নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৪ সেপ্ঢেম্বর৷৷ কয়েকদিন ধরেই গুঞ্জন চলছিল৷ অবশেষে তা বাস্তবে পরিণত হল৷ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন রাজপরিবারের সদস্য প্রদ্যুৎ কিশোর দেববর্মন৷ শুধু সভাপতির পদই নয়, দলের প্রাথমিক সদস্যপদেও ইস্তফা দিয়েছেন তিনি৷ কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে তীব্র মতবিরোধের জেরেই তিনি দল ও প্রদেশ সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন৷
এ-সম্পর্কে প্রদ্যুৎ বলেন, এনআরসি ইস্যুতে কংগ্রেসের সাথে মতানৈক্যের জন্যই দল ও সভাপতি পদ ছেড়ে দিয়েছি৷ তাঁর দাবি, কংগ্রেসের দ্বৈতমানের রাজনীতি বরদাস্ত করা সম্ভব নয়৷ প্রদ্যুতের কথায়, কংগ্রেসের সর্বভারতীয় নেতারা চাইছেন সুপ্রিম কোর্টে আমার দাখিলকৃত এনআরসি মামলা প্রত্যাহার করে নিতে৷ কিন্তু রাজ্যে অবৈধ বাংলাদেশিদের বিতাড়নের দাবির ভিত্তিতে এনআরসি মামলা থেকে সরব না, তার চেয়ে বরং দল ছেড়ে দেওয়াই শ্রেয় মনে করেছি৷ তাই ইস্তফাপত্র দলের সাধারণ সম্পাদকের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি, বলেন তিনি৷

এদিন তিনি বলেন, দেশ ও জাতির সাথে বেইমানি করা সম্ভব নয়৷ অথচ, কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব সে-কথা বুঝতেই চাইছেন না৷ তাঁর কথায়, দেশ থেকে অবৈধ বাংলাদেশিদের বিতারণ করা খুবই জরুরি৷ নইলে, দেশের সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়বে৷ তাঁর অভিযোগ, এনআরসি মামলা থেকে সরে আসার জন্য তাঁকে প্রচণ্ড চাপ দেওয়া হয়েছে৷ দলের সাধারণ সম্পাদক তাঁকে এনআরসি মামলা থেকে সরে না আসলে দল ছেড়ে দিতে বলেছেন৷ তাই, এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে তিনি জানিয়েছেন৷
আজ প্রদ্যুৎ কিশোর নিজের ফেইসবুক এবং টুইটার একাউন্টে নাম না করে কংগ্রেস নেতৃত্বকে চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ করেছেন৷ তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, অনেক দিন বাদে ঘুম থেকে স্বচ্ছন্দ বোধ করছি৷ তিনি আরো লেখেন, আজ দিন শুরু করেছি অপরাধী এবং মিথ্যাবাদীদের কাছ থেকে কিছু না শুনে৷ তিনি দাবি করেন, এখন থেকে আমাকে সহকর্মীরা ল্যাং মারবেন কিভাবে সেই দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত হয়েছি৷ মুক্তি পেয়েছি, দলবাজি এবং অহেতুক সমালোচনা থেকে৷ তাঁর কথায়, হাইকমান্ডের নির্দেশে এখন দুর্নীতিবাজদের প্রশ্রয় দিতে হবে না৷
তিনি লেখেন, আজ সকালে ঘুম থেকে উঠে অনুভব করেছি, সমাজে ভুল বিষয়কে প্রশ্রয় দিতে প্রস্তুত ছিলাম না, তার প্রভাব মারাত্মকভাবে শরীরের উপর পড়েছে৷ অবশ্য সমাজের ভুল বিষয়গুলি আমাদের রাজ্যকে ধবংস করে দিচ্ছে৷ প্রসঙ্গত, সোশ্যাল মিডিয়াতে তাঁর এই বিদ্রোহী বার্তায় রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে৷
গত ২৫ ফেব্রুয়ারি প্রদ্যুৎ কিশোরকে ত্রিপুরার কংগ্রেস সভাপতি পদে দায়িত্ব দিয়েছিল এআইসিসি৷ তাঁর নেতৃত্বেই ত্রিপুরায় লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে কংগ্রেস৷ অবশ্য, কংগ্রেসের সাথে তাঁর দীর্ঘকালের সম্পর্ক রয়েছে৷ ওই পারিবারিক বললেও ভুল হবে না৷তাঁর বাবা মহারাজা কিরীট বিক্রম কংগ্রেসের টিকিটে জয়ী হয়ে লোকসভার সাংসদ হয়েছিলেন৷ তাঁর মা রাজমাতা বিভু কুমারী দেবী ত্রিপুরায় কংগ্রেস-টিইউজেএস জোট সরকারের আমলে মন্ত্রী হয়েছিলেন৷ সাবালক হওয়ার পর প্রদ্যুৎ কিশোরও কংগ্রেস পরিবারের সাথে রাজনীতিতে যোগ দেন এবং দীর্ঘ সময় তিনি ত্রিপুরায় কংগ্রেসের কার্যকরী সভাপতির দায়িত্ব সামলেছেন৷ কিন্তু, এখন এনআরসি ইস্যুতে দলের সাথে মতানৈক্য চরম সীমায় পৌছে যায় এবং তাতে তিনি দল ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ইস্তফা পত্র কংগ্রেস হাইকমান্ডের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছেন৷

