নিজস্ব প্রতিনিধি, চুড়াইবাড়ি, ২৮ ডিসেম্বর৷৷ অবশেষে নাবালিকা শ্লীলতাহানি অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তির দাবি, নির্যাতিতা নাবালিকার পরিবারের নিরাপত্তা ও নাবালিকা পরিবারকে প্রলোভন ও হুমকিতে মামলা প্রত্যাহারের অভিযুক্তদের শাস্তির দাবি চেয়ে সরব হল গ্রামবাসী৷১০০ জনের একটি প্রতিনিধিদল প্রথমে নির্যাতিতার বাড়িতে গিয়ে নির্যাতিতার পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং তাদের সাথে আছেন বলেও আশ্বস্ত করেন৷তারপর বাগবাসা পুলিশ ফাঁড়িতে প্রতিনিধিদলটি লিখিতভাবে নির্যাতিতার পরিবারের নিরাপত্তা, অভিযুক্ত শিক্ষককে পুনরায় গ্রেফতার করে শাস্তি প্রদান ও শিক্ষককে বাঁচাতে দুই বিজেপি নেতার তদন্তক্রমে শাস্তির দাবি জানিয়ে ডেপুটেশন প্রদান করেন৷

ঘটনার বিবরণে প্রকাশ,গত ২৩ নভেম্বর বাগবাসা বিধানসভা কেন্দ্রের গঙ্গানগর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর এক সুকলছাত্রীকে ডেকে নিয়ে পাশের ক্লাসরুমে শ্লীলতাহানি করেন সুকলের শিক্ষক নুরুল ইসলাম৷নাবালিকা সুকল ছাত্রী বাড়িতে পৌঁছে মা বাবার কাছে ঘটনাটি খুলে বলে৷ তারপর ২৫ নভেম্বর সুকলে ওই গুণধর শিক্ষক আসার পর গ্রামবাসীরা শিক্ষক নুরুল ইসলামকে উত্তম-মধ্যম দিয়ে ঘটনাটি সুবিচার চেয়ে বাগবাসা ধর্মনগর সরক অবরোধ করে বসেন৷পাশাপাশি নির্যাতিতার মা ধর্মনগর মহিলা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন৷
নির্যাতিতা নাবালিকার মায়ের অভিযোগ পেয়ে পুলিশ গঙ্গানগর সুকলে পৌঁছে নুরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে৷কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে পাঁচ দিনের মাথায় আদালতে চার্জশীট জমা হয়ে যায়৷ জামিনে বেরিয়ে আসে গুণধর শিক্ষক নুরুল ইসলাম৷ তারপর গত ৯ ডিসেম্বর বিকেল বেলা বাগবাসা বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি মন্ডল সভাপতি সুদীপ দেব এবং মন্ডল সম্পাদক অকিল শুক্লবৈদ্য নির্যাতিতার মায়ের সাথে বাগবাসা স্থিত মিশন টিল্লা বাজারে দেখা করতে বলেন৷ নির্যাতিতার মা মিশন টিল্লা বাজারে মন্ডল সভাপতি সুদীপ দেব ও মন্ডল সম্পাদক অখিল শুক্ল বৈদ্যের সাথে দেখা করলে উনারা মামলাটি প্রত্যাহারের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন এমনটা নির্যাতিতা নাবালিকার মায়ের অভিযোগে৷
মন্ডল সভাপতি সুদীপ দেব ও সম্পাদক অখিল শুক্লবৈদ্য নির্যাতিতার পরিবারের উপর চাপ সৃষ্টি করে বলেন মামলাটি তুলে নিলে তাদের মোটা অঙ্কের টাকা দেওয়া হবে৷অন্যতায় এর পরিমাণ ভুগতে হবে নাবালিকার পরিবারকে৷ নির্যাতিতার মা মন্ডল সভাপতি ও সম্পাদকের অর্থের প্রলোভন ও হুমকির পড়ুয়া না করে গত ২৩ ডিসেম্বর ঘটনাটি সবিস্তারে রাজ্যের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব মহোদয়ের কাছে পোস্ট অফিস মারফত চিঠি দিয়ে প্রেরণ করেন৷ কিন্তু দুই বিজেপি নেতার এহেন কর্মকাণ্ডে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে ভেঙ্গে পড়ে নির্যাতিতার পরিবারটি৷নাবালিকা মেয়েটিও ভয়ে সুকলে যেতে পারছে না৷ মা অথবা বাবাকে নিয়ে কোনভাবে পরীক্ষায় বসছে কিন্তু প্রতিদিন সুকলে আসা যাওয়া বন্ধ হয়ে গিয়েছে ওই নাবালিকার৷তবে এসকল অভিযোগ ডাহা মিথ্যা ও বিরোধীদের চক্রান্ত বলে দাবি মন্ডল সভাপতি সুদীপ দেব৷
