নিউইর্য়ক, ২৭ সেপ্টেম্বর (হি.স.) : সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে গোটা বিশ্বকে এক হওয়ার আহ্বান জানালেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শুক্রবার রাষ্ট্রসঙ্ঘের ৭৪তম সাধারণ সভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী হিন্দিতে নিজের বক্তব্যে বলেন, সন্ত্রাসবাদের নামে বিশ্বকে ভাগ করা হচ্ছে। মানবতার খাতিরে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে গোটা বিশ্বকে একজোট হওয়া অবশ্যম্ভাবী। তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশ যুদ্ধ চায় না। ইউএন শান্তি সেনায় ভারতের যোগদান সর্বোচ্চ। তাই আজও গান্ধীজী বিচারধারা খুবই প্রাসঙ্গিক। তিনি দেশের স্বচ্ছ ভারত অভিযানে র পাশাপাশি নো মোর সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক ও স্বাস্থ্য বীমার কথাও উল্লেখ করেন।

এদিন ভারতীয় সময় শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে শুরু হয় সাধারণ সভার অধিবেশন। মরিশাস, ইন্দোনেশিয়া এবং লেসোথোর রাষ্ট্রনায়কের পরে চার নম্বরে ভাষণ দিতে ওঠেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। রাষ্ট্রসঙ্ঘে ৭৪তম সাধারণ সভায় নিজের বক্তব্য ১৩০ কোটি ভারতবাসীর জন্য তিনি গৌরব বোধ করেন বলেও জানান। তিনি আরও বলেন, ২০২৫ সালের মধ্যে ভারত টিবি মুক্ত করার লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে। শান্তির বার্তা থেকে সন্ত্রাসবাদ দমন, প্লাস্টিক বর্জন থেকে জল সংরক্ষণ, শিবজ্ঞানে জীবপুজো সবই উঠে এল এদিন প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে। রাষ্ট্রপুঞ্জের ৭৪তম সাধারণ সভায় এদিন শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বললেন, “ভারতের তরফে গোটা বিশ্বকে সম্প্রীতি ও শান্তির বার্তা দিচ্ছি। মানবিকতার স্বার্থে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সকলকে একজোট হতে হবে।” সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধেও এদিন নিজের বক্তব্যে একপ্রকার সতর্কবার্তা দিয়েই প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, “রাষ্ট্রপুঞ্জের সন্ত্রাসবাদ বিরোধী মিশনের ভারতীয় শহিদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। সন্ত্রাসবাদ মানবতার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তাই আমাদের কথায সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে গোটা বিশ্বকে সতর্ক করার সুর যেমন রয়েছে, তেমনই সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে আমাদের আক্রোশও রয়েছে। ভারত বিশ্বকে যুদ্ধ নয়, বুদ্ধ দিয়েছে।” বিশ্ব উষ্ণায়ন প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য, “আমরা গ্লোবাল ওয়ার্মিং থামাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছি। গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ে আমাদের ভূমিকা অত্যন্ত কম। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ডিজিটাল আইটেন্টিফিকেশন প্রকল্প এখানে চলছে। এই প্রকল্প গোটা পৃথিবীকে নতুন বার্তা দিচ্ছে। দুর্নীতি কমানো গিয়েছে। ভারতে সিঙ্গল ইউজ প্লাস্টিক মুক্ত করতে প্রকল্প শুরু হয়েছে। এটা গোটা পৃথিবীকে নতুন পথ দেখাচ্ছে। জল সংরক্ষণের জন্য ১৫ কোটি বাড়িকে সংযুক্ত করা হবে।” এদিন তিনি আরও বলেন, “শিবজ্ঞানে জীবপুজো আমাদের ঐতিহ্য। শুধু ভারতের জন্য জন কল্যাণ নয়, আমাদের লক্ষ্য জগৎ কল্যাণ। আমাদের স্লোগান, সবকা সাথ সবকা বিকাশ। গত ৫ বছরে বিশ্ববন্ধুত্ব ও বিশ্বকল্যাণের ঐতিহ্যে গুরুত্ব দিয়েছে।

