সোনামুড়া-দাউদকান্দি নদীপথ সমস্যাবহুল, আগামী বর্ষা মরশুমে পণ্য পরিবহণের সম্ভাবনা, প্রকল্প গ্রহণ বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহণ কর্তৃপক্ষের

আগরতলা, ১৩ আগস্ট (হি.স.) : সোনামুড়া-দাউদকান্দি পণ্য আমদানি-রফতানিতে নৌ পরিবহণে বাংলাদেশের অংশে নদীপথে কিছু সমস্যা রয়েছে। নাব্যতা সংকট, বেশ কিছু এলাকা জুড়ে গাছের গুড়ি থাকায় এবং জল প্রবাহ কম হওয়ায় আগামী শীত মরশুমে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ওই সমস্ত সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেবে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহণ কর্তৃপক্ষ। কারণ, আপাতত নদীপথে পণ্য আমদানি-রফতানি সম্ভব না হলেও আগামী বর্ষা মরশুমে নৌ পরিবহণ চালু করার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। সেই দিশায় লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে।

গত ১১ আগস্ট বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহণ কর্তৃপক্ষ বিবিরবাজার থেকে দাউদকান্দি পর্যন্ত নদীপথ পর্যবেক্ষণ করেছে। মূলত, ত্রিপুরার সিপাহিজলা জেলার সোনামুড়া থেকে বাংলাদেশের দাউদকান্দি ৯২ কিমি নদীপথে পণ্য আমদানি-রফতানির লক্ষ্যেই ওই পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। নদীপথে পণ্য পরিবহণ কতটা উপযোগী তা বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহণ কর্তৃপক্ষ খতিয়ে দেখেছে। তাতে নদীপথে বেশ কিছু সমস্যা নজরে এসেছে। সূত্রের খবর, বিবিরবাজার থেকে দাউদকান্দি পর্যন্ত পূর্ব প্রান্তে প্রায় ৩০ কিমি নদীপথে প্রচুর সমস্যা রয়েছে। নাব্যতা সংকট, গাছের গুড়ি থাকায় এবং জল প্রবাহ কম হওয়ায় পণ্য পরিবহণে বাধা সৃষ্টি হবে। সূত্রের দাবি, এই অবস্থায় পণ্য পরিবহণে জলযান মাঝপথে আটকে যাওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।

সূত্রের কথায়, বড় জাহাজে পণ্য আমদানি আপাতত সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে ছোট জাহাজ কিংবা বার্জ ধরনের জলযানে সহজেই সর্বোচ্চ ৫০০ থেকে ৬০০ মেট্রিক টন পণ্য আমদানি সম্ভব হবে। সূত্রের দাবি, উচ্চতা ছোট জাহাজ অনায়াসে পণ্য পরিবহণে সক্ষম হবে। তবে মাস দুয়েকের মধ্যে পণ্য পরিবহণ সম্ভব হবে না। সূত্র মতে, ওই নদীপথে ত্রিপুরার অংশেও নাব্যতা সংকট রয়েছে। কিন্তু, বাংলাদেশের অংশে তার থেকেও বেশি সমস্যা রয়েছে। কারণ, ওই নদীপথ কখনও ব্যবহৃত হয়নি। তাই, ড্রেজিং না করে এবং অন্যান্য সমস্যা সমাধান ছাড়া পণ্য পরিবহণ সম্ভব হচ্ছে না।

সূত্রের দাবি, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহণ কর্তৃপক্ষ আগামী শীতের মরশুমে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে নদীর নাব্যতা বাড়ানোর জন্য ড্রেজিং, গাছের গুড়ি সরানো এবং জলপ্রবাহ বৃদ্ধি সংক্রান্ত প্রকল্পের কাজ শুরু করবে। সেই লক্ষ্যে ইতিমধ্যে পরিকল্পনা কমিশনে প্রকল্প জমা দেওয়া হয়েছে। কমিশনের অনুমোদন পাওয়ার সাথে সাথেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু হয়ে যাবে। সূত্রের মতে, আগামী বর্ষা মরশুমে ওই নদীপথে পণ্য আমদানি-রফতানি শুরু হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। সেই দিশাতেই বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহণ কর্তৃপক্ষ চেষ্টা চালাচ্ছে।