বিজেপির মুক্তি দিবস সিপিএমের কালো দিন

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৩ মার্চ৷৷ ত্রিপুরায় পালা বদলের দুই বছর পূর্তিতে আজ মুক্তি দিবস পালন করছে বিজেপি৷ বিজেপি ত্রিপুরা প্রদেশের সমস্ত মন্ডলে ওই দিবসটি পালন করা হচ্ছে৷ অন্যদিকে, সিপিএমের তরফ থেকে আজকের দিনটিকে তথা ৩রা মার্চকে ত্রিপুরায় কালো দিন বলে কটাক্ষ করা হয়েছে৷


মুক্তি দিবস উপলক্ষে বিজেপি ত্রিপুরা প্রদেশ কমিটির সভাপতি ডাঃ মানিক সাহা বলেন, নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে নয়, উন্নয়নকে পাথেয় করে এগিয়ে যেতে চাইছে বিজেপি৷
এদিন বিজেপি প্রদেশ সভাপতি বলেন, টানা ২৫ বছর এবং তার আগে ১০ বছর মোট ৩৫ বছরের অপশাসনের হাত থেকে ত্রিপুরা ২০১৮ সালে আজকের দিনে মুক্তি পেয়েছিল৷ তাই আজকের দিনে আমরা মুক্তি দিবস পালন করছি৷ তিনি জানান, আজ সমস্ত মন্ডলে মিছিল এবং জামায়েত হবে৷ সেখানে দীর্ঘ বাম শাসনের ইতিহাস তুলে ধরা হবে৷


তাঁর কথায়, আমাদের সদা খেয়াল রাখতে হবে সেই অপশাসনের দিনে আবারও যেন আমাদের ফিরতে না হয়৷ তাঁর দাবি, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধাগুলি মানুষের কাছে পৌছে দেওয়ার জন্য আমরা কাজ করব৷ তিনি বলেন, নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে চলতে চাইছি না৷ বরং, উন্নয়নকে পাথেয় করে আমরা এগিয়ে যেতে চাইছি৷


এদিকে, ত্রিপুরায় পালা বদলের দুই বছর পূর্তিতে ৩ মার্চ দিনটিকে কালো দিন বলে কটাক্ষ করেছেন সিপিএম ত্রিপুরা রাজ্য সম্পাদক গৌতম দাশ৷ তাঁর কথায়, এক অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ২০১৮ সালের ৩ মার্চ নির্বাচনের ফল ঘোষণা হয়েছিল৷ মানুষকে বিভ্রান্ত করে বিজেপি-আইপিএফটি জোট ক্ষমতায় এসেছিল৷ আজ মানুষ তা অনুভব করতে পারছেন৷


আজ সাংবাদিক সম্মেলনে সিপিএম রাজ্য সম্পাদক বলেন, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ছোট্ট রাজ্য ত্রিপুরাকে যে কোনভাবে দখলের জন্য আরএসএস-বিজেপি সর্বশক্তি প্রয়োগ করেছিল৷ তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় সরকার ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রিগোষ্ঠী, অমিত শাহের নেতৃত্বে বিজেপি এবং মোহন ভাগবতের নেতৃত্বে আরএসএস নির্বাচনে জয়ের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন৷ তাঁর আরও দাবি, ২০১৮ সালে বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি প্রচুর অর্থ শক্তি ব্যবহার করেছে৷ শুধু তাই নয়, মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য অসংখ্য জুমলা দিয়েছে৷ গৌতম দাশ বলেন, বেকারদের চাকুরী এবং সরকারি কর্মচারীদের সপ্তম বেতন কমিশনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিভ্রান্ত করেছে৷ কিন্তু এখন একটাও প্রতিশ্রুতি পূরণ করছে না বিজেপি জোট সরকার৷


এদিন গৌতমবাবু নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করে বলেন, নির্বাচনী ব্যবস্থাকে অস্বাভাবিক করে তোলা হয়েছিল৷ কমিশন নিজেদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেনি৷ কারণ, কমিশনের কাছে নালিশ জানিয়ে কোন প্রতিকার পাইনি৷ তাই, ভোটের ফলাফল শুধু রাজ্য নয়, দেশের মানুষের প্রত্যাশার সাথে মিলেনি৷
আজ তিনি অভিযোগ করেন, ত্রিপুরায় পালা বদলের পর থেকে আইনের শাসন সম্পূর্ণ সমাপ্ত হয়ে গেছে৷ ত্রিপুরায় নারী নির্যাতন বেড়েছে৷ শুধু তাই নয়, ত্রিপুরার অর্থনৈতিক অবস্থাও বেহাল হয়ে পড়েছে৷ ফলে, বাজারের হাল খারাপ হয়ে গেছে৷ তিনি জোর গলায় বলেন, ত্রিপুরায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করছে শাসক দল৷ তবে, জনগণ তার যোগ্য জবাব দেবে৷