কলকাতা, ২০ আগস্ট (আইএএনএস): মধ্য কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটে একটি হোটেল ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মৃত ৯ জনের পরিচয় বৃহস্পতিবার প্রকাশ করল কলকাতা পুলিশ। নিহতদের মধ্যে ৭ জন বাংলাদেশের নাগরিক, একজন ঝাড়খণ্ডের গিরিডির বাসিন্দা এবং অন্যজন উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং জেলার শিলিগুড়ির বাসিন্দা।
কলকাতা পুলিশের তরফে প্রকাশিত বিবৃতিতে নিহত সাত বাংলাদেশি নাগরিকের পাসপোর্ট নম্বরও জানানো হয়েছে। মৃত ৯ জনের মধ্যে ছয়জন পুরুষ, দু’জন মহিলা এবং একজন শিশু রয়েছে।
নিহত সাত বাংলাদেশির মধ্যে চারজন একই পরিবারের সদস্য। তাঁরা হলেন দেবাশিস দত্ত (৩৯), তাঁর স্ত্রী আফসানা শিরমিন (২৭), তাঁদের শিশুপুত্র স্বর্ণাশিস দত্ত এবং আফসানার বাবা মহম্মদ আকরাম আলি (৭৪)। আকরামের চিকিৎসার জন্য তাঁরা কলকাতায় এসেছিলেন। তাঁদের বাড়ি বাংলাদেশের কুষ্টিয়া জেলায়। দেবাশিস পেশায় সাংবাদিক ছিলেন।
পঞ্চম বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন ঢাকার বাসিন্দা ৩৭ বছরের বাবু আহমেদ। বাকি দু’জন হলেন রেবতী সরকার এবং এম. আলিমুজ্জামান। দু’জনেরই বাড়ি বাংলাদেশের কালীগঞ্জে। কলকাতা পুলিশ তাঁদের বয়স জানায়নি।
এছাড়া নিহতদের মধ্যে ১৯ বছরের সন্দীপ পাসওয়ানও রয়েছেন। তিনি ওই ভবনের একাধিক হোটেলের মধ্যে একটি হোটেলের কর্মী ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁর মূল বাড়ি ঝাড়খণ্ডের গিরিডিতে। নবম মৃত ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন ৬৮ বছরের যোগ নারায়ণ আগরওয়াল, যিনি দার্জিলিং জেলার শিলিগুড়ির বাসিন্দা।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, আগুনে পুড়ে নয়, মূলত ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়েই তাঁদের মৃত্যু হয়েছে। ভবনের তৃতীয় তলায় একটি হোটেলে আগুন লাগলেও আগুনের তীব্রতা খুব বেশি ছিল না বলে তদন্তে প্রাথমিকভাবে উঠে এসেছে। তবে ভবনে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল এবং জরুরি অবস্থায় দ্রুত বেরিয়ে আসার উপযুক্ত ব্যবস্থা না থাকায় ঘন কালো ধোঁয়া পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলেই নয়জনের মৃত্যু হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
ঘটনার পর মির্জা গালিব স্ট্রিট এলাকার সমস্ত হোটেল, লজ এবং গেস্টহাউসের বিস্তারিত বিশেষ অডিট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। অগ্নিনিরাপত্তা ও জরুরি পরিস্থিতিতে নিরাপদে বেরিয়ে আসার ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনাটি যে এলাকার নিউ মার্কেট থানার আওতাধীন, সেই থানায় ইতিমধ্যেই স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্য দমকল দফতরের পক্ষ থেকেও পৃথক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
–আইএএনএস
এসআরসি/ডিপিবি
