এদিকে মন্ডল সভাপতি ও মন্ডল সম্পাদক শ্লীলতাহানীর অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষক নুরুল ইসলামকে বাঁচাতে মাঠে নামায় বাগবাসা বিধানসভা কেন্দ্রে জনগণ ক্ষোভে ফুঁসছেন৷ অবশেষে বাগবাসা বিধানসভা কেন্দ্রের ৫ টি গ্রামের অর্থাৎ উত্তর গঙ্গানগর, দক্ষিণ গঙ্গানগর, বাগবাসা, শনিছড়া ও কামেশ্বর গ্রাম থেকে ১০০ জনের একটি প্রতিনিধি দল নির্যাতিতা নাবালিকার বাড়িতে যান৷ নির্যাতিতা বাড়িতে গিয়ে নির্যাতিতার মায়ের সাথে সবিস্তারে আলোচনা করেন৷ এমনকি সর্বদা নির্যাতিতার পরিবারের সাথে আছেন বলেও গ্রামবাসীরা জানান৷ গ্রামবাসীদে বক্তব্য,গুণধর শিক্ষক নুরুল ইসলামকে পুনরায় গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তি প্রদান প্রদান করা৷
মন্ডল সভাপতি সুদীপ দেব ও সম্পাদক অখিল শুক্ল বৈদ্যের ধারা নির্যাতিতার পরিবারকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য টাকার প্রলোভন প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে তার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তদন্তক্রমে মন্ডল সভাপতি ও সম্পাদকের শাস্তির দাবি জানান৷ এলাকাবাসী জানান যারা রক্ষক তারাই ভক্ষকের ভূমিকা পালন করছে৷ পাশাপাশি নির্যাতিতার পরিবারের নিরাপত্তা দাবি জানান এলাকাবাসী৷ এলাকাবাসী আরও জানান আগামী দিনে উনারা উত্তর জেলার পুলিশ সুপারের দ্বারস্থ হবেন৷ প্রয়োজন পড়লে বৃহত্তর আন্দোলন সংগঠিত করবেন৷নির্যাতিতার পরিবারের খোঁজখবর নিয়ে এলাকাবাসী বাগবাসা পুলিশ ফাঁড়িতে লিখিত আকারে একটি ডেপুটেশন মিলিত হন৷ নির্যাতিতার পরিবারের নিরাপত্তা, অভিযুক্ত শিক্ষক নুরুল ইসলামকে পুনরায় গ্রেফতার করে শাস্তি প্রদান করা ও মন্ডল সভাপতি সুদীপ ও সম্পাদক অখিল শুক্ল বৈদ্যের শাস্তির দাবি জানান৷
এদিকে বাগবাসা পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক দিপাল রুদ্র পাল গ্রামবাসীকে আশ্বস্ত করেন যে, বিষয়টুকু উনার উর্দতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করবেন এবং বিষয়টুকু উনারা যত্ন সহকারে দেখবেন৷ তবে বাগবাসা বিধানসভা কেন্দ্রের মন্ডল সভাপতি সুদীপ দেব ও সম্পাদক অখিল শুক্ল বৈদ্য গুণধর শিক্ষক নুরুল ইসলামকে বাঁচাতে মাঠে নামার পর গোটা বাগবাসা বিধানসভা জুড়ে বিজেপি কর্মী সমর্থকদের মধ্যে তীব্র গুঞ্জন শুরু হয়ে গেছে৷আগামী দিনে তা দলীয় ভাঙ্গনে বহিঃপ্রকাশ পাবে৷ পাশাপাশি এখন দেখার বিষয় পুলিশ প্রশাসন কি ভূমিকা গ্রহণ করে৷

