গুয়াহাটি, ২০ আগস্ট (আইএএনএস): রাজ্যে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের তৃতীয় টানা মেয়াদের ১০০ দিন পূর্ণ হওয়ায় উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি আরও দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। বৃহস্পতিবার সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে তিনি ‘বিকশিত অসম’ গড়ার লক্ষ্যের কথা তুলে ধরে জানান, এই ১০০ দিন পূর্ণ হওয়া সরকারের মানুষের প্রতি আন্তরিকভাবে কাজ করার অঙ্গীকার এবং উন্নয়ন ও জনকল্যাণে নতুন মাইলফলক তৈরির সংকল্প আরও একবার মনে করিয়ে দেওয়ার উপলক্ষ।
বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট ২০২৬ সালের অসম বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল জনাদেশ নিয়ে টানা তৃতীয়বার ক্ষমতায় ফেরার কয়েক মাস পর এই ১০০ দিন পূর্ণ হল। হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নেতৃত্বে এই নির্বাচনী জয় অসমে বিজেপির রাজনৈতিক ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করেছে।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ৯০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৮২টি আসনে জয় পায়। ১২৬ সদস্যের বিধানসভায় এই প্রথম এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতার গণ্ডি পেরোয় বিজেপি। জোটসঙ্গী অসম গণ পরিষদ (এজিপি) এবং বডোল্যান্ড পিপলস ফ্রন্ট (বিপিএফ) ১০টি করে আসনে জয় পায়। ফলে এনডিএ-এর মোট আসনসংখ্যা দাঁড়ায় ১০২।
অন্যদিকে ১৯টি আসন নিয়ে কংগ্রেস প্রধান বিরোধী দল হিসেবে উঠে আসে। রাজ্য কংগ্রেস সভাপতি গৌরব গগৈয়ের নেতৃত্বে দল নির্বাচনে লড়াই করলেও তিনি জোরহাট আসনে পরাজিত হন।
নির্বাচনে ভোটদানের হারও ছিল উল্লেখযোগ্য—৮৫.৯৬ শতাংশ। অসমজুড়ে ভোটারদের উচ্চ অংশগ্রহণ নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় মানুষের সক্রিয় উপস্থিতির বিষয়টি তুলে ধরে। হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জলুকবাড়ি কেন্দ্র থেকে বড় ব্যবধানে জয়ী হয়ে ১২ মে টানা দ্বিতীয়বার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। এর মধ্য দিয়ে অসমে এনডিএ সরকারের তৃতীয় মেয়াদের সূচনা হয়।
সরকারের ১০০ দিনের কর্মসূচির মূল বক্তব্যে উন্নয়ন, পরিকাঠামো, জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের বাস্তবায়ন এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বারবার উন্নয়ন এবং জনকল্যাণ—এই দুই লক্ষ্যকে সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেছেন।
নির্বাচনে বিজেপির ঐতিহাসিক একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার রাজনৈতিক অবস্থানও আরও শক্তিশালী করেছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারের হাতে আরও বিস্তৃত জনাদেশ রয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
এনডিএ সরকারের পরবর্তী পর্যায়ে অসমে পরিকাঠামো উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, প্রশাসনিক পরিষেবা এবং জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুফল মানুষের কাছে আরও দৃশ্যমান করে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে।
নিজের সামাজিক মাধ্যমের পোস্টের শেষে ‘জয় আই অসম’ লিখে অসমকে আরও উন্নত ও সমৃদ্ধ রাজ্যে পরিণত করার সরকারের ঘোষিত লক্ষ্যের কথাই পুনরায় তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী।
________



















