ধোঁপে টেকেনি কংগ্রেসের ‘চালানি’ ‘বহিরাগত’ ‘এনআরসি’ ‘ক্যাব’ ইস্যু, বিজয়ের ওপর‌ই ভরসা রাখলেন রাতাবাড়ির মানুষ

করিমগঞ্জ (অসম), ২৪ অক্টোবর (হি.স.) : ‘চালানি’ ‘বহিরাগত’ ‘প্রতারক’ ইত্যাদি কতই-না ইস্যু তুলেছিলেন কংগ্রেসের নেতারা। কিন্তু বিজেপিকে রুখতে বিরোধীদের সবধরনের প্রচেষ্টা নস্যাৎ করে দিয়েছেন রাতাবাড়ির ৬৮,৪৫৫ মানুষ। তাঁদের ভোটে প্রত্যাশিত জয় পেয়েছে বিজেপি। এনআরসি, নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল, তেজপুর ডিটেনশন ক্যাম্পে দুলাল পালের মৃত্যুকেও ইস্যু করেছিল কংগ্রেস, কোনও পাত্তাই দেননি রাতাবাড়ির সচেতন ভোটাররা।

২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী তথা বর্তমান সাংসদ কৃপানাথ মালাহের প্রাপ্ত ভোট ৫৪ হাজারের সংখ্যা অতিক্রম করে এবার ৬৮ হাজার ৪৫৫ ভোট পেয়ে নয়া ইতিহাস রচনা করেছেন বিজয় মালাকার। কেশব প্রসাদ রজকের ভাগ্যে জুটেছে ৪৪ হাজার ৪৫৪টি ভোট। এসইউসিআই প্রার্থী বীরেন্দ্র রবিদাস ৯৪৪, নির্দল প্রার্থী পরীক্ষিত রায় পেযেছেন ৬৬০টি ভোট। উল্লেখযোগ্য ভাবে নোটায় পড়েছে ১২২৭টি ভোট। ভোট নষ্ট হয়েছে ১০টি। বিজেপি প্রার্থী বিজয় মালাকার ২৪ হাজার ১ ভোটের ব্যবধানে কংগ্রেস প্রার্থী কেশব প্রসাদ রজককে পরাজিত করে রাতাবাড়ির বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার সকাল সাতটায় প্রার্থীদের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে করিমগঞ্জ কলেজের স্ট্রং রুম খোলা হয়। আটটায় আনুষ্ঠানিকভাবে গণনা প্রক্রিয়া শুরু হয়। রাতাবাড়ি বিধানসভা ক্ষেত্রের ভৈরবনগর এলাকা থেকে গণনাকার্য শুরু হয়। প্রথম রাউন্ডের গণনা শেষে কংগ্রেস প্রার্থী কেশব প্রসাদ রজক ৫০৭ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে যান। এর পর থেকে গণনার শেষ পর্যন্ত কংগ্রেসের ভোট ক্রমশ নিম্নগামী হতে থাকে। একবারের জন্য‌ও কংগ্রেস প্রার্থী কেশব প্রসাদ রজক প্রতিদ্বন্দ্বীতায় মাথা তুলতে পারেননি। গণনাকার্য এগিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে বিজেপি প্রার্থী বিজয়ের জয়ের সম্ভাবনা প্রবল হতে থাকে। দশম রাউন্ড গণনার পর‌ হতাশাগ্রস্ত কংগ্রেসের এজেন্টগণ গণনাকেন্দ্র থেকে ধীরে ধীরে বেরিয়ে যেতে শুরু করেন। দলীয় বিধায়ক কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থকে সমস্ত দিনের মধ্যে একবারের জন্যও গণনা কেন্দ্রে দেখা যায়নি।

এদিকে বিজয়ের বিজয় নিশ্চিত হতেই গণনাকেন্দ্র করিমগঞ্জ কলেজের সামনে আন্তর্জাতিক জাতীয় সড়কে দলীয় নেতা কর্মী সমর্থকরা জমায়েত হতে থাকেন। রাতাবাড়িতে বিজয়ের আনন্দে “জয় শ্রীরাম”, “ভারত মাতা কি জয়”, “নরেন্দ্র মোদী জিন্দাবাদ”, “অমিত শাহ জিন্দাবাদ”, “হিমন্তবিশ্ব শর্মা জিন্দাবাদ” ইত্যাদি ধ্বনিতে সমগ্র এলাকা মুখরিত করে তুলেন দলীয় কর্মী সমর্থকরা। শুরু হয়ে যায় আবির খেলা, বাজি পোড়ানো। একসময় বিজয় মালাকার‌ও বিজয় উল্লাসে শামিল হতে রাস্তায় বেড়িয়ে পড়েন। কর্মী সমর্থকরা বিজয়কে পেয়ে দ্বিগুণ আনন্দে বিজয়োল্লাসে মেতে ওঠেন। বেলা দেড়টা নাগাদ বিজয়ের জয় সুনিশ্চিত হতেই কলেজের সম্মুখস্থল জনসমুদ্রের রূপ নেয়। সরকারিভাবে জয় ঘোষণার পর দলীয় নেতা, কর্মী, সমর্থকরা নবনির্বাচিত বিধায়ক বিজয় মালাকারকে বিশাল মিছিলের মাধ্যমে শহরের দলীয় সদর কার্যালয়ে নিয়ে যান।

প্রদেশ বিজেপি-র উপ-সভাপতি বিশ্বরূপ ভট্টাচার্য, জেলা সভাপতি সুব্রত ভট্টাচার্য, সহ-সভাপতি মানস দাস,  সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণ দাস, কোষাধ্যক্ষ দেবজ্যোতি রায়, সাংসদ কৃপানাথ মালাহ, পাথারকান্দির দলীয় বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু পাল, শিপ্রা গুন, ইকবাল হুসেন, সুদীপ চক্রবর্তী, নির্মল বণিক, যুবমোর্চার জেলা সভাপতি অমিত পাল, সহ-সভাপতি রাজন সাহা সরদার-সহ দলের বিভিন্ন স্তরের পদাধিকারীগণ এই বিজয় মিছিলে শামিল হন। বিকাল চারটা নাগাদ নবনির্বাচিত বিধায়ক বিজয় মালাকারকে নিয়ে এক বিশাল গাড়ির মিছিল রাতাবাড়ির উদ্দেশে র‌ওয়ানা হয়।