কলকাতা, ১৩ মার্চ : মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) বকেয়া পরিশোধের দাবিতে শুক্রবার সর্বাত্মক কর্মবিরতির ডাক দিল পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন সরকারি কর্মচারী সংগঠন। একাধিক সংগঠনকে নিয়ে গঠিত যৌথ মঞ্চ সংগ্রামী যৌথো মঞ্চ এই কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে।
যৌথ মঞ্চের অভিযোগ, ডিএ বকেয়া পরিশোধের বিষয়ে রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মানতে গড়িমসি করছে। গত মাসে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয় যে ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত জমে থাকা ডিএ বকেয়ার ২৫ শতাংশ আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। পাশাপাশি ধাপে ধাপে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ডিএ দেওয়ার দিকেও অগ্রসর হওয়ার কথা বলা হয়।
যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ বলেন, “এখনও পর্যন্ত রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ৩১ মার্চের মধ্যে ২৫ শতাংশ ডিএ বকেয়া দেওয়ার বিষয়ে কোনও উদ্যোগ দেখা যায়নি। বরং রাজ্য সরকার আবার সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে এই অর্থ পরিশোধের জন্য চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় চেয়েছে। তাই আজ সর্বাত্মক কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
তিনি জানান, এই কর্মবিরতিতে শুধু রাজ্য সরকারি কর্মচারীরাই নন, রাজ্য পরিচালিত ও রাজ্য সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা, বিভিন্ন স্বশাসিত সংস্থা যেমন পুরসভা, পৌরসভা ও পঞ্চায়েতের কর্মী, এমনকি বিভিন্ন রাজ্য সরকারি সংস্থার কর্মীরাও অংশ নেবেন।
ভাস্কর ঘোষের দাবি, গত দেড় দশকে এমন বৃহৎ কর্মবিরতি দেখা যায়নি।
অন্যদিকে কর্মবিরতি ভেস্তে দিতে তৎপর রাজ্য সরকার। এদিন কর্মীদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করে ইতিমধ্যেই বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে সরকার। পাশাপাশি শুক্রবার কোনও কর্মীকে ক্যাজুয়াল লিভ বা অন্য কোনও ছুটি দেওয়া হবে না বলেও জানানো হয়েছে।
তবে হাসপাতালে ভর্তি থাকা, পরিবারে মৃত্যু, গুরুতর অসুস্থতা বা আগে থেকে অনুমোদিত শিশু যত্ন, মাতৃত্বকালীন, চিকিৎসা বা অর্জিত ছুটির ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম থাকবে বলে জানিয়েছে রাজ্য সরকার।
সরকার আরও স্পষ্ট করে দিয়েছে, অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলে সেই দিনকে ‘ডাইস-নন’ হিসেবে গণ্য করা হবে এবং ওই দিনের বেতন দেওয়া হবে না। শোকজ নোটিসের জবাব না দিলে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

