নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১১ মার্চ৷৷ তরুণ আইনজীবী ভাস্কর দেবরায় মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালের প্রাথমিক রিপোর্টের সাথে ময়না তদন্তের রিপোর্টের বিস্তর ফারাক রয়েছে৷ আজ ত্রিপুরা হাইকোর্টে তা প্রমাণিত হয়েছে৷ তাই, প্রধান বিচারপতি অকিল কুরেশি ত্রিপুরা সরকারকে হলফনামা দিতে বলেছেন এবং পরবর্তী শুনানির দিন আগামী ২৩ মার্চ ধার্য্য করেছেন৷ বুধবার ওই আইনজীবীর মৃত্যুর ঘটনায় ত্রিপুরা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলার শুনানি শেষে এ-কথা বলেন আইনজীবী পুরুষোত্তম রায়বর্মন৷ তিনি বলেন, চিকিৎসায় গাফিলতিতেই ভাস্কর দেবরায়-র মৃত্যু হয়েছে, তা স্পষ্ট হয়ে গেছে৷ তাই, আদালতের কাছে বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছি, বলেন তিনি৷ এদিকে, স্বাস্থ্য দপ্তরের গঠিত ডেথ অডিট টিম আজ মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য সচিবের কাছে আইনজীবী ভাস্কর দেবরায় মৃত্যুর রিপোর্ট জমা দিয়েছে৷ স্বাস্থ্য সচিব জানিয়েছেন, ওই ঘটনার সাথে দুইজন চিকিৎসক দায়ী বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে৷
প্রসঙ্গত, দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত তরুণ আইনজীবী ভাস্কর দেবরায় জি বি হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে৷ চিকিৎসায় গাফিলতিতে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে৷ তাঁর মৃত্যুতে জনৈক আইনজীবী মুখ্য বিচারবিভাগীয় আদালতে মামলা করেন৷ কারণ, পুলিশ প্রথমে ওই মৃত্যুর ঘটনায় মামলা নেয়নি বলে অভিযোগ৷ আদালতের নির্দেশে পুলিশ মামলা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে৷ এদিকে, আইনজীবী মৃত্যুর ঘটনায় প্রকৃত রহস্য উদঘাটন, দোষীর শাস্তি প্রদানে বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবিতে জনস্বার্থ মামলা হয় ত্রিপুরা হাইকোর্টে৷ গতকাল ওই মামলায় শুনানি ছিল৷ আজ ফের ত্রিপুরা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি অকিল কুরেশি এবং বিচারপতি অরিন্দম লোধের ডিভিশন বেঁচে শুনানি হয়েছে৷
এ-বিষয়ে আইনজীবী পুরুষোত্তম রায়বর্মন বলেন, আজ ত্রিপুরা সরকার আদালতে ময়না তদন্তের রিপোর্ট জমা দিয়েছে৷ প্রধান বিচারপতি ওই রিপোর্ট আদালতে পড়েছেন৷ তাতে লেখা রয়েছে, আইনজীবী ভাস্কর দেবরায়-র বাম পা এবং বুকের হাড় ভাঙা ছিল৷ এছাড়াও, শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ণ রয়েছে৷ অথচ, হাসপাতালের রিপোর্টে তার শরীরে কোন আঘাতের চিহ্ণ কিংবা পা ও হাড় ভাঙার বিষয়ে কিছুই উল্লেখ ছিলনা, বলেন তিনি৷ তাঁর দাবি, আজ ময়না তদন্তের রিপোর্টে আমাদের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে৷ কারণ, ময়না তদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী স্পষ্ট চিকিৎসায় গাফিলতিতেই ভাস্কর দেবরায়-র মৃত্যু হয়েছে৷
পুরুষোত্তমববাবু বলেন, চিকিৎসায় গাফিলতিতে কারোর মৃত্যু কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায় না৷ তাঁর কথায়, আজ আদালতে অ্যাডভোকেট জেনারেল বলেছেন ত্রিপুরা সরকার ভাস্কর দেবরায়-র মৃত্যুতে দোষীকে খোঁজে বের করার বিষয়ে যথেষ্ট আন্তরিক৷ কিন্তু, ত্রিপুরা সরকারের দেওয়া ম্যাজিস্ট্রেট তদন্তে আমাদের আস্থা নেই, বলেন তিনি৷ তাঁর দাবি, অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে প্রশাসনিক তদন্তে প্রকৃত ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে৷ তাই, বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবি জানাচ্ছি৷ তিনি বলেন, ত্রিপুরা হাইকোর্ট ত্রিপুরা সরকারকে হলফনামা দিতে বলেছে৷ আগামী ২৩ মার্চ পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য্য করেছে৷
এদিকে, স্বাস্থ্য দপ্তরের গঠিত ডেথ অডিট টিম আইনজীবী ভাস্কর দেবরায় মৃত্যুর ঘটনায় পনেরজনের অধিক স্বাস্থ্যকর্মীর বয়ান রেকর্ড করেছে৷ তাদের মধ্যে দুই চিকিৎসক চিকিৎসায় গাফিলতি করেছেন বলে প্রমাণ মিলেছে৷ এডিট টিম ওই দুই চিকিৎসকের চিকিৎসায় গাফিলতির দায়ে বরখাস্তের সুপারিশ করেছে৷

