ছিনাইহানিতে রাতের অন্ধকারে মহিলার ঘরে চলল গুলি, পুলিশের ভূমিকায় রহস্য

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৬ ফেব্রুয়ারি৷৷ রাতের অন্ধকারে এক বাড়িতে দুষৃকতীদের গুলি ছোঁড়ার ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে৷ ঠিকাদার্রি কাজ নিয়ে ঝামেলা থেকেই এভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে৷ পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ, খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেনি৷ তবে, পুলিশের বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন৷ বৈদ্যুতিন চ্যানেলের খবর দেখে পুলিশ তদন্তে নেমেছে বলে দাবি করেছেন এয়ারপোর্ট থানার ওসি৷ স্বাভাবিকভাবেই ঘটনাকে ঘিরে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে৷


এয়ারপোর্ট থানাধীন ছিনাইহানি এলাকার জনৈক রুমা দাস বৈদ্যের ঘরে গতকাল রাত একটা নাগাদ দুষ্কতকারীরা এক রাউন্ড গুলি ছুঁড়েছে৷ গুলির শব্দ শুনে বাড়ির সবাই বাইরে আসতেই দুষ্কতকারীরা পালিয়ে গেছে, জানিয়েছেন রুমা দাস বৈদ্য৷ তিনি বলেন, ভয়ভীতি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যেই দুষৃকতীরা গুলি ছুঁড়েছে৷ আজ তিনি জানিয়েছেন, মাস-ছয়েক আগে তাঁর স্বামী সন্তোষ দাসকে বাড়িতে ঢুকে মারধর করেছিল এলাকার কয়েকজন দুষৃকতী৷ তিনি বলেন, তাঁর স্বামী ঠিকাদারি কাজ করতেন৷ ওইদিন মারধরের পর তাঁর স্বামী বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র কোথাও আত্মগোপন করেন৷ আজ পর্যন্ত ফিরে আসেননি৷ গৃহবধূ বলেন, তার স্বামী কোথায় আছেন, কেমন আছেন তা কিছুই জানি না আমরা৷ তবে, ওই ঘটনার পর ছয় জনের বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর করেছিলাম৷ কিন্তু আজ পর্যন্ত পুলিশ তার স্বামীকে খুঁজেও বের করেনি এবং ওই ছয় জনের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থাও নেয়নি, ক্ষোভের সুরে বলেন তিনি৷


রুমা দাস বৈদ্যের কথায়, গতকাল রাতে হঠাৎ গুলির শব্দে আমাদের ঘুম ভেঙে যায়৷ ঘুম থেকে উঠে দেখি ঘরের মেঝেতে গুলির খালি খোল পড়ে রয়েছে৷ সঙ্গে সঙ্গে বাইরে বেরোতেই দুষৃকতীরা পালিয়ে যায়৷ তবে তাদের মধ্যে চারজনকে চিনতে পেরেছি, বলেন তিনি৷ ওই গৃহবধূর দাবি, চন্দন চক্রবর্তী, রাজীব ঘোষ, নাড়ু এবং বাবাই গতরাতের গুলিকাণ্ডে যুক্ত৷ তার আরও অভিযোগ, রাজীব ঘোষের নির্দেশেই ওই সমস্ত ঘটনা তাদের সাথে ঘটছে৷


এদিকে, ঘটনার খবর পেয়ে গৃহবধূ রুমা দাস বৈদ্যের বাবা ছুটে আসেন এবং এয়ারপোর্ট থানায় টেলিফোনে বিষয়টি জানান৷ কিন্তু তাদের অভিযোগ, খবর পেয়েও পুলিশের কোনও হেলদোল লক্ষ্য করা যায়নি৷ বরং দ্বিতীয় দফায় টেলিফোনে বিষয়টি জানানো হলে পুলিশ তাদের এজাহার দাখিলের করার পরামর্শ দেয়৷ এ-বিষয়ে এয়ারপোর্ট থানার ওসি জানিয়েছেন, বৈদ্যুতিক চ্যানেলে খবর দেখে তারা তদন্তে নেমেছেন৷ কোনও অভিযোগ তাদের কাছে জমা পড়েনি৷ স্বাভাবিকভাবে, পুরো ঘটনাকে ঘিরে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে৷ তবে, গুলি চালানোর ঘটনায় স্থানীয় মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন৷