গুয়াহাটি, ২০ আগস্ট (আইএএনএস): নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা, জীবিকা ও স্বাস্থ্য পরিষেবার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে অসম সরকার একাধিক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে বলে বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। এনডিএ ৩.০-এর প্রথম ১০০ দিনের কর্মসূচির অগ্রগতি তুলে ধরে তিনি বলেন, নারীদের নেতৃত্বে একটি নতুন অসম গড়ে তোলাই এই উদ্যোগগুলির অন্যতম লক্ষ্য।
সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের অগ্রগতি তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নারীদের স্বনির্ভর করে তুলতে একাধিক কর্মসূচি আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। পাশাপাশি মেয়েদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধায় আরও ভালো প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
‘লখিমী মিস্ত্রি’ উদ্যোগের আওতায় ৬,৮৭৫-এরও বেশি মহিলা বর্তমানে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা-গ্রামীণ-এর অধীনে তাঁদের প্রশিক্ষিত ও স্বীকৃত গ্রামীণ রাজমিস্ত্রি হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে মহিলাদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং স্থায়ী জীবিকার সুযোগ তৈরির পাশাপাশি গ্রামীণ নির্মাণকাজে তাঁদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
‘স্বনির্ভর নারী’ প্রকল্পের আওতায় ১,০৫১ জনের বেশি তাঁতি এবং ৬০ জন মহিলা উদ্যোক্তাকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের অধীনে ৪৮,৩৩৮টি মানসম্মত পণ্য সংগ্রহ করা হয়েছে এবং নারীদের নেতৃত্বাধীন জীবিকা আরও শক্তিশালী করতে ১.৩৩ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
শিক্ষার প্রসার এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ‘নিজুত মইনা’ প্রকল্পের আওতায় ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে প্রায় ৫.১৬ লক্ষ ছাত্রী উপকৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। মেয়েদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে লড়াইকে আরও শক্তিশালী করার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার বলে মনে করছে রাজ্য সরকার।
প্রধানমন্ত্রী মাতৃ বন্দনা যোজনা (পিএমএমভিওয়াই)-এর আওতায় মাতৃত্বকালীন সময়ে মহিলাদের সরাসরি আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত ৭৮,৪৯০ জন যোগ্য উপভোক্তার নাম নথিভুক্ত হয়েছে। ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (ডিবিটি)-এর মাধ্যমে ২৩.২৬ কোটি টাকা তাঁদের অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী মাতৃ ও কিশোরীদের স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রেও অসমের অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন। অসমে মাতৃমৃত্যুর হার (এমএমআর) কমে ৮৪-তে দাঁড়িয়েছে, যা জাতীয় গড় ৮৭-এর থেকেও কম। রাজ্যের দাবি, এই প্রথম অসমের এমএমআর জাতীয় গড়ের নিচে নেমেছে। পাশাপাশি ২.৯৪ লক্ষ কিশোরীকে টিকাকরণের আওতায় আনা হয়েছে, যা তরুণীদের প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্য পরিষেবা আরও শক্তিশালী করতে সাহায্য করছে।
রাজ্য সরকারের মতে, এই উদ্যোগগুলির মাধ্যমে নারীদের মূলধন, শিক্ষা, দক্ষতা, জীবিকা ও স্বাস্থ্য পরিষেবায় প্রবেশাধিকার বাড়ানোর পাশাপাশি মা ও কিশোরীদের জন্য আরও শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে।
______



















