নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৬ জুলাই ৷৷ আজ রাজ্য মন্ত্রিসভায় বৈঠকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে৷ বৈঠকের শেষে সচিবালয়ের প্রেস
কনফারেন্স হলে মন্ত্রিশভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলি সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন শিক্ষা ও আইনমন্ত্রী রতনলাল নাথ৷ সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পরিবহন মন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায় ও বিধায়ক শংকর রায়৷ মন্ত্রিসভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলি উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী রতনলাল নাথ জানান, ত্রিপুরা পাবলিক সার্ভিস কমিশনের টি সি এস ও টি পি এস সার্ভিসে নিয়োগের ক্ষেত্রে পরীক্ষার রুটিনগত বিষয়ে কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়েছে৷ ২০১৯ -২০ থেকে ২০২২-২৩ বছর বর্যন্ত এই সাভিসে নিয়োগের ক্ষেত্রে পরীক্ষা বিষয়ক ক্যালেন্ডার চালু করা হবে৷ এক্ষেত্রে ছাত্র-ছাত্রীরা আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পাবে৷ চলতি বছরে (২০১৮-১৯) টি পি এস সি’র মাধ্যমে রাজ্যে ৩০টি টি সি এস গ্রেড টু ও ১০টি টি পি এস গ্রেড টু পদে নিয়োগের সিদ্ধান্ত আজ মন্ত্রিসভায় গৃহীত হয়েছে৷
শিক্ষামন্ত্রী রতনলাল নাথ জানান, রাজ্যে বর্তমানে ১৫২টি অ্যালোপ্যাথি হাসপাতাল রয়েছে৷ এর মধ্যে ২০টি হাসপাতালে পর্যায়ক্রমে প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় জনঔষধি কেন্দ্র চালু রয়েছে৷ অবশিষ্ট ১৩২ টি হাসপাতালে পর্যায়ক্রমে প্রধানমন্ত্রী জনঔষধি কেন্দ্র চালু করার সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভায় নেওয়া হয়েছে৷ এর ফলে গরীব সহ সকল অংশের রোগীরা উপকৃত হবেন৷ কারণ এই জনঔষধি কেন্দ্রের মাধ্যমে জেনেরিক ঔষধ সরবরাহ করা হয় যার দাম তুলনামুূলক কম৷ এছাড়াও এই সিদ্ধান্তের ফলে বেকারদেরও কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে৷ কারণ নতুনভাবে যে জনঔষধি কেন্দ্রগুলি খোলা হবে তাতে ফার্মাসিস্ট, ডাক্তার ব্যক্তিগত উদ্যোগী, এন জি ও, স্ব-সহায়ক দল, রেজিস্টার্ড মেডিক্যাল, চেরিটেবল সংস্থা, সোসাইটি ইত্যাদি জনঔষধি কেন্দ্র খোলার জন্য আবেদন করতে পারবে৷
শিক্ষামন্ত্রী রতনলাল নাথ সাংবাদিকদের বলেন যে, কিছুদিন যাবৎ রাজ্যে সামাজিক ভাতা সম্পর্কে বিভিন্ন অভিযোগ আসছে৷ আজ রাজ্য মন্ত্রিসভায় সামাজিক ভাতার বিষয়টি পর্যালোচনা করা হয়৷ বর্তমানে রাজ্যে মোট ভাতা প্রাপক রয়েছেন চার লক্ষ ১৯ হাজার ১৮১ জন৷ আজকের মন্ত্রিসভার বৈঠকে ১৫৯ জনকে নতুনভাবে এই সামাজিক ভাতা প্রদান করার বিষয়ে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এর মধ্যে ১২৭ জন ক্যান্সার ও ৩২ জন এইডস রোগী৷ এছাড়াও শ্রীনাথ জানান রাজ্যে সামাজিক ভাতা প্রদানে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ব্যয় হয়েছে ২৭ কোটি ৮১ লক্ষ ৩ হাজার ৫৫০ টাকা, মে মাসে ২৭ কোটি ৯ লক্ষ ১১ হাজার ৩০০ টাকা, জুন মাসে ২৭ কোটি ৬১ লক্ষ দুই হাজার ৩০০ টাকা ব্যয় হয়েছে৷ এছাড়াও তিনি জানান, বর্তমানে ভাতা প্রাপকদের একটি ডাটাবেস তৈরী করা হয়েছে৷
এছাড়াও আজ মন্ত্রিসভার বৈঠকে দুটি অর্ডিন্যান্স আনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে৷ সর্বক্ষেত্রে স্বচ্ছতা আনার লক্ষ্যেই এই অর্ডিন্যাস্টটি আনার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়৷ তিনি বলেন, আধার বিষয় একটি কেন্দ্রীয় আইন রয়েছে যা রাজ্যে বলবৎ করার ক্ষেত্রে অসুবিধা রয়েছে৷ এই অর্ডিন্যাস্টটি আনার ফলে কিছু কিছু ক্ষেত্রে আধার বাধ্যতামূলক করা হবে৷ তবে কোন কোন বিষয়ে আধার বাধ্যতামূলক হবে সে বিষয় কোন সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি৷
অপর অর্ডিন্যাস্টটি হল সেস সংক্রান্ত৷ এই অর্ডিন্যাস্টটি কার্যকরী হলে পহিবহণ জ্বালানী পেট্রোল, ডিজেল এবং সি ছএন জি এর ক্ষেত্রে ২ শতাংশ সেস নেওয়া হবে৷ পরিবহণ ক্ষেত্রে বিশেষ করে রাস্তার উন্নয়নে এই টাকা ব্যয় করা হবে৷
শিক্ষামন্ত্রী জানান, সম্প্রতি টিচার রিক্রুটম্যান্ট বোর্ডের মাধ্যমে ১০৯২ জন গ্র্যাজুয়েট টিচার নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে৷ এর মধ্যে আট জন বয়স উত্তীর্ণ শিক্ষককেও নিয়োগের জন্য শর্তসাপেক্ষে সুপারিশ করা হয়েছে৷ যারা বর্তমানে এড্হক ভিত্তিতে শিক্ষা দপ্তরের কর্মরত রয়েছেন, রাজ্য মন্ত্রিশভা এই আটজনকে বয়সের ক্ষেত্রে শিথিলতার সুযোগ দিয়ে গ্র্যাজুয়েট শিক্ষক পদে নিয়োগের অনুমোদন দিয়েছে৷
2018-07-27
