নিজস্ব প্রতিনিধি, খোয়াই, ১২ ফেব্রুয়ারী৷৷ ২৩ মাসে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতিতে ২১টি নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে৷ পূর্বতন সরকারের ২৫ বছরে তা ভাবা অকল্পনীয়৷ খোয়াই জেলায় কল্যাণপুর দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয়ের নবনির্মিত ভবনের উদ্বোধন করে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় এ-কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব৷
এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা মানুষকে বিনয়ী করে৷ শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড এবং এই শব্দগুলির সাথে আমরা পরিচিত৷ কিন্তু এই কথাটি বাস্তবে পরিণত করা হচ্ছে আসল বিষয়৷ তিনি বলেন, সব অভিভাবক জীবনে সবচেয়ে বেশি খুশি হন যখন তাঁদের সন্তান প্রকৃত ও গুণগত শিক্ষায় শিক্ষিত হয়৷ এ-বিষয়ে তাঁর দাবি, মানুষের জীবনে তিনটি বিষয় খুব গুরুত্বপূর্ণ, যা নিয়ে মানুষ বেশি চিন্তা করে৷ নিজের ছেলে-মেয়েদের প্রকৃত শিক্ষা প্রদান, থাকার জন্য বাড়ি এবং স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা৷ তিনি বলেন, সন্তানের শিক্ষা প্রদানের জন্য আর্থিক সঙ্গতি এবং উপযুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা মূল অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়৷ বর্তমান সরকার প্রথমদিন থেকে এ বিষয়ে কাজ করছে৷
মুখ্যমন্ত্রী দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেন, ত্রিপুরায় গত ২৩ মাসের সরকার শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতিতে ২১টি নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে৷ অথচ বিগত ২৫ বছরের সরকার তা ভাবতেও পারেনি৷ উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ত্রিপুরায় এনসিইআরটি-র সিলেবাস চালু হয়েছে৷ বর্তমান সরকার গুণগত শিক্ষার জন্য পাশ-ফেল প্রথা চালু করেছে৷ তাছাড়া বর্তমানে কেন্দ্রীয়ভাবে পরীক্ষা, শিক্ষক অভিভাবক আলোচনা ইত্যাদির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে৷
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, বর্তমান সরকার গত ২৩ মাসে ৩০টি নতুন সুকল, ২৮টি বাংলা মাধ্যম সুকলে ইংরেজি মাধ্যমে পঠন পাঠন চালু, ২৫ জনের কম এমন কয়েকটি বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের এক করে একটি বড় বিদ্যালয়ে আনার ব্যবস্থা করেছে৷ সাথে তিনি যোগ করেন, ছাত্রছাত্রীদের আসা-যাওয়ার অসুবিধা দুর করতে পরিবহণ খরচও দেওয়া হচ্ছে৷ তিনি বলেন, শিক্ষাবর্ষ বদলে এপ্রিল থেকে মার্চ করা হয়েছে৷ যাতে ছাত্রছাত্রীরা জাতীয়স্তরে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারে৷ তিনি আরও বলেন, যে সব ছাত্রছাত্রী ষাণ্মাষিক পরীক্ষায় ভালো ফল করেনি তাদের মূল পরীক্ষার আগে ৩০ দিনের বিশেষ ক্লাশ করানো হচ্ছে৷
মুখ্যমন্ত্রী এদিন দৃঢ়তার সাথে বলেন, এই সরকার দলবাজির সরকার নয়৷ সব-কা সাথ সব-কা বিকাশে বিশ্বাসী এই সরকার৷ শিক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াও নানাদিক দিয়ে মানুষের হিতে কাজ করছি আমরা৷ যার সুফল থেকে বাদ নেই কল্যাণপুরবাসীও৷ তিনি বলেন, ইতিমধ্যে কল্যাণপুরে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় ৩৩৭টি ঘর দেওয়া হয়েছে৷ স্বচ্ছ ভারতে ২,০৮৩টি শৌচালয় নির্মাণ করা হয়েছে এই এলাকায়৷ অন্য প্রকল্পে আরও ৮০০টি শৌচালয় নির্মাণেরও কাজ হচ্ছে৷ তাঁর দাবি, ২০১৯-২০ অর্থবছরে রেগায় শ্রমদিবস বাড়িয়ে ৪ লাখ ৩২ হাজার ৩২৯ করা হয়েছে৷ আয়ুষ্মান ভারতে কল্যাণপুরে ইতিমধ্যে ১০,০০০ কার্ড হয়েছে৷ এলাকার ২,১৫৪টি পরিবার পিএম কিষাণ যোজনায় তিন কিস্তিতে ৬,০০০ টাকা পেয়েছে৷ উজ্বলা গ্যাস যোজনায় এই এলাকার ৫,৩১৫ পরিবার গ্যাস পেয়েছে৷ এলাকার ৭-টি স্থানে ডিপটিউবওয়েল এবং ৪-টি স্থানে নদী ভাঙন রোধের কাজ হয়েছে৷
আদর্শ গ্রাম যোজনায় কল্যাণপুরের দুর্গাপুর এবং কমলনগর গ্রামকে বেছে নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন৷
এদিন তিনি বলেন, আগামীদিনে কল্যাণপুরবাসী পেয়ে যাবেন ৩০ শয্যা বিশিষ্ট প্রাইমারি হেলথ সেন্টার৷ তাঁর দাবি, বর্তমান সরকার জনগণের সরকার৷ জনগণের সুবিধার্থে এই সরকার বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে৷ আগামীদিনে যার ফল আরও বেশি করে রাজ্যবাসী পাবেন৷

