সাধের দার্জিলিংয়ের দরজা আবার খুলে যেতে চলেছে পর্যটকদের জন্য

কলকাতা, ২৪ আগস্ট (হি. স.) : সব কিছু ঠিক থাকলে পুজোর আগেই সেপ্টেম্বর মাস থেকেই পাহাড়ের সব পর্যটনকেন্দ্র খুলে যেতে চলেছে। অন্তত এমনটাই সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে জিটিএ। রবিবার সন্ধ্যায় জিটিএ’র এক বৈঠক ডাকা হয়েছিল। সেই বৈঠকে পাহাড়ের হোটেল অ্যাসোসিয়েশন, ট্র্যাভেল এজেন্সি-সহ পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্তদের নিয়ে বৈঠকের বসেছিলেন জিটিএ চেয়ারম্যান অনীত থাপা। সেখানে এ ব্যাপারে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে।

তবে, কবে থেকে খুলছে পাহাড় তা নিয়ে নির্দিষ্ট কোনও তারিখ ঘোষণা করা হচ্ছে না। একই সঙ্গে যে সব পর্যটকেরা আসবেন তাঁদের ক্ষেত্রে বেশ কিছু নিয়মনীতি লাগু হওয়ার পাশাপাশি হোটেল, রেস্টুরেন্ট, বার ও গাড়ি চালকদেরও বেশ কিছু নিয়মনীতি মেনে চলতে হবে বলে জানা গিয়েছে।
সর্বসম্মতিক্রমে স্থির হয়, সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহের করোনা পরিস্থিতি দেখে দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই খুলে দেওয়া হোক পাহাড়ের সব পর্যটনকেন্দ্র। তবে সেই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে ৭ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে।

তবে যেহেতু পাহাড়ের অর্থনীতির একটা বড় অংশই পর্যটনের ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে তাই আর বেশিদিন হোটেল, রেস্টুরেন্ট, বার বন্ধ করে রাখার ইচ্ছা নেই কারোরই। তাই পর্যটনকেন্দ্র খুলে দেওয়ার কথাই ভাবছে এখন সকলে। সেই মতো পাহাড়ে পর্যটকদের স্বাগত জানাতে সেভাবেই প্রস্তুতহচ্ছে সব হোটেল, রিসর্ট, মার্কেট থেকে ট্র্যাভেল এজেন্সিরা।

করোনা আবহে লকডাউনের জেরে প্রায় ৫ মাস পুরোপুরি বন্ধ ছিল পাহাড়ের পর্যটন। ফলে বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন পাহাড়ের ছোট, বড় ব্যবসায়ী থেকে হোটেল মালিকেরা। জুন মাস থেকে আনলক পর্ব শুরু হলেও যে ভাবে পাহাড়ে আর শিলিগুড়িতে মারণ ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছিল তার জেরে পাহাড়ে পর্যটন শিল্পের তালা খুলে দেওয়া সম্ভব হয়নি।

এখন কিবা পাহাড় কিবা শিলিগুড়ি দুটি জায়গাতেই পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। তাই পাহাড়ে এবারে পর্যটকদের স্বাগত জানানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। এই বিষয়ে জিটিএ চেয়ারম্যান অনীত থাপা জানান, ‘বাইরে থেকে আসা পর্যটকদের মাধ্যমে যদি ফের এখানে কেউ করোনা আক্রান্ত হন, তাহলে এখানে ফের সংক্রমণ বাড়বে। সেই চিন্তা একটা থাকছেই। তাই আমরা কিছুদিন সময় নিয়েছি। সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে পরিস্থিতি একটু বুঝে নিতে চাইছি। তবে প্রস্তুতি চলছে ওই সময়ে থেকেই সব খুলে দেওয়ার।’