প্রকৃতিকে অগ্রাহ্য করে উন্নয়ন সর্বনাশ ডেকে আনবে : উপমুখ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১১ ফেব্রুয়ারী৷৷ প্রকৃতিকে বাদ দিয়ে উন্নয়ন সম্ভব নয়৷ কারণ, প্রকৃতিকে অগ্রাহ্য করে উন্নয়ন সর্বনাশ ডেকে আনবে৷ মঙ্গলবার শহিদ ভগৎ সিং যুব আবাসে ন্যাচার অ্যাক্টিভিটি ক্যাম্প ফর চিলড্রেন শীর্ষক চারদিনব্যাপী ক্যাম্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা করে এ-কথা বলেন ত্রিপুরার উপমুখ্যমন্ত্রী তথা বিজ্ঞান প্রযুক্তি ও পরিবেশ দফতরের মন্ত্রী জিষ্ণু দেববর্মা৷ তাঁর কথায়, প্রকৃতি আমাদের রক্ষা করে, তাই প্রকৃতিকে রক্ষা করাটাও আমাদের দায়িত্ব৷ তাঁর মতে, প্রকৃতিকে জানতে হবে৷ তবে শুধু বই পড়ে জানলে হবে না৷ প্রকৃতিকে জানতে হলে তাকে রক্ষা করার উপায় জানা খুবই দরকার৷ সে জন্যই এই শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন৷


তিনি বলেন, এই শিবিরে ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা প্রকৃতি সম্পর্কে টানা চারদিন সম্যক ধারণা লাভ করবে৷ প্রশিক্ষকরা তাঁদেরকে প্রকৃতি সম্পর্কে জ্ঞান দেবেন৷ মুনি ঋষিদের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, পৃথিবীতে যা কিছু উৎপন্ন হয়, যা কিছু সৃষ্টি হয় সব প্রকৃতির দান৷ তাই আমরা প্রকৃতিকে সৃষ্টির উৎস বলি৷ কারণ, প্রকৃতিই হল জগতের মাতা৷


উপমুখ্যমন্ত্রী বলেন, ইন্টারনেটের মাধ্যমে আমরা অনেক কিছু জানতে পারি, কিন্তু বুঝি কম৷ জানা ও বোঝার মধ্যে পার্থক্য আছে৷ তাঁর মতে, হিমালয় পর্বতকে বই দেখে যে কেউ বর্ণনা করতে পারেন৷ কিন্তু হিমালয় পর্বত নিজের চোখে দেখাটা আলাদা অভিজ্ঞতা৷ তিনি বলেন, জানা ও বোঝার মধ্যে অনেক তফাৎ রয়েছে৷ তাঁর দাবি, প্রকৃতি সম্পর্কে না জানলে সমাজ গঠন, রাষ্ট্রগঠন কোনও কিছুই সম্ভব নয়৷ এজন্য প্রত্যেক শিশুকে প্রকৃতি সম্পর্কে সচেতন করা প্রয়োজন৷


তাঁর কথায়, প্রকৃতি না বাঁচলে কোনও ধরনের উন্নয়ন সম্ভব নয়৷ প্রকৃতিকে অগ্রাহ্য করে উন্নয়ন সর্বনাশ ডেকে আনবে৷ তিনি বলেন, গোটা পৃথিবী এখন উষ্ণায়ন নিয়ে চিন্তিত৷ কিন্তু, প্রকৃতির প্রতি সুবিচার করলে উষ্ণায়নের আতঙ্কে ভুগতে হবে না৷ তাঁর দাবি, যত আবিষ্কারই হোক তা প্রকৃতিকে বাদ দিয়ে নয়৷ বিজ্ঞানের আধার, সংসৃকতির আধার সবই প্রকৃতি৷ তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, মানুষ পুরোপুরি প্রকৃতির উপর নির্ভরশীল৷ প্রকৃতিতেই আমাদের জন্ম, প্রকৃতিতেই বসবাস করতে হবে৷ তাই প্রকৃতি সম্পর্কে জানতে হবে৷ প্রকৃতির চেয়ে বড় শিক্ষক কেউ হতে পারে না, বলেন তিনি৷