ছয়টি অজগরের মাংস ভক্ষণ! অপরাধীদের খোঁজে তল্লাশি জোর কদমে, জানান ডিএফও

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১১ ফেব্রুয়ারী৷৷এক-দুটি নয়, ছয়টি অজগর ধরে খোলাবাজারে কেটে বিক্রি এবং ভক্ষণের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা যায়নি৷ তবে, ১-২ দিনের মধ্যে এর সাথে যুক্তদের পাকড়াও করা সম্ভব হবে, দাবি করেছেন উত্তর ত্রিপুরার ডিভিশনাল ফরেস্ট অফিসার (ডিএফও) ড় নরেশবাবু এন৷ তাঁর দাবি, কাঞ্চনপুর মহকুমার প্রত্যন্ত গ্রামে ওই ঘটনা ঘটেছে৷ ফলে কাউকেই সঠিকভাবে চিহ্ণিত করা যাচ্ছে না৷ তাছাড়া, গ্রামবাসীরাও সহযোগিতা করছেন না বলে দাবি করেছেন ডিএফও৷


প্রসঙ্গত, উত্তর ত্রিপুরা জেলার কাঞ্চনপুর মহকুমার জম্পুই-এর সিমলং এলাকায় ছয়টি অজগর কেটে খোলা বাজারে বিক্রির ভিডিও এবং ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে৷ কারণ ওই ভিডিওয় দাবি করা হয়েছে, অজগরের মাংস কেজি প্রতি ১,০০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে৷ সে-মোতাবেক ১ কুইন্টাল ৫০ কেজি অজগরের মাংস বিক্রি হয়েছে৷ সিমলং এলাকাটি মিজোরাম সীমান্ত লাগোয়া হওয়ায় বিভিন্ন জীব-জন্তুর মাংস বিক্রি এবং পাচারের ঘটনা প্রায়ই প্রকাশ্যে আসে৷ সম্প্রতি, কাঞ্চনপুর মহকুমায় মিজোরামে পাচারের জন্য বহুসংখ্যক সারমেয় নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের জালে ধরা পড়েছিল৷


উত্তর ত্রিপুরার ডিএফও-র কথায়, অজগরের মাংস বিক্রির ছবি ও ভিডিও আমরা সংগ্রহ করেছি৷ সে-মোতাবেক ওই এলাকা পরিদর্শন এবং স্থানীয়দের সাথে জিজ্ঞাসাবাদও হয়েছে৷ কিন্তু কারা অজগরের মাংস বিক্রি করেছেন, গ্রামবাসীরা সে-বিষয়ে মুখ খুলছেন না৷ গ্রামবাসীরা সাফ জানিয়েছেন, তারা কিছুই জানেন না৷ ফলে, প্রকৃত বিক্রেতাদের খুঁজে বের করতে সময় লাগছে৷ তাঁর দাবি, বিক্রেতার পাশাপাশি অজগরের মাংসের ক্রেতাদেরও খোঁজা হচ্ছে৷ কারণ, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনের অধীনে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েই অপরাধী৷


তিনি বলেন, সিমলং এলাকা ত্রিপুরার প্রত্যন্ত গ্রাম৷ মিজোরামের সীমান্ত লাগোয়া হওয়ায় সেখানে প্রতিনিয়ত নজরদারি রাখা কিছুটা মুশকিল৷ তাছাড়া, ওই অজগরের মাংস কোনও বাজারে বিক্রি হয়নি৷ খোলা বাজারে বিক্রি না হওয়ায় নির্দিষ্ট স্থান এবং বিক্রেতাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না৷ তাঁর দাবি, ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মামলা করা হয়েছে৷ অপরাধীদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে৷ পাশাপাশি, ওই ভিডিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে, আদৌ ঘটনাটি ত্রিপুরায় ঘটেছে না-কি অন্যত্র হয়েছে তা যাচাইয়ের কাজ চলছে৷ তাঁর আরও দাবি, ১-২ দিনের মধ্যে দোষীদের গ্রেফতার এবং প্রকৃত রহস্য ভেদ করা সম্ভব হবে৷
ডিএফও-র কথায়, এ ধরনের ঘটনা এড়াতে জনসচেতনতা খুবই জরুরি৷ তবেই বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে৷