নিজস্ব প্রতিনিধি, বিলোনীয়া, ১০ ফেব্রুয়ারী৷৷ পূর্ত ঘোটালায় অভিযুক্ত প্রাক্তন বিভাগীয় মন্ত্রী তথা বিরোধী উপনেতা বাদল চৌধুরী সোমবার তাঁর খাসতালুকে যান৷ দীর্ঘদিন পর বিলোনিয়াবাসী বাদল চৌধুরীকে কাছে পেয়ে উন্মাদনায় ভেসেছেন৷ তিনি সুর চড়িয়ে বলেন, ভারতের সংবিধানকে এক ইঞ্চিও পরিবর্তন করতে দেব না৷ বামপন্থী ছাত্র-যুব সংগঠন ডিওয়াইএফআই এবং টিওয়াইএফ-এর ১১ দফা দাবিতে মিছিল ও জমায়েত কার্যত বাদল চৌধুরীর ঘরে ফেরার কর্মসূচিতে পরিণত হয়৷
স্বদলীয়দের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে বাদল চৌধুরীকে৷ তাই জামিনে মুক্তি পেয়ে প্রথমবারের মতো বিলোনিয়ায় পা রাখতেই তাঁকে সিপিএম মহকুমা পার্টি অফিসে পুষ্পবৃষ্টিতে স্বাগত জানানো হয়েছে৷ সেখানে বাম ছাত্র যুব সংগঠন ও অন্যান্য বাম সংগঠন সংর্বধনা জানায় তাঁকে৷ বাদল চৌধুরীর জন্য আজ মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে৷
সংর্বধনা শেষে সোমবার বেলা বারোটা নাগাদ ১১ দফা দাবি আদায়ে পথে নামে বাম যুব সংগঠন৷ সিপিআই (এম) বিলোনিয়া মহকুমা অফিসের সামনে থেকে মিছিলটি শুরু হয়৷ এনআরসি ও নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বাতিল করা, সরকারি প্রতিষ্ঠানে চুক্তির ভিত্তিতে নিয়োগ বন্ধ করা, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের সমস্ত শূন্য পদ পূরণ করা-সহ ১১ দফা দাবির আওয়াজ ওঠে মিছিল থেকে৷ ছাত্র যুবা ও সাধারণ অংশের নারী পুরুষের সাথে মিছিলে পা মিলিয়েছেন ডিওয়াইএফআই রাজ্য সভাপতি নবারুণ দেব, টিওয়াইএফ রাজ্য সভাপতি অমেলেন্দু দেববর্মা, গণমুক্তি পরিষদের সভাপতি জিতেন্দ্র চৌধুরী, সিপিএম রাজ্য কমিটির সদস্য নারায়ণ কর-সহ অন্যান্য গণ-সংগঠনের নেতৃত্ব৷ এছাড়া মিছিলে হুড খোলা গাড়িতে ছিলেন বিরোধী উপনেতা বাদল চৌধুরী৷
মিছিল শেষে সভায় গণমুক্তি পরিষদের সভাপতি জিতেন্দ্র চৌধুরী প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, অমিত শাহকে দেশদ্রোহী আখ্যা দিয়ে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন৷ এদিন বিরোধী উপনেতা বাদল চৌধুরী বলেন, লড়াই শুরু হয়েছে৷ ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে, স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে৷ তাঁর দাবি, কঠিন লড়াইয়ের মধ্য থেকে দেশ, দেশের গণতন্ত্র এবং সংবিধানকে রক্ষা করতে হবে৷ তিনি জোর গলায় বলেন, ভারতের সংবিধানকে এক ইঞ্চি পরিবর্তন করতে দেবো না৷ এদিন ভিজন ডকুমেন্টের উল্লেখ করে বাদলবাবু বলেন, ২ বছরে যা প্রতিশ্রুতি পালন করেছে তার শ্বেত পত্র প্রকাশ করুক বিজেপি-আইপিএফটি জোট সরকার৷

