নয়াদিল্লি, ২১ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস) : নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত এআই সামিটে ভারতীয় যুব কংগ্রেসের ‘শার্টলেস’ বিক্ষোভকে জাতির বিরুদ্ধে “অপরাধ” ও “পাপ” বলে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন কেন্দ্রীয় সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। তিনি বলেন, এটি তরুণদের একটি সাধারণ “ভুল” নয়।
সাংবাদিক বৈঠকে রিজিজু অভিযোগ করেন, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেস দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার সুযোগ খোঁজেন এবং যুব কংগ্রেস কর্মীদের এমন লজ্জাজনক বিক্ষোভে উৎসাহিত করেছেন।
মন্ত্রী বলেন, “দেশ আশা করেছিল কংগ্রেস ক্ষমা চাইবে। কিন্তু তারা উল্টে এই বিক্ষোভকে যুবসমাজের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ বলে সাফাই দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য যুবকদের ক্ষোভকে ব্যবহার করার চেয়ে লজ্জাজনক আর কিছু হতে পারে না।”
তিনি আরও বলেন, জাতীয় স্বার্থে যে কোনও উদ্যোগকে ক্ষুদ্র রাজনৈতিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে রাখা উচিত। রাষ্ট্রসংঘসহ আন্তর্জাতিক মঞ্চে যখন দেশ প্রতিনিধিত্ব করে, তখন গোটা দেশ এক সত্তা হিসেবে দাঁড়ায়।
রাহুল গান্ধীকে নিশানা করে রিজিজু দাবি করেন, দেশের অগ্রগতি—বিশেষ করে ডিজিটাল ক্ষেত্রে উন্নয়ন—কংগ্রেস কখনও স্বীকার করে না। “দেশ এগোলে তারা দুঃখ পায়। রাহুল গান্ধী ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকায় গিয়ে দেশের বদনাম করেন,” অভিযোগ তাঁর।
রিজিজু আরও বলেন, “রাহুল গান্ধীর ভঙ্গি ক্রমশ বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। এই মনোভাবই যুব কংগ্রেস কর্মীদের সামিটে লজ্জাজনক বিক্ষোভে অনুপ্রাণিত করেছে।”
তিনি দাবি করেন, ভারতীয় জনতা পার্টি দীর্ঘ ৬০ বছর বিরোধীতে থেকেও কখনও দেশবিরোধী মন্তব্য করেনি বা দেশের স্বার্থবিরোধী কোনও কাজ করেনি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-ও মন্ত্রীসভা ও দলীয় বৈঠকে সবসময় সতর্ক করেন, যাতে কোনও কর্মকাণ্ড দেশের ক্ষতি না করে।
অন্যদিকে, চার যুব কংগ্রেস কর্মীকে শুক্রবারের বিক্ষোভের ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কংগ্রেস নেতা গুরদীপ সিং সাপ্পাল অবশ্য বিক্ষোভকারীদের সমর্থন করে বলেন, “তারা তরুণ, আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিল। নিজেদের ভবিষ্যৎ ও কর্মসংস্থান ধ্বংসের আশঙ্কা থেকেই এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।” তিনি এই বিক্ষোভকে কথিতভাবে ‘অসুবিধাজনক’ ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তির সঙ্গে যুক্ত করেন।

