কলকাতা, ২১ আগস্ট (হি. স.) : ক্রমশই দলে কমছে সদস্যের সংখ্যা। সিপিএমের পার্টি চিঠিতে এটাই স্বীকার করা হয়েছে। দলের হিসেব বলছে ২০১৯ সালের চেয়ে পার্টি সদস্য কমেছে ৭,৫৫৭ জন। পার্টিতে লিঙ্গ বিন্যাস মোটেই আশাব্যঞ্জক নয়।
রাজ্য বিজেপির বেশিরভাগ সদস্য ও স্থানীয় নেতৃত্বই বাম শিবির থেকে আগত বলে তৃণমূলের দীর্ঘদিনের দাবি। ক’বছর ধরে তৃণমূল নেত্রী প্রকাশ্যেই সিপিএম নেতৃত্বকে বলছেন তারা যেন দল ধরে রাখে। প্রয়োজনে প্রশাসনিক সব রকম সুবিধা পাবে। এমন অবস্থায় পার্টির দলিলে এই তথ্যে আরও চাপে মুজাফফর আহমেদ ভবন। পরের নির্বাচনে কী হবে, এই আশঙ্কাই এখন ভয় বাড়াচ্ছে সিপিএম নেতৃত্বের।
তথ্য দিয়ে বলা হয়েছে, ২৫ বছরের নীচে সদস্য সংখ্যা ২০১৯ সালে ছিল ২.৫৮ শতাংশ। যা ২০২০ তে কমে হয়েছে ১.৯৭ শতাংশ। শুধু এখানেই শেষ নয়, ২৬ থেকে ৩১ বছর বয়সের সদস্য সংখ্যা শতাংশের নিরিখে ২০১৮ সালে ছিল ৯.০৯ শতাংশ, ২০১৯ সালে তা কমে হয় ৬.৫১ শতাংশ, তারপর ২০২০-তে এসে সেই সংখ্যা দাঁড়ায় ৫.৭১ শতাংশ।
এর থেকেই স্পষ্ট ২০১৫ সালের প্লেনামের সিদ্ধান্ত রাজ্যে কার্যকর হয়নি। সেই কারণেই ধাপে ধাপে সদস্য সংখ্যা কমছে। সিপিএমের মতো বাম দলগুলিতে সর্বক্ষণের কর্মীকে যেখানে সম্পদ হিসেবে দেখা হয়, সেই সংখ্যাও পড়তির দিকে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, কলকাতা ছাড়া রাজ্যের ২২টি জেলায় ২০১৭ সালে সর্বক্ষণের মোট কর্মী ছিলেন ১৭৭৬ জন। ২০১৮-তে তা কমে হয়েছে ১৬১১ জন। ২০১৯-এ তা এসে দাঁড়িয়েছে ১৪৭৫ জন। আর চলতি ২০২০-তে তা আরও কমে এসে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৩৯২ জন। অর্থাৎ ২০১৭ থেকে ২০২০ এই তিন বছরের মধ্যে দলে সর্বক্ষণের কর্মী কমেছে ৩৮৪ জন। যা অনেকটাই চিন্তা বাড়িয়েছে বিমান-সূর্যকান্তদের।
সদস্যের পাশাপাশি কমেছে এরিয়া কমিটির সংখ্যাও। ২০১৯ সালে ২২টি জেলায় মোট এরিয়া কমিটি ছিল ৭৮৮। চলতি বছরে তা কমে হয়েছে ৭৩৪। পাশাপাশি, শাখার সংখ্যা গত বছর ছিল ১৭,৪৭১। এবছর তা কমে হয়েছে ১৫,৪২৫। বছর ঘুরলেই বিধানসভা নির্বাচনের সম্ভাবনা। হাতে মাস সাতেক সময়। তাই এই ক্ষয় সিপিএম’কে চিন্তায় ফেলেছে। ইতিমধ্যেই রাজ্যে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে বিজেপি নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে।

