নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১১ মার্চ৷৷ আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে রাজ্যের বিদ্যালয়গুলিতে গ্রীষ্মকালীন ছুটি পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে৷ এগিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে উচ্চমাধ্যমিক, মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা৷ বাড়ানো হয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের উত্তরপত্র মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শিক্ষক শিক্ষিকাদের সাম্মানিক৷ শিক্ষামন্ত্রী রতনলাল নাথ আজ সচিবালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই সংবাদ জানান৷ তিনি বলেন, সারা ভারতের সাথে মিলিয়ে গ্রীষ্মকালীন ছুটির সময়কাল পিছিয়ে মে-জুন মাসে করার দাবি ছিলো দীর্ঘদিনের৷ শিক্ষক শিক্ষিকা, অভিভাবক ও ছাত্রছাত্রী সকলেরই এই দাবি ছিলো৷ কিন্তু এই দাবির যৌক্তিকতা এতোদিন মূল্যায়ন করা হয়নি৷ কিন্তু বর্তমান সরকার সকলের দাবি মেনে সবদিক বিবেচনা করে গ্রীমকালীন ছুটি পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে৷ তা দেওয়া হবে ১৭ মে থেকে ৭ জন পর্যন্ত৷ আগে দেওয়া হতো এপ্রিল মাসে৷ শিক্ষামী শ্রীনাথ বলেন, গতানুগতিকতা থেকে বেরিয়ে এসেই এই সিদ্ধান্ত৷ এতে শিক্ষক শিক্ষিকা, অভিভাবক ও ছাত্রছাত্রীরা গ্রীষ্মের সময়ে গ্রীষ্মকালীন ছুটি উপভোগ করতে পারবে বলে তিনি উল্লেখ করেন৷
আলোচনাকালে শিক্ষামন্ত্রী জানান, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল এগিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে৷ এ বিষয়ে ত্রিপুরা মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সাথে কথা বলা হয়েছে৷ সে অনুযায়ী উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল মে মাসের শেষ সপ্তাহে এবং মাধ্যমিকের ফলাফল জুন মাসের একেবারে প্রথমেই প্রকাশ করা হতে পারে বলে শিক্ষামন্ত্রী শ্রীনাথ জানিয়েছেন৷ তিনি বলেন, এবছরই প্রথমবার মাধ্যমিক পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ন কেন্দ্র বিকেন্দ্রীকরণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে৷ আগে শুধু আগরতলাতেই মাধ্যমিক পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা হতো৷ এবছর আগরতলা ছাড়াও উদয়পুর এবং কুমারঘাটেও মাধ্যমিক পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ন কেন্দ্র চালু করা হবে৷ তবে, উচ্চমাধ্যমিকের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র আগরতলাতেই উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা হবে, বলেন তিনি৷
উত্তরপত্র মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শিক্ষকদের সাম্মানিক বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী৷ তিনি বলেন, আগে প্রতিটি উত্তরপত্র মূল্যায়নে শিক্ষক শিক্ষিকাদের ৬ টাকা করে দেওয়া হতো৷ এবছর তা বৃদ্ধি করে প্রতি উত্তরপত্রে ১০ টাকা করা হয়েছে৷ এদিন তিনি জানান, উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা হবে ১৬ এপ্রিল থেকে ২২ এপ্রিলের মধ্যে৷ এই সময়ের মধ্যে ছুটির দিন থাকলেও কাজ করতে হবে৷ ছুটির দিনের জন্য পরবর্তীতে কমপেনসেটরি লিভ দেওয়া হবে সংশ্লিষ্টদের৷ তিনি বলেন, প্রায় চার হাজার শিক্ষক শিক্ষিকা উত্তরপত্র মূল্যায়নের সাথে যুক্ত হবেন৷ যে সকল শিক্ষক শিক্ষিকা উত্তরপত্র মূল্যায়নের জন্য নির্বাচিত হবেন তাদের সকলের কাছে শিক্ষামন্ত্রী অনুরোধ জানান সকলেই যেন দায়িত্ব নিয়ে ছাত্রছাত্রীদের উত্তরপত্র মূল্যায়ন করেন৷
এ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য, শিক্ষক শিক্ষিকাদের দায়িত্বের উপরই ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে৷ তাই উত্তরপত্র মূল্যায়নে অবশ্যই যত্নবান হতে হবে, যাতে পরবর্তীতে ছাত্রছাত্রীদের কোনও অসুুবিধার সম্মখীন না হতে হয়৷ তিনি বলেন, উত্তরপত্র মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শিক্ষক শিক্ষিকাগণ যে ট্রেভেলিং অ্যালাউন্স পাবেন৷ শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষক-শিক্ষিকার কর্মস্থল থেকে উত্তরপত্র মূল্যায়ন কেন্দ্রের দূরত্ব ২৫ কিমির মধ্যে হলে প্রতিদিন টিএ ১০০ টাকা পাবেন৷ এই দূরত্ব ২৫ থেকে ৫০ কিমির মধ্যে হলে প্রতিদিন ১৫০ টাকা আর ৫০ কিমির উপর হলে প্রতিদিন ২০০ টাকা করে টি এ দেওয়া হবে৷ এছাড়াও তিনি জানান, আজ উচ্চমাধ্যমিকের পলিটিক্যাল সায়েন্স, সোসিওলজি ও কেমিস্ট্রি বিষয়ের পরীক্ষা ছিলো৷ উপস্থিতির হার ৯৬.০৮ শতাংশ৷ পরীক্ষা ঘিরে কোনও অভিযোগ ছিলো না৷ শান্তিপূর্ণভাবেই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে৷ প্রসঙ্গক্রমে শিক্ষামন্ত্রী জানান, উচ্চমাধ্যমিকের পরীক্ষা শেষ হবে ৩১ মার্চ, মাধ্যমিকের ২৭ মার্চ৷

