কৈলাসহরে দুঃসাহসিক চুরি, শহরে চাঞ্চল্য

কৈলাসহর, ১৬ মার্চ: শহরের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে কৈলাসহরে। আজ সকালে পুর পরিষদের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের দুর্গাপুর এলাকায় একটি বাড়িতে গ্রীল ভেঙে ঢুকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার সহ মূল্যবান সামগ্রী চুরি করে নিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, দুর্গাপুর এলাকার বাসিন্দা প্রশান্ত কর চৌধুরী বর্তমানে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আসামের শিলচরে এক আত্মীয়ের বিয়েতে গেছেন। তার দ্বিতল বাড়ির উপরের তলায় একটি বেসরকারি সংস্থার কয়েকজন কর্মী ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকেন। তারা দিনের বেলায় কাজে বেরিয়ে গেলেও রাতে বাড়িতে থাকেন বলে জানা যায়।

প্রশান্ত কর চৌধুরীর বাড়িতে একটি স্থায়ী মহাদেব মন্দির রয়েছে। বাড়ির মালিক অনুপস্থিত থাকায় প্রতিদিনের মতো সোমবার সকাল প্রায় ৯টা নাগাদ পাশের বাড়ির বাসিন্দা সবিতা দত্ত মন্দিরে পূজা দিতে এসে দেখেন বাড়ির বারান্দার লোহার গ্রীলের তালা ভাঙা এবং ঘরের দরজা খোলা। সঙ্গে সঙ্গে তিনি চিৎকার করলে এলাকাবাসীরা ছুটে আসেন এবং পরে খবর দেওয়া হয় কৈলাসহর থানায়।

খবর পেয়ে পুলিশ অফিসার মুজ্জামেল হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ ও টিএসআর বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। প্রাথমিক তদন্তে দেখা যায়, বাড়ির ভিতরে থাকা পাঁচটি গডরেজ আলমারি সহ কাঠের আলমারি এবং টেবিলের ড্রয়ার ভেঙে তছনছ করে রাখা হয়েছে।

এদিকে বাড়ির ভাড়াটিয়া অজিত নুনিয়াকে নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসীরা। অভিযোগ, তিনি গতরাতে বাড়িতে ছিলেন না এবং বাড়ি তালাবন্ধ করে যাওয়ার সময় চাবি পাশের বাড়ির সবিতা দত্তের কাছে রাখার কথা থাকলেও তা না করে নিজের কাছেই রেখে যান। ফলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

পাশের বাড়ির বাসিন্দা সবিতা দত্ত জানান, রবিবার রাত প্রায় ১০টা পর্যন্ত সবকিছু স্বাভাবিক ছিল। অনুমান করা হচ্ছে গভীর রাতেই চুরির ঘটনা ঘটেছে। এমনকি চোরেরা বাড়ির প্রতিটি ঘর তল্লাশি করেছে এবং কিছু সময় বাড়ির উপরের তলায় অবস্থানও করেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে কয়েক ঘণ্টা সময় নিয়ে চোরেরা এই চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে।

ঘটনার পর শহরে রাত্রিকালীন পুলিশি টহল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

Leave a Reply