প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে লন্ডভন্ড কদমতলা ব্লকের একাধিক গ্রাম, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, সরকারি সাহায্যের আশ্বাস

ধর্মনগর, ১৬ মার্চ: চৈত্রের প্রথম দিনেই অকাল কালবৈশাখীর মতো প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে গেল উত্তর জেলার ধর্মনগর মহকুমার কদমতলা ব্লকের একাধিক গ্রাম। ঝড়ের তাণ্ডবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছেন বহু পরিবার। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলি পরিদর্শনে ইতিমধ্যেই পৌঁছেছেন প্রশাসনিক কর্তাব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধিরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার দিনভর মাঝারি বৃষ্টিপাতের পর রাত প্রায় বারোটা নাগাদ হঠাৎ করে শুরু হয় প্রবল ঝড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টি। মাত্র কয়েক মিনিটের তাণ্ডবেই বহু বাড়িঘরের টিনের চাল উড়ে যায়, ভেঙে পড়ে বড় বড় গাছ এবং বিদ্যুতের খুঁটি। ফলে বিদ্যুৎ পরিষেবাও ব্যাহত হয় বেশ কিছু এলাকায়।

সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে চুরাইবাড়ি, ফুলবাড়ী, পূর্ব ফুলবাড়ী, পূর্ব চুরাইবাড়ি এবং উত্তর ফুলবাড়ী পঞ্চায়েত এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডে। চুরাইবাড়ি বাজার এলাকাতেও ঝড়ের প্রভাব পড়ে। বাজারের একাধিক দোকান ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের টিনের চাল উড়ে যায় এবং অনেক স্থানে বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ে।

পূর্ব ফুলবাড়ি পঞ্চায়েতের ১ নম্বর ওয়ার্ডে সুজিত দত্ত, মিন্টু দত্ত, ময়না মিয়া, বিশ্বজিৎ দত্ত এবং প্রশান্ত দাসের বাড়িতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের তীব্রতায় তাদের ঘরের টিনের চাল উড়ে গিয়ে গাছের ওপর ঝুলে থাকতে দেখা যায়। এছাড়া চুরাইবাড়ি পঞ্চায়েতের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সুরুচি গিরির বাড়িতেও বড় বড় গাছ উপড়ে পড়ে এবং ঘরের অংশ বিশেষ ভেঙে যায়।

হঠাৎ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এলাকাজুড়ে আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের অনেকেই জানিয়েছেন, এত তীব্র ঝড় তারা এর আগে কখনও প্রত্যক্ষ করেননি।

এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে সোমবার সকাল থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলি পরিদর্শনে যান কদমতলা ব্লকের চেয়ারম্যান মিহির রঞ্জন নাথ, পঞ্চায়েত প্রধান ও উপপ্রধানরা। তাদের সঙ্গে ছিলেন সমিতির সদস্য হাসিম তালুকদার, ব্লকের দুই ইঞ্জিনিয়ার, স্থানীয় তহশিলদার এবং উত্তর জেলার বেসামরিক প্রতিরক্ষা স্বেচ্ছাসেবকরা। পরিদর্শনে প্রশাসনিক দলকে সহযোগিতা করেন স্থানীয় শাসকদলীয় নেতা উস্তার আলী ও সিদ্ধার্থ সিংহ।

প্রশাসনিক কর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের নাম ও ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেন। ব্লক চেয়ারম্যান মিহির রঞ্জন নাথ জানান, যেসব পরিবারের রান্নাঘর ভেঙে পড়েছে তাদের দ্রুত শুকনো খাবার সরবরাহ করা হবে। পাশাপাশি যাদের বাড়িঘর ও গাছপালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের সরকারি নিয়ম অনুযায়ী আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।

এদিকে, ঝড়ের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও উদ্ধারকাজে হাত লাগিয়েছেন।

Leave a Reply