পানিসাগরে স্পোর্টস সুকলের হোস্টেল থেকে নিখোঁজ ছাত্রী

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৬ ফেব্রুয়ারি৷৷ পানিসাগর সিত এিপুরা স্পোর্টস সুকলের ছাত্রীনিবাস থেকে আকস্মিক ভাবে নিখোঁজ হয় অষ্টম শ্রেণিতে পাঠরতা নাবালিকা ছাত্রী৷ জানা যায় নিখোঁজ হওয়া ছাত্রীর পিতার নাম- প্রদ্যোত দাস, বাড়ি- পূর্বরৌয়া, নয় দ্রোন এলাকার তিন নং ওয়ার্ডে৷ বিগত প্রায় পাচ বছর পূর্বে রৌয়া সুকল থেকে খেলা ধূলায় পারফরম্যান্সের উপর নির্ভর করে চতুর্থ শ্রেনীতে সূযোগ পায় পানিসাগর সিত স্পোর্টস সুকলে৷ বর্তমানে সে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে৷ অন্যান্য দিনের মত মঙ্গলবার রাএিতেও ছাত্রীটি রাতে খাবার খেয়ে সহপাঠিদের সাথে ঘুমিয়ে পড়ে৷ যথারিতি বুধবার সকালে ঘুম থেকে উঠার পর যে যার কাজে লেগে পরে৷ ইতিমধ্যে সুকলে পরিক্ষা চলছে৷ তাই নিয়মিত প্র্যাকটিস কিছু দিনের জন্য বন্ধ৷ এই কারণে তার প্রতি নজর পরেনি কারোর৷


বেলা প্রায় দশটার সময় জৈনিকা ছাত্রীর ভাই, বৌদি এবং মা ছাত্রীটির সাথে দেখা করতে গেলে হোষ্টেল সুএে বলা হয় যে, ছাত্রীটি হোষ্টেলে আছে৷ কিন্ত দেখা করতে গেলে সেখানে খুঁজে পাওয়া যায়নি৷ সাথে সাথে খবর পাঠানো হয় সুকলের প্রধান শিক্ষকের কাছে৷ প্রধান শিক্ষক কমলেন্দু শীলও সুকলের কাজে ডেপুটেশনে আগরতলায় আছেন৷ অন্যদিকে হোষ্টেল সুপার প্রতিমা ঘোষ মেয়ের বিয়ের জন্য ছুটিতে আছে৷ এই অবস্থায় হোষ্টেলটি একমাএ তিন জন মহিলা সিকিউরিটির উপর নির্ভর৷ তাও আবার প্রত্যেকে দৈনিক আট ঘন্টা করে ডিউটি করেন৷ মঙ্গলবার রাএে থেকে বুধবার ভোর ছয়টা এিশ মিনিট পর্যন্ত নৈশকালীন প্রহরায় ছিলেন বাবলি রানি দেব৷ পর্যায়ক্রমে পরবর্তীতে ডিউটিতে আসেন সিক্তা রানি দাস৷ এরা সকলেই স্বীকার করেন যে, মঙ্গলবারের পর বুধবার তাকে আর হোষ্টেলে দেখতে পাওয়া যায়নি৷


এই খবর ছড়িয়ে পরতেই গোটা মহকুমা জুরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পরে৷ নিখোজ ছাত্রীর পিতা ছুটে আসে৷ তবে নিখোজের বিষয়ে কোন সদুত্তর দিতে পারেনি সুকল কতৃপক্ষ৷ সাথে সাথে পরিবারের পক্ষ থেকে পানিসাগর থানায় মৌখিকভাবে অভিযোগ দায়ের করা হয়৷ঘটনা সলে উপসিত হয় পানিসাগর থানার ওসি সৌগত চাকমা৷ তিনি সুকল কতৃপক্ষ থেকে শুরু করে নিখোজ ছাএীর পরিবারোর সাথে আলোচনা ক্রমে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেয়৷ সুকল ইনচার্জ মৃলার নাথ বিষয়টি নিয়ে ভীষন চিন্তিত৷ নিখোজ ছাএির সহপাঠীদের কাছ থেকে জানা গেছে ছাএিটি হোষ্টেলের নিয়ম অমান্য করে লুকিয়ে লুকিয়ে মোবাইল ব্যাবহার করত৷ তাই প্রাথমিক তদন্তে প্রনয় ঘটিত ব্যাপার থাকতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে৷


এই বিষয়টি নিয়ে পানিসাগর থানা ব্যাপক তল্লাশি অভিযানে নেমেছে৷ তবে হোষ্টেলের নিরাপওার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ণ থেকেই যাচ্ছে৷ বর্তমানে হোষ্টেলটিতে প্রায় দুই শতাধিক ছাএি রয়েছে৷ এত বিশাল পরিমান ছাত্রিনিবাস সামলাতে হয় মাএ একজন প্রহরী দিয়ে৷ জন্মলগ্ণ থেকেই সুকল এবং হোষ্টেলের চারিদিকে কোন বাউন্ডারির ব্যাবস্থা এখনো পর্যন্ত করা হয়নি৷ প্রতিনিয়ত উৎকন্ঠার মধ্যে হোষ্টেলটি চালিয়ে যেতে হচ্ছে৷ নেই পর্যাপ্ত পরিমাণে শিক্ষক শিক্ষিকা৷ এই মর্মে পানিসাগর থানা একটি মিসিং ডায়েরি করে তদন্ত জারি রেখেছে বলে জানা গিয়েছে৷