ভারতে শত্রু সম্পত্তির সংখ্যায় তৃতীয় স্থানে ত্রিপুরা : সিইপিআই

সন্দীপ বিশ্বাস

লখনউ সফররত, ৭ মার্চ: ভারতে চিহ্নিত অস্থাবর শত্রু সম্পত্তির সংখ্যার নিরিখে ত্রিপুরা তৃতীয় স্থানে রয়েছে। এই তালিকায় প্রথম স্থানে রয়েছে উত্তরপ্রদেশ এবং দ্বিতীয় স্থানে পশ্চিমবঙ্গ।

লখনউয়ে ত্রিপুরা থেকে আগত এক সাংবাদিক প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এই তথ্য জানান ‘কাস্টডিয়ান অব এনেমি প্রপার্টি ফর ইন্ডিয়া’ (সিইপিআই)-র চিফ সুপারভাইজার জসপাল সিং।

তিনি জানান, বর্তমানে ভারতে মোট প্রায় ১৩,২৪৭টি অস্থাবর শত্রু সম্পত্তি নথিভুক্ত রয়েছে। এই সম্পত্তিগুলি বর্তমানে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে রয়েছে।

সিং জানান, শত্রু সম্পত্তির মধ্যে স্থাবর ও অস্থাবর দুই ধরনের সম্পদই অন্তর্ভুক্ত থাকে। এর মধ্যে জমি, বাড়ি, কোম্পানির শেয়ার, গয়না এবং ব্যাংকে জমা অর্থও থাকতে পারে।

এই ধরনের সম্পত্তি মূলত সেইসব ব্যক্তি বা সংস্থার ছিল, যারা ১৯৬৫ ও ১৯৭১ সালের যুদ্ধের পর পাকিস্তানে কিংবা ১৯৬২ সালের সংঘাতের পর চীনে চলে গিয়ে পরবর্তীতে সেসব দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন।

১৯৬৮ সালের ‘শত্রু সম্পত্তি আইন’-এর আওতায় এই সম্পত্তিগুলিকে পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবে ধরা হয় না। বরং এগুলি ‘কাস্টডিয়ান অব এনেমি প্রপার্টি ফর ইন্ডিয়া’-র অধীনে ন্যস্ত থাকে।

সিংয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উত্তরপ্রদেশে সর্বাধিক ৫,২৭১টি অস্থাবর শত্রু সম্পত্তি রয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা পশ্চিমবঙ্গে রয়েছে ৪,৪৩৭টি।

ত্রিপুরায় মোট ১,০০২টি শত্রু সম্পত্তি রয়েছে, যার ফলে রাজ্যটি জাতীয় স্তরে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। ত্রিপুরার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩৯৬টি সম্পত্তি রয়েছে সিপাহিজলা জেলায়। এরপর পশ্চিম ত্রিপুরা জেলায় ২৯৫টি এবং খোয়াই জেলায় ১৪৬টি শত্রু সম্পত্তি রয়েছে।

অধিকারিকরা জানান, কোনও সম্পত্তিকে শত্রু সম্পত্তি হিসেবে চিহ্নিত করার প্রধান উদ্দেশ্য হল তা যাতে শত্রুভাবাপন্ন দেশ বা তাদের নাগরিকদের স্বার্থে ব্যবহার না হতে পারে।

২০১৭ সালে আইনে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী আনা হয়, যার ফলে মূল মালিকের মৃত্যুর পরেও সম্পত্তির ‘শত্রু’ মর্যাদা বহাল থাকে, বলেন তিনি।

এই সংশোধনী অনুযায়ী, এমনকি উত্তরাধিকারীরা ভারতীয় নাগরিক হলেও তারা ওই সম্পত্তির মালিকানা দাবি করতে পারেন না। ফলে এই ধরনের সম্পত্তির উপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকে, জসপাল সাথে যোগ করেছেন।

উল্লেখ্য, এই মতবিনিময় সভাটি অনুষ্ঠিত হয় লখনউয়ের বাটলার প্যালেসে, যা নিজেই একটি শত্রু সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত। আগরতলার প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরোর উদ্যোগে আয়োজিত একটি প্রেস ট্যুরের অংশ হিসেবে ত্রিপুরার সাংবাদিকরা বর্তমানে লখনউ সফরে রয়েছেন।

Leave a Reply