গোয়া, কর্নাটক, নাগাল্যান্ড ও ত্রিপুরার ৫ বিধানসভা উপনির্বাচনের প্রার্থী ঘোষণা বিজেপির

নয়াদিল্লি, ১৯ মার্চ: গোয়া, কর্নাটক, নাগাল্যান্ড ও ত্রিপুরার আসন্ন ৫টি বিধানসভা উপনির্বাচনের জন্য প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করল বিজেপি। বৃহস্পতিবার দলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি এই প্রার্থীদের চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়।

দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার নয়াদিল্লিতে বিজেপির সদর দফতরে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-সহ কমিটির অন্যান্য সদস্যরা। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দলের জ্যেষ্ঠ নেতা নিতিন নবীন।

বিস্তারিত আলোচনার পর চার রাজ্যের ৫টি আসনের জন্য প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত করা হয়।

গোয়ায় ২১-ফোঁডা কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করা হয়েছে রিতেশ রবি নায়েক-কে। স্থানীয় স্তরে পরিচিত মুখ হিসেবে তিনি ওই অঞ্চলে দলের অবস্থান আরও শক্ত করতে পারেন বলে বিজেপির আশা।

নাগাল্যান্ডে ২৮-কোরিডাং (এসটি) আসনে প্রার্থী করা হয়েছে দাওচিয়ের আই. ইমচেন-কে। উত্তর-পূর্বের এই রাজ্যে তফসিলি উপজাতি ভোটারদের মধ্যে দলের প্রভাব বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত বলে দলীয় প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

কর্নাটকে দুটি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিজেপি। ২৪-বাগালকোট কেন্দ্র থেকে বীরভদ্রাইয়া চরন্টিমঠ এবং ১০৭-দাভানাগেরে সাউথ কেন্দ্র থেকে শ্রীনিবাস টি. দাসাকারিয়াপ্পা-কে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। উত্তর কর্নাটকে দলের প্রভাব অটুট রাখতে দুই প্রার্থীকেই অভিজ্ঞ ও গ্রহণযোগ্য মুখ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ত্রিপুরায় ৫৬-ধর্মনগর আসনে বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন জহর চক্রবর্তী। রাজ্যে দীর্ঘদিনের সংগঠনগত উপস্থিতি ধরে রাখতে এবং শক্তি আরও বাড়াতে এই নির্বাচনকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে দল।

দলীয় সূত্রের দাবি, রাজ্য ইউনিটের মতামত, সাংগঠনিক শক্তি এবং স্থানীয় পরিস্থিতির রিপোর্ট খতিয়ে দেখেই প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রার্থীদের অবিলম্বে প্রচারে নেমে স্থানীয় উন্নয়ন, পরিকাঠামো এবং জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলিকে প্রচারের মূল ইস্যু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিজেপির এই প্রার্থী ঘোষণা বিরোধীদের সম্ভাব্য রণকৌশলের মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতির ইঙ্গিত বলেই রাজনৈতিক মহলে মনে করা হচ্ছে। একাধিক রাজ্যে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনকে সামনে রেখে এই উপনির্বাচনগুলিকে দলের সাংগঠনিক প্রস্তুতি ও জনসমর্থনের পরীক্ষাক্ষেত্র হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

Leave a Reply