নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা /খোয়াই, ১০ ফেব্রুয়ারি ৷৷ পণের দায়ে গৃহবধূ নির্যাতন ও হত্যার ঘটনা উপর্যুপরি বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে৷ অগ্ণিদগ্দ দুই গৃহবধূ চিকিৎসাধীন অবস্থায় জিবি হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে৷ তারা হল অভয়নগরের গৃহবধূ সুষমা দেবনাথ এবং কাশিপুরের সংখ্যালঘু পরিবারের গৃহবধূ ইয়াসমিন আক্তার৷ দুটি ক্ষেত্রেই থানায় সুনির্দিষ্ট মামলা দায়ের করা হয়েছে৷ এদিকে, শ্লীলতাহানির মামলায় অভিযুক্ত যুবক জেল থেকে বেরিয়ে আসতেই খুন হয়েছে৷ এই খুনের ঘটনা খোয়াইয়ের মহাবীর চৌমুহনিতে৷
রাজ্য সরকার নারী নির্যাতন, গৃহবধূ হত্যা, ধর্ষণ সহ অন্যান্য বিষয়ে কঠোর মনোভাব গ্রহণ করার জন্য নির্দেশ দিলেও এইসব সামাজিক অপরাধ বন্ধ করা যাচ্ছে না৷ প্রতিনিয়তই নারী নির্যাতন, ধর্ষণ সহ সামাজিক অপরাধপ্রবণতা বেড়ে চলেছে৷ জিবি হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, অগ্ণিদগ্দ দুই গৃহবধূর চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে৷ তাদের মধ্যে একজন রাজধানী আগরতলা শহর এলাকার অভয়নগরের অপরজন কাশিপুরের৷
অভয়নগর পশু হাসপাতাল সংলগ্ণ এলাকা গৃহবধূ সুষমা দেবনাথকে গায়ে কেরোসিন ঢেলে অগ্ণিদগ্দ করে তার স্বামী৷ তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জিবি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল৷ কিন্তু শেষ রক্ষা করা যায়নি৷ চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে গৃহবধূ সুষমা৷ সুষমার বোন সোমা দেবনাথ জানান, মাত্র ৭ মাস আগে সামাজিক প্রথায় সিধাই মোহনপুরে সুষমার বিয়ে হয়েছিল অভয়নগরের রাজীব দাসের সঙ্গে৷ বিয়েতে পাত্র পক্ষের দাবি অনুযায়ী নগদ টাকা স্বর্ণালঙ্কার সহ যাবতীয় আসবাবপত্র মিটিয়ে দেওয়া হয়েছিল৷ কিন্তু তাতে তাদের খাই মেটেনি৷ গৃহবধূর উপর তার স্বামী প্রতিনিয়ত নির্যাতন চালিয়ে আসছিল৷ এরই শেষ পরিণতি ঘটে অগ্ণিদগ্দ হয়ে গৃহবধূর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে৷ জানা যায়, গৃহবধূ সুষমা পাচ মাসের অন্তসত্ত্বা ছিল৷ এ ব্যাপারে তার বাপের বাড়ির পক্ষ থেকে অভিযুক্ত স্বামী রাজীব দাসের বিরুদ্ধে আগরতলা পূর্ব মহিলা থানায় মামলা দায়ের করা হয়৷ পুলিশ ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত স্বামী রাজীব দাসকে গ্রেপ্তার করেছে৷ বর্তমানে সে জেল হাজতে৷ মৃতার বাপের বাড়ির লোকজনরা তার কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন৷
পনের দায়ে গৃহবধূ নির্যাতনের ঘটনা ঘটে চলেছে সংখ্যালঘু পরিবারগুলির মধ্যেও৷ কাশিপুরের আব্দুল আহাদ ভুঁইয়া সঙ্গে ১৫ মাস আগে সামাজিক প্রথায় বিয়ে হয়েছিল নন্দননগর এলাকার ইয়াসমিন আক্তারের৷ গত ৬ ফেব্রুয়ারি পনের দায়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের গৃহবধূ ইয়াসমিনের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনরা৷ এ ব্যাপারে থানায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে৷ জিবি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গৃহবধূ ইয়াসমিন আকতারের মৃত্যু হয়েছে৷ মৃত গৃহবধূর মামা অভিযোগ করেছেন, সুনির্দিষ্ট মামলা দায়ের করার পরও পুলিশ এখনও পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি৷ রাজ্য সরকার যখন নারী নির্যাতন বন্ধ করতে কঠোর ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছে তখনও এ ধরনের ঘটনা ক্রমাগত বৃদ্ধি রীতিমতো উদ্বেগজনক৷ শুধুমাত্র আইন প্রয়োগ করেই এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়৷
শ্লীলতাহানির মামলায় অভিযুক্ত যুবকের রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে৷ খোয়াই-তেলিয়ামুড়া সড়কে মহাবীর চৌমুহনি এলাকায় ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় ওই যুবকের দেহ পুলিশ উদ্ধার করেছে৷ তার শরীরে কোনও কাপড় ছিল না৷ মৃতদেহের পাশে সড়কে প্রচুর রক্তের ছাপ পেয়েছে পুলিশ৷
সোমবার সকালে সোনাতলা গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা রান্টু দেব (৩১)-এর রক্তাক্ত মৃতদেহ মহাবীর চৌমুহনি এলাকায় সড়কে পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় জনগণ৷ সঙ্গে সঙ্গে খোয়াই থানায় খবর দেওয়া হয়৷ পুলিশ এসে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য খোয়াই হাসপাতালে পাঠিয়েছে৷
মৃতের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, গতকাল দুপুর ৩টা নাগাদ বাড়ি বেরিয়েছিল রান্টু৷ আর বাড়ি ফিরে যায়নি৷ বাড়ি থেকে প্রায় ১ কিমি দূরে তার মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে৷ খোয়াই থানার পুলিশ জানিয়েছে, তার মাথায় এবং পিঠে প্রচুর আঘাতের চিহ্ণ রয়েছে৷ তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছে৷
পুলিশ আরও জানিয়েছে, রান্টু শ্লীলতাহানির মামলায় অভিযুক্ত ছিল৷ ছয় মাস জেল হেফাজতে থাকার পর সম্প্রতি জামিনে ছাড়া পেয়েছিল৷ সোমবার ও মঙ্গলবার ওই মামলায় আদালতে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হওয়ার সূচি নির্ধারিত ছিল৷ তার আগেই রান্টুর মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মামলা নতুন মোড় নিয়েছে বলা যেতে পারে৷ মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এখন পর্যন্ত মৃতের পরিবারের তরফে কোনও মামলা হয়নি৷ তবে, পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে৷

