিড় আত্মিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে৷ রাজ্যে এখন চলছে মতাদর্শগত রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি লড়াই৷ যে লড়াই আগামী দিনেও জারি থাকবে৷ লড়াইকে আরো বেশি করে শক্তিশালী করে তোলার জন্য জনগণের সাথে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলার উপর দলীয় নেতাদের পরামর্শ দেন তিনি৷বিরোধী দলনেতা এদিন তরুণদের ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন৷ তিনি বলেন তরুণদের পার্টিতে আনতে হবে৷ জনগণের কাছে যাদের গ্রহণযোগ্যতা আছে, বয়সে তরুণ তাদের দলে আনতে হবে৷ একই সাথে স্থানীয় সমস্যাগুলি নিয়ে ধারাবাহিক আন্দোলন সংঘটিত করার প্রতিও তিনি পরামর্শ দেন৷ তার মতে জনগণের জরুরী দাবিগুলি নিয়ে দলের নামেই হোক বা পতাকা ছাড়াই হোক, আন্দোলনকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে৷
সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে আমাদের ট্রাস্ট গুলি সামনে আসছে সেগুলো পূরণ করতে হবে৷ তার সাথে মিলিয়ে রাজ্যের বিশেষ পরিস্থিতিতে আলাদা করে দায়িত্ব নিতে হবে৷ সেটা করতে পারলেই কমিউনিস্ট আন্দোলনের শতবর্ষের অনুষ্ঠান প্রতিপালন সার্থক হবে৷ নতুবা এটা একটা আনুষ্ঠানিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়াবে৷ এদিন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কোভিড পরিস্থিতি নিয়ে দলীয় কর্মীদের সতর্ক করে রাজ্য সরকারের সমালোচনা করেন৷ তিনি বলেন, রাজ্যের সরকার এ বিষয়ে একটি বিবৃতি দিয়ে ঘোষণা করে দায়িত্ব খালাস করে নিচ্ছে৷ পরবর্তী সময়ে কি হচ্ছে এ বিষয়ে কোনো খোঁজ-খবর নেই৷ সরকারের ওপর নির্ভর করে বসে থাকলে চলবে না৷ সরকারের উপর মানুষ এমনিতেই আস্থা হারিয়ে ফেলেছে৷ সরকারের পারফরম্যান্স জিরো৷ এই সরকারের কাছে মানুষ বেশি কিছু আশা করে না৷ তাই দায়িত্ব নিতে হবে আপনাদের৷ দায়িত্ব নিয়ে মানুষকে সতর্ক করতে হবে৷ এদিনের হলসভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রাক্তন মন্ত্রী অঘোর দেববর্মা, পার্টির রাজ্য সম্পাদক গৌতম দাস প্রমুখ৷

