আগরতলা, ২০ আগস্ট: রাজ্যের বিভিন্ন দপ্তরে জনবল বৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক পরিষেবা আরও শক্তিশালী করতে বড়সড় সিদ্ধান্ত নিল ত্রিপুরা মন্ত্রিসভা। আজ মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ড.) মানিক সাহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে মোট ৩০৫টি নতুন পদ সৃষ্টির পাশাপাশি ১,১৭৭ জন কর্মী নিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকের পর সচিবালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে মন্ত্রিসভার মুখপাত্র তথা পরিবহণমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, স্বরাষ্ট্র দপ্তরের অধীনে ত্রিপুরা পুলিশে পুরুষ ও মহিলা মিলিয়ে ৯১৬ জন কনস্টেবল সরাসরি নিয়োগ করা হবে। প্রচলিত নিয়োগ প্রক্রিয়া অনুযায়ী শারীরিক সক্ষমতা পরীক্ষা, লিখিত পরীক্ষা এবং মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে প্রার্থী বাছাই করা হবে। নিয়োগ বোর্ডের নেতৃত্বে থাকবেন রাজ্য পুলিশের মহাপরিচালক।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের অধীনে ২১৯টি লোয়ার ডিভিশন ক্লার্ক পদে নিয়োগ করা হবে। এই নিয়োগ ত্রিপুরা জয়েন্ট রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। এছাড়াও সাধারণ প্রশাসন (প্রিন্টিং অ্যান্ড স্টেশনারি) দপ্তরের অধীনে ২৭টি গ্রুপ-সি কারিগরি পদে নিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই পদগুলির মধ্যে রয়েছে চার্জম্যান, চার্জম্যান রিটাচিং, চার্জম্যান অফসেট মেশিন, কপি হোল্ডার, ককবরক কপি হোল্ডার, মেশিন ম্যান এবং বাইন্ডার।
অন্যদিকে, বিশ্রামগঞ্জ, উদয়পুর, বিলোনিয়া ও সাব্রুমে প্রস্তাবিত চারটি নতুন সরকারি রেলওয়ে পুলিশ থানার জন্য ১০৫টি নতুন পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সাব-ইন্সপেক্টর, মহিলা সাব-ইন্সপেক্টর, অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইন্সপেক্টর, মহিলা হেড কনস্টেবল, মহিলা কনস্টেবল এবং কনস্টেবল ড্রাইভারের পদ।
জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের অধীনে আরও ১৫টি ফিক্সড-পে পদ জিআরবিটি-এর মাধ্যমে পূরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে এলডিসি এবং মাল্টি-টাস্কিং স্টাফ পদ রয়েছে।
এদিকে, উচ্চশিক্ষা দপ্তরের অধীনে রাজ্যের সরকারি জেনারেল ডিগ্রি কলেজগুলির জন্য ২০০টি অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর পদ সৃষ্টির অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। তবে মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী স্পষ্ট করেছেন, এটি পদ সৃষ্টির সিদ্ধান্ত, অবিলম্বে ওই পদগুলিতে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নয়।
মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘শ্রী শ্রী ইউনিভার্সিটি, ত্রিপুরা বিল, ২০২৬’-এও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ে সার্টিফিকেট, ডিপ্লোমা, পোস্টগ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা, স্নাতক, স্নাতকোত্তর, এমফিল, পিএইচডি, পোস্ট-ডক্টরাল এবং ডি.লিট ও ডি.এসসি-র মতো সম্মানসূচক ডিগ্রি চালুর সুযোগ থাকবে। বিজ্ঞান, ইঞ্জিনিয়ারিং ও প্রযুক্তি, স্থাপত্য ও পরিকল্পনা, সমাজবিজ্ঞান ও মানবিক বিদ্যা, বাণিজ্য ও ব্যবস্থাপনা, আয়ুষ, যোগ ও ন্যাচারোপ্যাথি এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে শিক্ষাক্রম চালুর সুযোগ থাকবে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে।
মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী বলেন, পুলিশে ৯১৬ জন কনস্টেবল নিয়োগ এবং চারটি নতুন জিআরপি থানার জন্য পদ সৃষ্টির মতো সিদ্ধান্তগুলি রাজ্যে জনবল বৃদ্ধি, আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ এবং সাধারণ মানুষের পরিষেবা আরও কার্যকর করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।



















